জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কবার্তা

শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০১৪

কাগজ ডেস্ক : জাতিসংঘের পরিবেশ বিজ্ঞানীদের প্যানেল আইপিসিসির চতুর্থ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় গত রোববার। তাতে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য মানুষই দায়ী। এ শতকের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার জন্যও তাগিদ দেয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।

ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ বা আইপিসিসির প্রতিবেদনে অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই। পরিবেশ দূষণ বাড়ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনও হচ্ছে। সচেতনতা বৃদ্ধি, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে উদ্যোগ। কোনো ক্ষেত্রেই প্রত্যাশা মতো ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে না বলে জলবায়ু পরিবর্তনরোধে সাফল্যও আসছে মন্থর গতিতে। তাই আইপিসিসি প্রতিবেদনে আশঙ্কা এবং সে আশঙ্কা দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদটাই বেশি।

বরাবারের মতো এবারো জলবায়ু পরিবর্তনরোধে পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মূল সুপারিশ তেল, গ্যাস পোড়ানো কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো। ঘরবাড়ি, গাড়ি আর কারখানায় বায়ু এবং সৌরশক্তি থেকে উৎপন্ন জ্বালানির ব্যবহার না বাড়ালে এ শতকেই জলবায়ু পরিবর্তন ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এর কিছু লক্ষণের দিকেও মনযোগ আকর্ষণ করা হয়েছে। জাতিসংঘের পরিবেশ বিজ্ঞানীদের প্যানেল বলেছে, উষ্ণায়ন বাড়ছে বলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে চলেছে, বিশ্বের অনেক জায়গায় লু-হাওয়াও বইছে ঘন ঘন।

কোপেনহেগেনে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুন বলেন, ‘বিজ্ঞান যা বলার বলেছে। সেখানে কোনো ধূম্রজাল নেই। সবাইকে এখন কাজ করতে হবে, কারণ, সময়টা আমাদের অনুক‚লে নেই। আইপিসিসি চেয়ারম্যান রাজেন্দ্র পাচাউরি বলেছেন, ‘পরিবর্তনের ইচ্ছাটারই বেশি দরকার আর আমরা মনে করি, জলবায়ু পরিবর্তনের বিজ্ঞান সম্পর্কে জানলে-বুঝলেই তা হবে।

উষ্ণায়ন এবং তার প্রভাব পর্যবেক্ষণের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৮৮ সালে কাজ শুরু করে আইপিসিসি। রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনটি জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ৩০ হাজার গবেষণাপত্রের আলোকে করা। গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য মানুষই শতকরা ৯৫ ভাগ দায়ী।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj