ঈশ্বরদীতে বন্ধুর হাতে সৌদি প্রবাসী খুন

সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০১৪

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি : উপজেলায় আবু সাঈদ বিশ্বাস (৩৫) নামে এক সৌদি প্রবাসী খুন হয়েছেন।

সাঈদ সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি গ্রামের নাজিম উদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে। পুলিশ গতকাল রোববার সকালে নিজ বাড়ির শয়ন কক্ষ থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে লাবনী আক্তার (১৮) নামে এক তরুণীকে আটক করেছে পুলিশ। তার গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার দামুকদিয়ায়। তিনি ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বরে বসবাস করতেন।

লাবনীর বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গার্মেন্টস কর্মী লাবনীর বন্ধু ছিলেন সৌদি প্রবাসী আবু সাঈদ। প্রবাস থেকে ফিরে প্রায় সময় লাবনীর সঙ্গে সময় কাটাতেন। কয়েকদিন আগে লাবনীকে মুঠোফোনে ঢাকা থেকে ঈশ্বরদী আসার জন্য সাঈদ আমন্ত্রণ জানান। আমন্ত্রণ পেয়ে গত শনিবার সন্ধ্যায় লাবনী ঈশ্বরদী শহরে এসে পৌঁছালে সাঈদ তাকে মোটরসাইকেলে করে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। সাঈদের ওই বাড়িতে কেউ থাকতো না।

বাড়িতে পৌঁছে লাবনী দেখেন সাঈদের শয়ন কক্ষে তার বন্ধু লক্ষীকুণ্ডা ইউপি সদস্য আবু সাঈদ মেম্বরসহ আরো দুজন বসে আছেন। বেশ কিছুক্ষণ থাকার পর লাবনী পাশের রুমে শুয়ে পড়েন।

লাবনী জানান, গভীর রাতে গোঙানির শব্দ পেয়ে তিনি সাঈদের শয়ন কক্ষে গিয়ে দেখেন সাঈদ মেম্বরসহ দুজন সাঈদের গলায় উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করছে। সাঈদ মারা গেলে তারা খুনের ঘটনা প্রকাশ না করার জন্য লাবনীকে শাসিয়ে চলে যায়। বাড়িতে কেউ না থাকায় ওই রাতে তিনি কাউকে কিছু জানাতে পারেননি।

ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিমান কুমার দাশ জানান, সৌদি থেকে মাঝে মধ্যে দেশে ফিরে সাঈদ ঈশ্বরদীর বিভিন্ন স্থানে বন্ধুদের নিয়ে ফুর্তি করতেন। দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে সাঈদের স্ত্রী পাবনা শহরে থাকেন।

তার গ্রামের ওই বাড়িতে কেউ থাকতেন না। সাঈদের আরেক বন্ধু লক্ষীকুণ্ডা ইউপি মেম্বর আবু সাঈদ প্রায় ওই বাড়িতে থাকতেন। ওসি জানায়, নারীঘটিত ও আর্থিক কোনো বিষয় নিয়ে মনোমালিন্যের কারণে বন্ধুদের হাতে সাঈদ খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় সাঈদের বান্ধবী লাবনীকে আটক করা হয়েছে এবং ঈশ্বরদী থানায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj