সাজিদের ভাই রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে কোনো তথ্য পায়নি র‌্যাব

বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৪

কাগজ প্রতিবেদক : ভারতের বর্ধমানে বোমা হামলায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশী জঙ্গি সাজিদ ওরফে মাসুমের বড়ভাই মোনায়েমের কাছ থেকে কোনো তথ্য পায়নি র‌্যাব। টানা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মোনায়েম হোসেন ওরফে মনাকে নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। বন্দর থানা পুলিশ তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল বুধবার গ্রিল মিস্ত্রি মনাকে আদালতে পাঠিয়েছেন। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। র‌্যাব-১১ এর কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ৫৪ ধারায় আটকের মামলা দিয়ে গতকাল বুধবার ভোরে তাকে বন্দর থানায় সোপর্দ করে। এরপর মনাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের হেফাজতে চেয়ে নারায়ণগঞ্জের আদালতে পাঠায় পুলিশ। শুনানি শেষে হাকিম কে এম মহিউদ্দিন দুদিনের রিমান্ডের নির্দেশ দেন।

বন্দর থানার ওসি নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, মনার জঙ্গি সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা কিংবা ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া ভাইয়ের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেছেন, তাদের ধারণা, ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজন সাজিদই নারায়ণগঞ্জের বন্দরের ফরাজীকান্দা এলাকার মাসুম মিয়া। মোনায়েম ওরফে মনা তার ভাই।

এদিকে বন্দর থানায় মনা সাংবাদিকদের বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমি ওয়ার্কশপে কাজ করে খাই। আমার ছোট ভাই মাসুমের সঙ্গে গত ১০ বছর যাবত কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি জানান, তাকে র‌্যাব মাসুম সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তবে ভারতে গ্রেপ্তার সাজিদের কোনো ছবি অথবা ভিডিও দেখায়নি।

প্রসঙ্গত, বর্ধমানে সন্দেহজনক একটি বাড়িতে গত ২ অক্টোবর বিস্ফোরণের পর ভারতের গোয়েন্দারা এতে সাজিদের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়ে বলে, এই ব্যক্তি বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের ফরাজীকান্দার বাসিন্দা এবং জেএমবি নেতা।

স্থানীয় সূত্র মতে, সাজিদের সঙ্গে তার পরিবারের দীর্ঘদিন কোনো যোগাযোগ নেই। এমনকি জঙ্গি কানেকশনের কারণে পিতা তাকে ত্যাজ্যপুত্র করেছেন দুবছর আগে। তার নাম মাসুম। নাম পরিচয় পাল্টে তিনি ভারতে গিয়ে জঙ্গি তৎপরতা চালাচ্ছেন। যাত্রাবাড়ীর একটি মাদ্রাসায় সাজিদ পরিচয়ধারী এই জঙ্গি পড়ালেখা করেছেন। কয়েক বছর আগে জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগে সাজিদ বগুড়ায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। আদালতের মাধ্যমে জামিনে ছাড়া পেয়ে তিনি লাপাত্তা হন।

র‌্যাব মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেছেন, জিজ্ঞাসাবাদে মোনায়েমের কাছ থেকে জঙ্গিসংক্রান্ত কোনো তথ্য মেলেনি। এমনকি সাজিদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণও পাওয়া যায়নি। গত সোমবার আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গতকাল তাকে বন্দর থানায় সোপর্দ করা হয়।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj