জন্মদিন তোমার

শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০১৪

কেউ তাকে বলেন মিসির আলী, কেউ বলেন হিমু, কারো কারো কাছে তিনি শুভ্র। জাদুকরও বলেন অনেকেই। কিন্তু বরাবরই নিজের সম্পর্কে তিনি বলতেন, ‘আই অ্যাম নো বডি।’ তিনি হূমায়ূন আহমেদ। এসবের বাইরেও অসংখ্য প্রতিষ্ঠিত উপাধি আছে তার। কবি, সাহিত্যিক, গীতিকার, সুরকার এবং নাটক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা- আরো কতো কিছু! তবে নিজেকে কেবল লেখক বলেই দাবি করতেন তিনি। নন্দিত এই লেখকের জন্মবার্ষিকী ১৩ নভেম্বর। তিনি আজ পৃথিবীতে নেই। কিন্তু তার জন্মদিনে রকমারি আয়োজনই বলে দেয় সবখানেই তিনি বহমান এবং বিরাজমান। বাংলা সাহিত্যের নন্দিত লেখক, জনপ্রিয় নাট্যকার হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা মহুকুমার কেন্দুয়ার কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মদিনকে সামনে রেখে মেলার পক্ষ থেকে তার প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা-

জন্মদিন নামে যে একটা ব্যাপার আছে তা ছেলেবেলায় জানতেন না হুমায়ূন আহমেদ। এই দিনে উৎসব হয়, খানাদানা হয়, উপহার নিয়ে লোকজন আসে। তাই তার বোন শেফু একদিন বাবাকে গিয়ে বলেছিলেন জন্মদিন পালন করতে। বড় হওয়ার চেষ্টা করার প্রতিশ্রæতি দিলেই তবে তার বাবা জন্মদিন পালন করার সম্মতি দিয়েছিলেন। ছোটবেলার সেই বাবার কথাই যেন সত্যি হয়ে রইলো আজীবনের জন্য। আগামী ১৩ নভেম্বর হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন।

এই দিনটিকে ঘিরে তিনি আয়োজন করতেন নানান অনুষ্ঠান। ভক্ত, ভালোবাসার অনেক মানুষ সেদিন হাজির হতেন হুমায়ূন আহমেদের কাছে। কিন্তু এখন তিনি আমাদের মাঝে না থাকলেও থেমে থাকে না তার জন্মদিন পালন! কিংবদন্তি এই লেখক একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোট গল্পকার, নাট্যকার এবং গীতিকার। নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেও তিনি সমাদৃত। তার নির্মিত চলচ্চিত্রসমূহ পেয়েছে অসামান্য দর্শকপ্রিয়তা। তবে তার টেলিভিশন নাটকগুলো ছিল সর্বাধিক জনপ্রিয়। সংখ্যায় বেশি না হলেও তার রচিত গানগুলো সবিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করে।

টেলিভিশনের জন্য একের পর এক দর্শকনন্দিত নাটক রচনার পর হুমায়ূন আহমেদ ১৯৯০-এর গোড়ার দিকে চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেন। তার পরিচালনায় প্রথম চলচ্চিত্র আগুনের পরশমণি মুক্তি পায় ১৯৯৪ সালে। ২০০০ সালে শ্রাবণ মেঘের দিন ও ২০০১ সালে দুই দুয়ারী চলচ্চিত্র দুটি প্রথম শ্রেণীর দর্শকদের কাছে দারুণ গ্রহণযোগ্যতা পায়। ২০০৩-এ নির্মাণ করেন চন্দ্রকথা নামে একটি চলচ্চিত্র। ১৯৭১-এ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ২০০৪ সালে নির্মাণ করেন শ্যামল ছায়া চলচ্চিত্রটি। এটি ২০০৬ সালে ‘সেরা বিদেশী ভাষার চলচ্চিত্র’ বিভাগে একাডেমি পুরস্কারের জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেছিল। এছাড়াও চলচ্চিত্রটি কয়েকটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র

উৎসবে প্রদর্শিত হয়। ২০০৬ সালে তিনি নির্মাণ করেন ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’। ২০০৮-এ আমার আছে জল চলচ্চিত্রটি তিনি পরিচালনা করেন। ২০১২ সালে তার পরিচালনার সর্বশেষ ছবি ঘেটুপুত্র কমলা (চলচ্চিত্র)। এছাড়াও হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র। এর মধ্যে ১৯৯২ সালে শঙ্খনীল কারাগার, ২০০৬ সালে মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত দূরত্ব, বেলাল আহমেদ পরিচালিত নন্দিত নরকে এবং আবু সাইদ পরিচালিত নিরন্তর।

২০০৭-এ শাহ আলম কিরণ পরিচালিত সাজঘর এবং তৌকির আহমেদ নির্মাণ করেন বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র দারুচিনি দ্বীপ। ২০০৯ সালে নির্মিত হয় তার চিত্রনাট্যে ‘প্রিয়তমেষু’। ১৯৮০-এর দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য নাটক রচনা শুরু করেন তিনি। যা তাকে রাতারাতি জনপ্রিয় করে তোলে।

তার অন্যতম ধারাবাহিক নাটক এইসব দিন রাত্রি, বহুব্রীহি, কোথাও কেউ নেই, নক্ষত্রের রাত, অয়োময়, আজ রবিবার, নিমফুল, তারা তিনজন, আমরা তিনজন, মন্ত্রী মহোদয়ের আগমন শুভেচ্ছার স্বাগতম ।

এ নাটকগুলোর বেশিরভাগই ১৯৮০ থেকে ১৯৯০-এর দশকে নির্মিত। পরবর্তী সময়ে তিনি বহু প্যাকেজ নাটক নির্মাণ করেছেন। নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাতার পাশাপাশি তিনি একজন গীতিকারও। তবে কেবল নাটক ও চলচ্চিত্রের প্রয়োজনে তিনি গান রচনা করে থাকেন। তার অনেকগুলো গান বেশ জনপ্রিয়। এসব গানের অ্যালবামও প্রকাশিত হয়েছে।

:: মেলা প্রতিবেদক

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj