টিন সময়

রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০১৪

১৬-১৭ বছর বয়সে নিজেকে বড় ভাবার প্রবণতা বেশ জেঁকে বসে টিনদের মাঝে। অনেকের মাঝে বাড়তি নিজস্বতা প্রকাশের জন্যই তাদের মনোজগৎ রঙ ও স্টাইলিংয়ে বৈচিত্র্য সন্ধানী হয়ে ওঠে। একদিকে ট্রেন্ডের সঙ্গে থাকতে চাওয়া, অন্যদিকে ফ্যাশনে নিজের স্টেটমেন্ট তুলে ধরার চেষ্টা- এই না হলে আজকাল তাদের চলছে না। কেননা এখনকার সেলফি স্মার্ট টিনরা এক্সপেরিমেন্টাল ফ্যাশনে যে বড্ড বেশি আগ্রহী। সালোয়ার-কামিজে অনেক টিনএজার স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। আবার ফ্রকও এ সময় ঠিক মানায় না। ফ্যাশন করতে পছন্দ করে, এমন টিনএজাররা টপস, কাফতান, স্টাইলিশ কুর্তা বেছে নিতে পারে অনায়াসেই। দেখতেও ভালো লাগবে, পরেও আরাম পাবে। টিনএজারদের ফ্যাশন ট্রেন্ড নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন হারবাল সলিউশন ডে স্পা ও বিউটির প্রধান নির্বাহী

শারমিন সুলতানা এবং জেন্টল পার্কের ডিজাইনার শাহাদৎ চৌধুরী বাবু

প্রকাশ ভঙ্গিতে নতুনত্ব

পুরোনো জিনিসের নতুন চেহারা। ফ্যাশনের ধারাবাহিকতায় এ বিষয়টিই হয় সাধারণত। গতানুগতিক স্টাইল স্টেটমেন্টে তাই ফিউশন আনতে টিনরা বেছে নিতে পারে ষাটের দশকের নারীর লুক। কেননা ঐ সময়ে মাথার চুল থেকে শুরু করে পায়ের নখ পর্যন্ত পরিপাটি সাজ ও রুচিশীল পোশাক পরিধান করতে ভালোবাসতো তারা। ফ্যাশনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতো বারবারি, লুইস ভিটন, গুচ্চির মতো নামীদামি ব্র্যান্ডের পণ্য। হালখাতার ফ্যাশন তাদের কাছে যতোটা মুখ্য ছিল ততোটাই মুখ্য ছিল তাদের সাজ। সময়ের স্রোতে বিলীন হয়েছে অনেক কিছু। কিন্তু এখনো টিনরা উন্মুখ হয়ে থাকে ষাট দশকের সাজে। যদি ককটেল ড্রেস, কুর্তি, কামিজ পরতে চায় তবে অনায়াসে মাথায় পরতে পারে হেয়ার ব্যান্ড। নতুবা মাথায় স্কার্ফ জড়ানো যায় হেয়ার ব্যান্ডের মতো করে। পোশাকের রঙের সঙ্গে নখ রাঙাতে পারো। ফেঞ্চ ম্যানিকিউরও চলতে পারে। সঙ্গে কন্ট্রাস্ট ব্যাগ বা জুতা। বটম সিলেকশনে ষাট দশকের লুকে পরা যেতে পারে সাম্প্রতিক সময়ের ইয়ং ট্রেন্ডি প্রিন্টেট পালাজ্জো, থ্রি-কোয়ার্টার বা লেগিংস।

এছাড়াও কয়েক বছর আগের কাটিংয়ের সঙ্গে নতুন কোনো কাটিং যোগ করে তৈরি করে নিতে পারো আরেকটি ফ্যাশনেবল পোশাক। ইদানীংকালের টিনএজারদের পোশাকগুলোয় প্রিন্ট, হাতের কাজ, টাইডাইয়ের বিভিন্ন নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে আছে এসিমেট্রিকাল কাট, বেলুন কাট, কাফতান কাট, পঞ্চ কাট, ওয়েস্ট লাইন এম্পায়ার কাট ইত্যাদি। কখনো বা হালকা অ্যামব্রয়ডারির কাজ প্রাধান্য পেয়েছে গলা ও হাতায়। কাফতানগুলোয় ভিন্নতা আনতে করা হয়েছে টাইডাই। কোনো কোনো কুর্তায় বৈচিত্র্য আনতে বেল্ট ব্যবহার করা হয়েছে। গলার কাছে কিংবা ঠিক মাঝখানটায় সোজা বরাবর অনেক কুচির ব্যবহার এখন লক্ষণীয়। চলতি ট্রেন্ডে বেশির ভাগ কুর্তাই একটু লম্বার দিকে।

চোখের সাজের ক্ষেত্রে একইভাবে সেই পুরোনো ট্রেন্ড অনুসরণ করতে পারে টিনরা। ’৬০ দশকের মতো করে আইলাইনার দিয়ে টেনে চোখকে লম্বা একটি অবয়ব দিতে পারো। এর সঙ্গে চোখে ঘনকালো করে শ্যাডো দিয়ে ধোঁয়াশা ভাব তৈরি করা যাবে সহজেই। এছাড়া দুই চোখে ভিন্ন ভিন্ন রঙ ব্যবহার করেও বর্ণিলতা আনতে পারো চোখে।

ফ্যাশনের চাহিদা ও কৌত‚হল অনেক সময়ই কিশোরী বয়সটিতে নিয়ে আসে দ্ব›দ্ব। তবে সবচেয়ে বড় কথা নিজের স্বাচ্ছন্দ্য ও আরাম। কখনই এমন পোশাক পরা উচিত নয় যা এ বয়সী মেয়েদের মধ্যে জড়তা এনে দেয়। আর যাই হোক, উচ্ছলতার ঈর্ষণীয় সময়ে জড়সড় হয়ে থাকাটা মোটেই কাম্য নয়। সবসময় মনে রাখবে কৈশোর মানেই রঙিন। নিজের রঙে চারদিক রাঙানো।

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj