ভূরুঙ্গামারীর শ্রমজীবীরা কাজের সন্ধানে ছুটছেন ঢাকার ইটভাটায়

রবিবার, ২ নভেম্বর ২০১৪

মোক্তার হোসেন সরকার, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) থেকে : ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের থানাঘাট ইউপি ভবনের সামনে গত শুক্রবার সন্ধ্যার আগে পাশাপাশি ৭টি বাস দাঁড়িয়ে। বাসগুলোর সামনে বহু লোকের ভিড়। কাছে গিয়ে জানা গেলো ওই বাসগুলো ভূরুঙ্গামারী থেকে ঢাকায় চলাচল করে। পাথরডুবি ইউনিয়নের পাথরডুবি গ্রামসহ পাশের অন্যান্য গ্রামের শ্রমজীবী যুবকরা ঢাকার ইটভাটায় কাজের উদ্দেশে যাওয়ার জন্য ওই বাসগুলো রিজার্ভ করেছেন।

জানতে চাইলে তাদের মধ্যে পাথরডুবি গ্রামের শফিকুল ইসলাম (২৫) এবং আব্দুস সাত্তার (২৮) জানান যে, এখন আগের মতো কার্তিকের ‘মঙ্গা’ না থাকলেও বর্তমানে তাদের হাতে কোনো কাজ নেই। বসে থেকেই হাতের কোচের সব ভাঙিয়ে সংসার চালাতে হয়। তাই তারা সবাই ঢাকা জেলার দোহার থানার বিভিন্ন ইটভাটায় মজুরি খাটতে যাচ্ছেন। তাদের সংখ্যা প্রায় ৬০০।

সেখানে তারা ৫-৬ মাস পর্যন্ত কাজ করে নগদ অর্থ উপার্জন করতে পারেন। আব্দুস সাত্তার ১২-১৩ বছর ধরে দোহার থানার ইটভাটায় কাজ করেন। সেখানে মাটির স্ত‚প কুপিয়ে পানিতে মাটি গুলিয়ে (মোল্ডিং) মেশিনে প্রতি হাজার কাঁচা ইট তৈরি করে হাজার প্রতি ৫০০ টাকা মজুরি পান। তবে এ কাজ করতে প্রতিটি মেশিনে ১৭ জন করে শ্রমিক প্রয়োজন হয়। এতে তারা যা আয় করেন তা কৃষি

শ্রমের মূল্যের চেয়ে আনেক বেশি। তবে তাদের থাকা-খাওয়া-গোসল-পায়খানা ইত্যাদি বিষয়ে খুবই কষ্ট হয়। তবুও উপার্জনের খাতিরে তারা তা সহ্য করেন। তাদের কাছে আরো জানা যায়, শুধু তারাই নন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে প্রতি বছরই তাদের মতো শত শত লোক ইটভাটায় কাজ করতে যান।

এদিকে ব্যাপক হারে শ্রমিক স্থানান্তরিত হওয়ায় আসন্ন আমন মৌসুমে ধান কাটা-মাড়াই করা শ্রমিকের অভাব হবে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj