কাপ্তাই হ্রদ থেকে উদ্ধার করা গুলিবিদ্ধ হাতির চিকিৎসা চলছে

রবিবার, ২ নভেম্বর ২০১৪

নন্দন দেবনাথ, রাঙ্গামাটি থেকে : কাপ্তাই হ্রদ থেকে উদ্ধার করা হাতিটি ছিল গুলিবিদ্ধ। হ্রদের পানিতে পড়ে থাকা হাতিটি গত ২২ অক্টোবর উদ্ধার হওয়ার পর এটিকে গুলি করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাতির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ডাক্তারসহ বনবিভাগের কর্মকর্তারা।

তারা বলেন, প্রথমে হাতিটির শরীরের বিভিন্ন অংশে জখমের চিহ্ন শনাক্ত করা গেলেও হাতিটি যে গুলিবিদ্ধ হয়েছে তা প্রথমে কেউ বুঝতে পারেননি। পরে আহত হাতিটির প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কিছুটা উন্নতি হলে হাতির ঘাড় ও মাথায় গুলির চিহ্নটি দেখতে পান চিকিৎসকরা। বর্তমানে গুলিবিদ্ধ হাতিটির কাপ্তাই হ্রদের শুকনাছড়ি বিটে চিকিৎসা চলছে।

ইতোমধ্যে হাতির চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক (মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগ) ড. ভজন চন্দ্র দাসকে আহ্বায়ক এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মোঃ সামশুল আজমকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

মেডিকেল টিমের অন্য সদস্যরা হলেন- প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক ডা. ফরহাদ হোসাইন, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ও

সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. বিবেক চন্দ্র সূত্রধর ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান।

এ টিমের নেতৃত্বে বর্তমানে হাতিটির চিকিৎসা চলছে বলে জানিয়েছেন রাইংখিয়ং মুখ বনবিভাগ শুল্ক ও পরীক্ষণ স্টেশন ও কর্ণফুলী রেঞ্জ কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ফরেস্ট রেঞ্জার মোঃ শরীফুল আলম। তিনি বলেন, ২২ অক্টোবর খুব খারাপ অবস্থায় হাতিটিকে কাপ্তাই লেক থেকে উদ্ধার করা হয়। তখন হাতিটি প্রায় অজ্ঞান অবস্থায়ই ছিল। বনবিভাগের অক্লান্ত পরিশ্রমে এবং চিকিৎসাসেবার কারণে বর্তমানে আগের তুলনায় হাতিটির অবস্থার অনেকটা উন্নতি হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, হাতিটি গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয় অনেক পরে জানা যায়। তবে হাতির গুলি বের করাসহ এর চিকিৎসার জন্য মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক চেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি জানান। বর্তমানে হাতিটির খাওয়া বন্ধ থাকার কারণে দৈনিক তাকে ১২-১৫টি স্যালাইন দেয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

হাতির চিকিৎসাসহ বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ও মেডিকেল টিমের সদস্য সচিব মোঃ সামশুল আজম জানান, আগের তুলনায় হাতি এখন অনেকটা ভালো। তিনি বলেন, হাতি গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি বনবিভাগ ও চিকিৎসকরা পরে বুঝতে পারেন। তিনি বলেন, হাতির মাথায় ও ঘাড়ে গুলি লেগে তা অনেকটা শরীরের ভেতরে প্রবেশ করাতে গুলিগুলো বের করা একটু কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে গুলি যাতে বের হয়ে যায় সেজন্য মেডিকেল টিম উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এন্টিবায়োটিক ডোজ দিচ্ছেন বলে তিনি জানান। খুব শিগগিরই হাতিটি সুস্থ হয়ে উঠবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অন্যদিকে প্রতিনিয়ত পাহাড়ের বিভিন্ন উপজেলায় অবাধে বন্যপ্রাণী হত্যা ও গুলি করার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মোঃ সামশুল আজম বলেন, বন্যপ্রাণীগুলোকে কে বা কারা গুলি করে হত্যা করার চেষ্টা করছে তা বের করার জন্য তদন্ত করা হবে। তিনি আরো বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ করাসহ তাদের রক্ষার্থে কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্কসহ একটি টিম কাজ শুরু করেছে।

বর্তমানে হাতিটির চিকিৎসাসেবা দিতে খুলনা থেকে আসা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. সাঈদ হোসেন জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়াতে হাতি খাওয়া বন্ধ রাখতে পারে। শরীরে গুলি থাকায় তা যেন হাতিটিকে আর দুর্বল করতে না পারে সেজন্য গঠিত মেডিকেল টিমের সঙ্গে আলোচনা করে সবার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে হাতির চিকিৎসাসেবা দেয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে তিনি জানান।

হাতির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা মাহুত বাবুল জানান, হাতিটি উদ্ধারের পর থেকে খাওয়া-দাওয়া অনেকটাই বন্ধ রেখেছে। তিনি বলেন, শরীরে গুলি থাকাতে হাতিটি দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে।

উল্লেখ্য, রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের কলমিছড়া বিট এলাকা থেকে বন বিভাগের কর্মীরা কাপ্তাই হ্রদ থেকে পানিতে ভাসমান অবস্থায় অসুস্থ হাতিটিকে উদ্ধার করে। গত ২২ অক্টোবর রাতে উদ্ধার করা অসুস্থ হাতিটির বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের শুকনাছড়ি বিট এলাকায় চিকিৎসা চলছে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj