ওবামাকে তার ভাবমূর্তিও জন্য সংগ্রাম করতে হবে

শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০১৪

কাগজ ডেস্ক : মার্কিন সংসদ নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের জয় তাদের সরকার-বিরোধিতার নীতিকে আরো জোরালো করলে তুলবে। কার্যকালের শেষ দুই বছরে ওবামাকে নিজের ‘লিগ্যাসি’-র জন্য লড়তে হবে বলে মনে করেন মিশায়েল কিনগে।

২০১০ ও ২০১২ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান দল যা করতে পারেনি, তৃতীয়বারের প্রচেষ্টায় তারা সে কাজে সফল হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের দুটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ এসে গেছে তাদের হাতে। তার একটা আগাম আভাসও পাওয়া যাচ্ছিল। হোয়াইট হাউসে এমন এক ডোমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট রয়েছেন, যার জনপ্রিয়তা এখন প্রায় জর্জ ডাব্লিউ বুশের মাত্রায় নেমে এসেছে। সেসঙ্গে আরেকটি কারণেও রিপাবলিকান দলের পোয়াবারো। কারণ এবারের নির্বাচন এমন সব রাজ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেগুলো রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত। তার ওপর ছিল প্রেসিডেন্টকে ‘মিড টার্ম’ নির্বাচনে শিক্ষা দেয়ার সহজাত মার্কিন প্রবণতা। এসব বিষয় মিলে তথাকথিত ‘গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি’ বা জিওপির ভীতকে আরো জোরালো করেছে।

আশাবাদীরা এখনো বলছেন, কংগ্রেসে ক্ষমতার মাত্রা বাড়িয়ে রিপাবলিকান দল অবশেষে নিজেদের নীতি পরিবর্তন করে পদে পদে বাধা দেয়ার বদলে ‘লেম ডাক’ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সহযোগিতার পথে এগোবে। তাদের এ আশার পেছনে যুক্তি হলো, অতীতেও বার বার দেখা গেছে, যে প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেসের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি করার সময়ই সবচেয়ে বেশি আইন অনুমোদন করা সম্ভব হয়েছে। তাছাড়া নিজেদের স্বার্থেই ভোটারদের কাছে রিপাবলিকানদের এমন এক উজ্জ্বল ভাবমূর্তি তৈরি করতে হবে, যে তারা মোটেই শুধু বাধার রাজনীতি চালিয়ে যায় না। গঠনমূলক নীতিও তাদের আয়ত্তে রয়েছে।

এমন সব যুক্তির ক্ষেত্রে ধরে নেয়া হয় যে, নির্বাচিত রিপাবলিকান সাংসদরা দল ও দেশের বৃহত্তর স্বার্থের কথাই চিন্তা করবেন এবং সেই অনুযায়ী কাজ করবেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, অতীতে বার বার এর বিপরীতটাই দেখা গেছে। তাদের বাধার ফলেই ২০১৩ সালে গোটা প্রশাসন যন্ত্র নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছিল এবং বর্তমানে অভিবাসন আইনের সংস্কার থমকে রয়েছে।

এই দুটি ঘটনাই রিপাবলিকান দলের বাধার রাজনীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। নাগরিকদের জীবনযাত্রার উন্নতির প্রচেষ্টার বদলে দলের ‘টি পার্টি’ অংশটি কংগ্রেসের সদস্যদের চরম বিরোধিতাদের দিকে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করে থাকে।

দলের সার্বিক স্বার্থের ক্ষতি হলেও কয়েকজন শক্তিশালী আঞ্চলিক চরমপন্থী নেতাদের দাবিকেই প্রাধান্য দেয়া হয়। এ নীতির ফলে যে আগামী ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মূল স্রোতের ভোটার বা স্প্যানিশভাষী ‘ল্যাটিনো’ মানুষ রিপাবলিকান দলের প্রার্থীকে সমর্থন নাও দিতে পারেন, তাতে ‘টি পার্টি’-র নেতাদের তেমন কিছু এসে যায় না।

এমন প্রেক্ষাপটে এটা ধরে নেয়া কঠিন যে, চরমপন্থী সাংসদদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পরেও কংগ্রেসে আপসের মনোভাব বাড়বে। সামগ্রিকভাবেই রিপাবলিকান দলের মধ্যে ওবামার জনপ্রিয়তা অত্যন্ত কম। এর বদলে ওবামাকেই সংসদের প্রতি মনোভাব বদলাতে হবে। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে ওবামা অবশেষে বুঝতে পেরেছেন যে, রিপাবলিকানদের সঙ্গে আপস কার্যত অসম্ভব। তখন থেকেই তিনি কংগ্রেসকে এড়িয়ে বার বার প্রেসিডেনশিয়াল ডিক্রি জারি করে শাসন করাল চেষ্টা করে চলেছেন। এ প্রবণতা হয়তো আরো বেড়ে যাবে। অন্যদিকে রিপাবলিকান দলের পদক্ষেপ বানচাল করতে ওবামা হয়ত তার ভেটো ক্ষমতাও ঘন ঘন প্রয়োগ করবেন। এ সবের ফলে অ্যামেরিকার রাজনৈতিক জগতে আরো মেরুকরণ ঘটতে পারে।

এ অবস্থায় ওবামাকে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, যাতে তার ক্ষমতাকালের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ভবিষ্যতেও বানচাল না হয়ে যায়। নতুন উদ্যোগ নেয়ার বদলে তার এ চেষ্টাই করা উচিত। অভ্যন্তরীণ নীতির ক্ষেত্রে তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ স্বাস্থ্য বীমা খাতের ঐতিহাসিক সংস্কার। সেটি যাতে রিপাবলিকানদের আক্রমণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটা তাকে নিশ্চিত করতে হবে। কারণ আইন প্রণয়নের পর থেকেই তারা সেটিকে বানচাল করার হুমকি দিয়ে আসছে। যদিও সব তথ্য-পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ আইন অনুমোদনের পর থেকে স্বাস্থ্য বীমা নেই। এমন মার্কিন নাগরিকদের সংখ্যা অনেক কমে গেছে।

আন্তর্জাতিক স্তরে ওবামাকে ইরানের সঙ্গে এক ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষর করা। কিন্তু এ কাজ বড়ই কঠিন। ডিক্রি জারি করে ওবামা কিছু সময়ের জন্য ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বাতিল করতে পারেন। কিন্তু কোনো চুক্তির অনুমোদনের জন্য তার কংগ্রেসের সমর্থনের প্রয়োজন হবে। তা সত্ত্বেও ওবামা যদি তেহরানের সঙ্গে এক সাময়িক চুক্তি স্বাক্ষর করে সেটিকে কার্যকর করতে পারেন, তখন সেই বোঝাপড়া পুরোপুরি বানচাল করা রিপাবলিকানদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।

এই দুটি সাফল্যের ভিত্তিতে ওবামার কার্যকালের শেষ দুটি বছর প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার কর্মজীবনের সাফল্য স্থির করতে পারে। ২০০৮ সালে সিনেটর ওবামা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন জিতেছিলেন। ডেমোক্রেট দলও কংগ্রেস নির্বাচনে জয়লাভ করেছিল।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj