ডি ফর ডিএসএলআর : এম ফর মডেলিং

রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০১৪

তারা যেমনটি বলছেন…

সাইফুর রহমান

নিবার্হী সম্পাদক, ক্যানভাস

এটিকে আসলে সমস্যা না বলায় ভাল। কারণ সৃজনশীলতা এবং শৃঙ্খলাবোধের ব্যাপার এটা। অনেকে আলোতে আসার জন্য অনেক কিছুই করেন। কেউ জেনে করেন আবার কেউ না জেনে করেন। তবে জেনেশুনে করাটাই ভাল। মডেলিং বা ফটোগ্রাফি যে যেটাই করুক জানার পর করা উচিত। না জেনে করলে হিতে বিপরীত হয়। ভাল করতে গিয়ে খারাপটাই বেশি হয়। আর সেই বেশিটাই এখন চোখে বেশি পরছে। কিন্তু এটা ঠিক হয়ে যাবে, আমরা যারা কাজ করছি, তাদের আরো প্রচেষ্টা দরকার এই বিষয়ে।

ডেভিড বারেকদার

ফটোগ্রাফার

শুধু এই সমস্যা নতুন মডেল আর ফটোগ্রাফারদের নয়। যারা এই ইন্ডাস্ট্রিতে আসছে তাদের অনেকের। তারা না জেনে এই সেক্টরে এসে অনেকের ক্ষতিও করছে। পরক্ষণে কি দেখা যাচ্ছে, তাদের না জানার কারণে তারা টিকতে পারছে না। দেশে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেছে এই বিষয়ে, সেখান থেকেও প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেয়া যেতে পারে। তাতে অন্তত সাধারণ বিষয়গুলো জানা যায়।

আবু নাসের

ফটোগ্রাফার

সৃজনশীল কোনো ব্যাপারের লাইসেন্স বা নিয়ম-নীতি করে, সাফল্য পাওয়া যায় না। আমার সঙ্গে অনেকেই হয়তো এক মত হবেন আবার কেউ হবেন না। কারণ আমি মনে করি মডেলিং বা ফটোগ্রাফি করতে হলে যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থাকতেই হবে তা মুখ্য নয়। তবে হ্যাঁ, প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও থাকতে হবে সে বিষয়ের ওপর প্রচুর পড়াশোনা। আর অজানা বিষয় নিয়ে কোনো কাজেই সাফল্য আসে না। ইদানিং এই ব্যাপারটা প্রচুর লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর স্বল্প কথায় বলি, যদি কোনো বিষয় অজানা থাকে তবে ইচ্ছা না থাকলেও সিনিয়রদের পরামর্শ নিলে নতুনদের কোনো ক্ষতি হবে না।

আজরা মাহমুদ

টেইনার ও কোরিওগ্রাফার

একটায় কথা, জানতে হবে। আর জেনে-শিখে কাজ করায় ভাল। তাতে নিজের প্রতিভা যেমন বিকাশ করা যাবে অন্যদিকে কাজও করা যাবে ভালভাবে। আর ভাল করাটাই ভাল। এখন দেশে প্রচুর মডেল কিন্তু প্রশ্ন কাজের মানের। মানসম্মত কাজ যারা করছে তারা ঠিকে আছে আর যারা করতে পারেনি তারা ঝরে গেছে।

যা হচ্ছে, যা দেখা যাচ্ছে

এখন সমস্যার কথায় আসি। কনসেপ্ট ছাড়া কিংবা এই ধরনের ছবিগুলোর মান কতটুকু তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠছে। সে সঙ্গে নতুন নতুন এই ডিএসএলআর কেনা ফটোগ্রাফাদের প্রতারণার ফাঁদেও জাড়াচ্ছে অনেকে। তারা নতুন হয়ে, কোনো কিছু না জেনে, না শিখে নিজেদের শ্রেষ্ঠ হিসেবে প্রমাণ আর জাহির করার চেষ্টা করেন নতুন মডেলদের কাছে। কম টাকায় প্রফেশনালি ফটোগ্রাফি করতে গিয়ে ভালোর জায়গায় খারাপই হয়ে যায় বেশি।

রম্যকথা আর গল্প

¦এখন নাকি প্রেম করতেও লাগে ডিএসএলআর। নাম না প্রকাশ শর্তে একজন বলেন, আগে তার কোনে গার্লফ্রেন্ড ছিল না। কিন্তু ডিএসএলআর কেনার পর তার গার্লফ্রেন্ডে সংখ্যা ছয়ে পৌঁছেছে। তিনি কৌতুকের মত করে জানান, তার বন্ধুরা নাকি টাকা জমাচ্ছেন ডিএসএলআর কিনতে। তাহলে মেয়েদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করাটা অনেক সহজ হয়।

আরো যা….

তরুণ নাট্যনির্মাতা সহিদ উন নবী বলেন, সহজে জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য অনেক ছেলে মেয়েরা মডেলিং বা ফিল্মের দিকে ঝুঁকেন কিন্তু সব কিছুর জন্য তো যোগ্যতা লাগে। আবার অনেক সময় শ্রমটাও দরকার। শর্টকার্ট সব কিছু পেতে পেতে আমরা দারুণ অভ্যস্ত তাই কষ্ট নামের জিনিসটা আমরা ভুলে যাচ্ছি। সঙ্গে পড়াশোনার যে ব্যাপারটাও আছে সেটিও। আর এই কারণেই এ অবস্থা। যাদের মধ্যে নৈতিকতা আছে তারা না জেনে বা শিখে কোথাও এক ধাপও দিবে না। যাই হোক, আজ কাল এই সমস্যা বেশি চোখে পরছে। তবে এর সমাধানও মিলবে। এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে। কারণ সবাই সচ্চার হলেই দ্রুত এই সমস্যা বিলুপ্ত হবে। আর যারা ডিএসএলআর ক্যামেরা কিনেই ফটোগ্রাফার বুনে যান তাদের জানাতে হবে ক্যামেরা কিনলেই তুমি ফটোগ্রাফার নও। সুন্দর সুন্দর ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করলেও তুমি মডেল নও। দুটিই শিল্প। আর এই পেশা কিংবা কাজে যুক্ত হতে হলে পড়াশোনা কিংবা শিখে আসতে হবে। হুট করে এসে পরিবেশ নষ্ট করে চলে গেলে অন্যদের ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই হয় না।

নতুন মডেলের জন্য

> অবশ্যই শারীরিক ফিটনেস থাকতে হবে। সে জন্য হালকা ব্যায়াম করা যেতে পারে। তবে বডি বিল্ডার হওয়ার দরকার নেই।

> শরীরের প্রতি যতœ নিতে হবে।

> নিজেকে আকর্ষক করার মন-মানসিকতা রপ্ত করতে হবে।

> এ বিষয়ের উপর প্রচুর ম্যাগাজিন ঘাটতে হবে। যাতে প্রতিদিনই নতুন কিছু শেখা যায় এবং প্রতিদিনই নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা যায়।

> কমিটমেন্টের জায়গাগুলো ঠিক রাখতে হবে এবং সময় মেইনটেইন করে চলতে হবে।

> সবশেষ থাকতে হবে ডেডিকেশন, ডিটারমিনেশন এবং ডেসটিনেশন।

নতুন ফটোগ্রাফারদের জন্য

* প্রথমেই ক্যামেরার সেটিং এর সাথে পরিচিত হয়ে নেয়া দরকার। ক্যামেরাতে বিভিন্ন ফাংশন দেয়া থাকে, সেগুলোর সাথে পরিচিত হয়ে নিলে, ঝামেলামুক্ত হয়ে ছবি তোলা সম্ভব হয়। তাই সব ফিচার চেক করে দেখে নিন, দরকারে টেস্ট করার জন্য ফোটো তুলে প্রাকটিস করা ভালো।

* সূর্য ওঠা থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত এবং ডুবে যাওয়ার আগের দুই ঘণ্টার মধ্যে ছবি তোলা ভালো। তবে খেয়াল রাখতে হবে, ছবি তোলার সময় আলোর মুল সোর্স, যেটা বাইরের ক্ষেত্রে অবশ্যই সূর্য হবে, সেটা যেন যে ছবি তুলছে তার পেছনে থাকে। ইনডোর ছবি তোলার সময় অবশ্যই পর্যাপ্ত লাইট এর ব্যবস্থা রাখতে হবে।

* সবচেয়ে ভালো হয়, ভোরবেলা অথবা সন্ধ্যার আগে আগে ছবি তুললে। তখন ছবিতে অনেক ভালোভাবে আলোর ব্যবহার করা যায়। সকালে ও বিকালে সূর্যের আলো কিছুটা হেলে পড়ার কারণে আলো-ছায়ার পার্থক্য অনেক ভালোভাবে ধরা যায়। সন্ধ্যার দিকে ছবি তোলার জন্য প্রফেশনালরা বিশেষ ফিল্টার ব্যবহার করেন, যেগুলো সাধারন ক্যামেরায় থাকে না। তাই ছবি তুললে সকাল এবং বিকাল সময়টা বেছে নেয়া ভালো।

* ছবি তোলার সময় চেষ্টা করতে হবে সাবজেক্ট এর নিজস্ব উচ্চতায় ছবি তুলতে। উপর থেকে সাবজেক্ট এর ছবি তুললে বা নিচ থেকে তুললে সেগুলো বিশেষ সময় ছাড়া বাকি সময় বাজে দেখাতে পারে।

* ছবি তোলার সময় ব্যাকগ্রাউন্ডের উজ্বলতার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। সাবজেক্টের চেয়ে ব্যাকগ্রাউন্ডের উজ্বলতা বেশি হলে, সাবজেক্ট কালো এবং অস্পষ্ট দেখাবে।

* ছবি তোলার সময় একই ছবি ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে কয়েকবার তুলে নেয়া ভালো। এতে ছবি অবশ্যই ভালো আসবে।

* বিয়েবাড়িতে ছবি তুলতে হলে ফ্ল্যাশ লাইট কম ব্যবহার করুন। বিয়েবাড়িতে সাজগোজের ক্ষেত্রে মেকআপের ব্যবহার বেশি হওয়ায় ফ্ল্যাশের আলো দিয়ে ছবি তুললে ছবি খারাপ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। এ ক্ষেত্রে ক্যামেরার সঙ্গে থাকা (বিল্ট-ইন) ফ্ল্যাশ দিয়ে ছবি তুললে ছবি ভালো আসবে।

* খেয়াল রাখতে হবে, মানুষের ফেসের ছবি তোলার সময় নিচের অংশ যেন কোনভাবেই গলায় গিয়ে না কাটে। এটাতে ছবিটা মাথাকাটা মনে হবে। এভাবেই বুক পর্যন্ত নেবার সময় কনুই এর একটু উপর থেকে কাটুন, অথবা একটু নিচ থেকে। ঠিক কনুই থেকে কাটা যাবে না। কোমড় থেকে না কেটে, একটু উপরে বা নিচে থেকে কাটুন, এবং হাটু থেকে না কেটে, একটু উপরে বা নিচ থেকে কাটুন।

* নিয়মিত ও প্রচুর ছবি তোলার ফলে অভিজ্ঞতা বাড়বে, নিজের ভুল থেকে দ্রুত সঠিক পন্থা শিখে নেয়া যাবে।

জানলে ক্ষতি নেই

ডিএসএলআর ক্যামেরা এর অর্থ ডিজিটাল সিঙ্গেল লেন্স রিফ্লেক্স ক্যামেরা। অর্থাৎ এটি একটি ডিজিটাল ক্যামেরা যেখানে ক্যামেরায় ব্যবহƒত একটি মাত্র পরিবর্তনযোগ্য লেন্সের [যদিও সেই একটা লেন্স বডি অনেকগুলো বেøডের (লেন্স বডির ভেতরে ব্যবহƒত লেন্সকে বেøড বলা হয়) সমন্বয়ে তৈরী হয়] ভেতর দিয়ে আলো প্রবেশ করিয়ে একটা আয়নার মাধ্যমে তার রিফ্লেকশন তৈরী করে আলোকে প্রয়োজনানুসারে ভিউফাইন্ডারে অথবা ডিজিটাল সেন্সরে [এসএলআর এ ফিল্ম] প্রবেশ করানোর ব্যবস্থা করা হয়।

ডিএসএলআর ক্যামেরা কিনলেই কি সত্যিই আপনি ফটোগ্রাফার হয়ে গেলেন?

– ক্যামেরা জিনিসটা হচ্ছে একটা জাদুর বাক্স যেখানে আপনি আপনার সাবজেক্ট থেকে যে আলোর বিচ্ছুরণ ঘটছে সে আলোটাকে ধরে রাখার একটা মাধ্যম। যারা মনে করেন শুধুই ডিএসএলআর দিয়ে সামনে একটা কোমর বাঁকানো মেয়েকে রেখে পেছনটা ব্লুার করে দিলেই সেইটা ফটোগ্রাফি হয় অন্য কোনো ক্যামেরা দিয়ে অন্য কিছুতে হয় না তারা একটু কষ্ট করে গুগল করলেই দেখতে পাবেন। একটি ছবিকে তখনি সত্যিকারের ফটোগ্রাফ বলা যাবে যখন ছবিটি একটা শব্দ উচ্চারণ না করেও কথা বলবে, যখন দর্শক ছবিটি দেখেই ছবির গল্প ধারনা করতে পারবেন।

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj