একই স্থানে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সভা : শমশেরনগরে ১৪৪ ধারা

রবিবার, ২ নভেম্বর ২০১৪

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর চৌমুহনায় গতকাল শনিবার বিকালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দুটি পক্ষের সভা আহ্বান নিয়ে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। চরম উত্তেজনা ও দুটি পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে থাকায় প্রশাসন শমশেরনগর বাজার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। দুটি সভামঞ্চ খুলে নেয়ার পর সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

সাবেক চিফ হুইপ মৌলভীবাজার-৪ আসনের সাংসদ উপাধ্যক্ষ এম শহীদ সমর্থিত ছাত্রলীগ শমশেরনগর ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুল খালিক অভিযোগ করে বলেন, গত ২৯ অক্টোবর সিদ্ধান্ত নিয়ে ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে তারা সভার আয়োজন করেছিলেন। এ সভায় সাংসদ উপাধ্যক্ষ এম এ শহীদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। ইতোমধ্যেই আমন্ত্রণপত্র বিলিসহ মাইকিং করে প্রচারণা সম্পন্ন হয়েছিল। এ আয়োজনকে বানচাল করতে গত শুক্রবার রাত ১০টায় আকস্মিককভাবে মাইকিং করে অপরপক্ষ কমলগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ একই স্থানে একই সময়ে একটি সংবর্ধনার আয়োজন করে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী সমর্থিত কমলগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, ১ নভেম্বর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাকির হোসেনের সংবর্ধনার বিষয়টি আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। গত শুক্রবার রাতে শমশেরনগর চৌমুহনায় আওয়ামী বাউল শিল্পী গোষ্ঠীর একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ঘোষণা দিয়ে রাত ১০টায় মাইকিং করা হয়েছে। এটা কারো অনুষ্ঠান বানচালের উদ্দেশ্য নয়।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদ মোহাম্মদ সাইদুল হক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) একই স্থানে ছাত্রলীগের দুটি পক্ষের সভা নিয়ে উত্তেজনার পর সংঘর্ষের আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করে সব ধরনের সভা, সমাবেশ, জটলা, মাইক ব্যবহার, লাঠিসোঁটা, অস্ত্র বহন ও মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়। নির্বাহী হাকিম আরো বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে জারিকৃত ১৪৪ ধারার মেয়াদ আরো বেড়ে যেতে পারে।

মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম মাসুদ বলেন, পরিস্থিতির কথা শুনে সিনিয়র এ এসপি (সদর সার্কেল) আশরাফুল আলম, কমলগঞ্জ থানার ওসি এনামুল হক ও ওসি (তদন্ত) বদরুল ইসলামকে নিয়ে সরজমিন ঘুরে এসেছেন। এখন শমশেরনগরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj