কাঠমোল্লা সম্ভবত গল্পটির মূল চরিত্র যদিও সে অস্বীকার করেছে : আনিফ রুবেদ

শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৪

শুক্রবার ছিল সেদিন। দুপুরের আগে থেকে কিছু কিছু করে মেঘ জমতে থাকে দূরের গ্রাম রামজানপুরের মাথার ওপর। কিন্তু এখানে বৃষ্টি হবার সম্ভাবনা তেমন দেখা না দিলেও একটা ভারী মেঘ উড়ে যাবার সময় ঝরে পড়েছিল এই গ্রামের ওপরে। বকরিতাড়া বৃষ্টি। দুপুরের সময় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষজন বাইরে থাকে না এবং স্কুলের বারান্দায় বেশকিছু ছাগল যেগুলো স্কুলের মাঠের ঘাস খাচ্ছিল, সেগুলো বকরিতাড়া বৃষ্টি হলে স্কুলের বারান্দায় দৌড়ে গিয়ে ওঠে। মোলাকাত আলি তখন দোকান লাগাচ্ছিল। স্কুলের পাশ ঘেঁষা তার দোকান, মাস্টাররা পড়াতে পড়াতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে অথবা ক্ষিধে বোধ করলে মোলাকাত আলির দোকানে এসে ক্রিম বিস্কুট কিনে খায় আর বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ছোট ছোট বাচ্চারা পড়তে পড়তে বিরক্তিবোধ করলে পলিথিনে মোড়া তেঁতুল বা বরইয়ের আচার কিনে খায়। সেদিন ছিল শুক্রবার। স্কুল বন্ধ ছিল কিন্তু হযরত আলি দোকান খোলা রেখেছিল কারণ তার দোকানের খরিদ্দারের প্রধান অংশ স্কুলের মাস্টাররা আর ছাত্রছাত্রী হলেও গাঁয়ের অন্যান্যরাও তার দোকানে কিছু কিছু জিনিস কিনতে আসত। বকরি াড়া বৃষ্টি শেষ হলে রহমতি বেওয়া তার ছাগল খুঁজতে আসে এবং ছাগলের চিৎকার শুনতে পায় এবং ছাগলের সাথে মোলাকাত আলিকেও দেখে ফেলে। রহমতি ছাগলের চিৎকার শুনতে পায় যদিও সে এ চিৎকার শুনতে চাইনি, ছাগলের সাথে মোলাকাত আলিকেও দেখে ফেলে যদিও সে তার ছাগলের সাথে মোলাকাত আলিকে দেখতে চাইনি। রহমতি বেওয়াকে দেখামাত্র মোলাকাত আলি হতবাক হয়ে যায়। রহমতি বেওয়াকে দেখামাত্রই মোলাকাত আলির ইঁদুরটি ছাগলের দখল থেকে তার দখলে ফিরে আসে। মোলাকাত ভয়ে আর লজ্জায় সে জায়গা দ্রুত ত্যাগ করে। মোলাকাত আলির ইঁদুরের খপ্পর থেকে মুক্তি পেয়ে ছাগলটি দৌড়াতে শুরু করে রহমতির বাড়ির দিকে। আজ মঙ্গলবারের দিন এ কথা সবাই জানল কিন্তু শুক্রবারের দিনই রহমতির কাছে জানতে পেরেছিল কাঠমোল্লা। কাঠমোল্লা শব্দের ব্যাকারণগত অর্থ যা-ই হোক এর প্রয়োগটা ছিল বাস্তবভিত্তিক। কারণ কাঠমোল্লা লোকটি কাঠমিস্ত্রির কাজ করতো আর ওয়াক্তিয়া মসজিদে নির্দিষ্ট কোনো মোল্লা ছিল না। যে কেউ ইমামতি করত। এক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় এই কাঠমোল্লা এই দায়িত্ব পালন করত। এমন কী এই গাঁয়ের শিবলী জজ ঢাকা থেকে মাঝে মাঝে আসলে এই ওয়াক্তিয়া মসজিদে নামাজ পড়ত। কাঠমোল্লা যখন নামাজ পড়াত আর তার পেছনে জজ এবং গ্রামের স্কুলের মাস্টার আর অন্যান্য শিক্ষিত মানুষরা নামাজ পড়ত তখন সে এক ধরনের আনন্দ পেত। এই কাঠমোল্লার স্বভাব চরিত্র নিয়ে সকলেই সন্তুষ্ট ছিল এবং কোনো শরিয়তি সমস্যার সমাধান তার কাছেই জানতে চাইত। কাঠমোল্লা নিজে কোনো লেখাপড়া জানত না কিন্তু আশপাশের গ্রামে বা দূর-দূরান্তে যেখানে ইসলামি জলসা হত, মাডগার্ডছাড়া সাইকেলটা নিয়ে সে হাজির হত সেখানে আর খুব মনোযোগ দিয়ে ওয়াজ নসিহত শুনে নিজের ভেতরে ইসলামি জ্ঞানের ভাণ্ডার বড় করত। রহমতি বেওয়া গিয়ে যখন তার কাছে ঘটনাটা বলে, তখন সে জানিয়ে দেয় – ‘এই ছাগলের মাংস খাওয়া জায়েজ হবে না।’ কাঠমোল্লার শরিয়তি সমাধান কেউ অমান্য করতে পারত না।

প্রতিটি মানুষ ঠিক এই মুহ‚র্তে যে, যেখানে, যেভাবে অবস্থান করছে তার পেছনে একটা ইতিহাস আছে তা যতই ছোট বা কম গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন। কাঠমোল্লা এ গাঁয়ের মানুষ নয়। কাঠমোল্লা এই গাঁয়ে বাস করে অন্য জায়গা থেকে এসে। তারও একটা ইতিহাস আছে। মোলাকাত আলির চাচা একজন নামকরা কাঠমিস্ত্রি ছিল। সে দূরের জেলাতেও কাঠের কাজ করতে যেত। সে বছর সে বগুড়াতে কাজ করতে গেলে কাঠমোল্লাকে দেখে। কাঠমোল্লার বাবা আগেই মারা গিয়েছিল আর মোলাকাত আলির চাচা সেখানে যাবার তিনদিন পর কাঠমোল্লার মাও মারা যায়। দয়া পরবশ হয়ে মোলাকাত আলির চাচা তাকে সঙ্গে নেয় এবং সাহায্যকারী হিসেবে নিয়োগ দেয়। সেখানে কাঠের কাজ চলে প্রায় মাস তিনেক। কাজ শেষে ফিরে আসার সময় কাঠমোল্লাও তার পিছু নেয়। মোলাকাত আলির চাচা তাকে ‘আমার সাথ নিচ্ছিস কেন?’ এই প্রশ্ন করলে সে জানায় ‘তুমি যেখানে যাবে আমিও সেখানে যাব কারণ আমার আর কেউ নেই। তোমার সাথে কাজ করব আর তুমি যেখানে থাকবে আমিও সেখানে থাকব’। হযরত আলির চাচা আর না করেনি। তাকে বাড়ি নিয়ে এসেছিল। যেদিন কাঠমোল্লা মোলাকাত আলিদের বাড়িতে আসে, মোলাকাত আলি সেদিনই জন্মেছিল আর তার জন্মের তিন ঘণ্টা পর তার মা মারা যায়। মোলাকাত আলির বাবা ছেলেকে কিভাবে মানুষ করবে এই ভাবনায় পড়লে মোলাকাত আলির চাচা তিনশ টাকা দিয়ে একটা ছাগল কিনে দিয়ে বলে, ছাগলের দুধ খাওয়াতে হবে বাচ্চাকে। শরিয়ত মোতাবেক ছেলেশিশু মায়ের বুকের দুধ আড়াই বছর পর্যন্ত খেতে পারবে কিন্তু ছাগিটি দুবছরের মধ্যেই মারা যায়। মোলাকাত আলি ততদিনে অন্যান্য খাবারও খেতে শিখেছে ফলে দুধের জন্য আর নতুন করে কোনো ছাগল কেনার প্রয়োজন পড়েনি। কাঠমোল্লাও এখানে মানুষ হতে থাকে। এ গ্রামেই এর ওর টুকটাক কাজ করে। পরে একটু বড় হলে সে ইসলামি আচরণ শিখে নেয় আর তার সত্যিকার নাম বিলুপ্ত হয়ে কাঠমোল্লা প্রতিষ্ঠিত হয়। এমন কি সে নিজেও নিজের পরিচয় দিত কাঠমোল্লা বলে।

আজ মঙ্গলবার স্কুল ছুটির পর স্কুলের ফুটবল খেলার মাঠে বিচার বসে যায়। বিচার ডেকেছে রহমতি বেওয়া। সে হয়তো বিচার ডাকত না কিন্তু সে গরিব মানুষ এবং কাঠমোল্লা বলেছে এ ছাগল আর কোনো কাজে লাগবে না। গ্রামের প্রায় সব লোক বিচার দেখতে এসেছে তো বটেই আশপাশের গ্রাম থেকেও বহুলোক এসেছে একনজর ছাগলটাকে এবং মোলাকাত আলিকে দেখার জন্য এবং বিচারে কী সাব্যস্ত হচ্ছে তা দেখার জন্য। বিচার যারা করছিল তারা বিভিন্নভাবে শুনে এবং চিন্তা করে কয়েকটি সিদ্ধান্ত দেয় এবং বাস্তবায়ন করতে বলে-

১. মোলাকাত আলিকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করে সালিসের লোকজন। ছাগির দাম বাবদ সাড়ে তিন হাজার টাকা রহমতি বেওয়াকে দেয়ার জন্য সিদ্ধান্ত হয় আর বাকি টাকা মসজিদের উন্নয়ন ফান্ডে রাখার জন্য বলা হয়।

[এ সময় একজন বলে- মোলাকাত আলি, তুমি এখনি টাকা পরিশোধ করে দাও। মোলাকাত আলি বলে- আমি এখন টাকা দিতে পারব না, পনের দিন সময় চাই। তখন লোকজন তাকে এক সপ্তাহের সময় দেয়]

২. রহমতিকে বলা হয় এ ছাগলের মাংস খাওয়া হারাম। সুতরাং যতদিন না মরছে ততদিন তোমাকে এ ছাগলকে পুষতে হবে কিন্তু কোনো কাজে ব্যবহার করতে পারবে না।

[এ সিদ্ধান্ত শুনে রহমতি বেওয়া একটা আপত্তি তোলে- আমি নিজেই ভালো করে খেতে পাই না, অযথা কোনো ছাগলকে এতদিন ধরে পুষতে পারব না। তখন কিছু লোক বলে- আচ্ছা ঠিক আছে তোমাকে পুষতে হবে না তুমি একে ছেড়ে দিও ও যেখানে ইচ্ছে সেখানে চড়ায় করে খেয়ে বেঁচে থাকবে, বেঁচে থেকে মরে যাবে।]

বিচার শেষ হবার পর থেকে মানুষজন দেখে, একটা ছাগল তাদের বাড়ির পাশের জঙ্গলে, রাস্তার ধারে যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই ছাগলটা সম্পর্কে সকলেই সজাগ থাকে। তাদের নিজেদের ছাগলকে এ ছাগলের কাছাকাছি দেখলে তারা লজ্জা পায়। তারা তাদের ছাগলকে টেনে নিয়ে চলে আসে অথবা ঐ ছাগলটাকে তাড়িয়ে দেয়। আবার মানুষজন এও দেখতে পায়, যখন তখন ছাগলটা মোলাকাতের দোকানের আশপাশেই থাকছে। লোকজন ছাগলটাকে জড়িয়ে এবং মোলাকাতকে জড়িয়ে কথা বলাবলি, হাসাহাসি করে মোলাকাত আলিকে শুনিয়েই। মোলাকাত আলি অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে এবং মুখখারাপ করে সকলকে গালাগালি করে। সে লজ্জাতে ঐ ছাগলটির দিকে আর চোখ তুলে তাকাতেও পারে না, যদিও সে খেয়াল করেছে ছাগলটি তার দোকানের কাছেই বেশিরভাগ সময় ঘুরঘুর করে। মাঝে মাঝে সে দোকান থেকে লাঠি নিয়ে নামে আর তাকে তাড়িয়ে দেয়। তারপরেও ঘুরে ঘুরে আসে। মোলাকাত আলি এও লক্ষ করেছে, ছাগিটির পিছে দুএকজন চ্যাংড়াপোলা ঘোরাঘুরি করে। ছাগলটি নিয়ে বেশ একটা নীরব মনস্তত্ত্ব তৈরি হয় গোটা গাঁয়ে। যেদিন জরিমানার টাকা দেয়ার দিন তার দুদিন আগে মানুষ খেয়াল করে মোলাকাত আলি নেই।

মোলাকাত আলি নিরুদ্দেশ হবার কিছুদিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি ব্যাপার ঘটে যায়- ক. ছাগলটাকে এখানে সেখানে চড়ায় করতে দেখে মানুষজন অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই একদিন ছাগলটাকে দেখা যায় না। তখন গাঁয়ের লোকজন প্রথমেই গিয়ে হাজির হয় রহমতি বেওয়ার বাড়িতে এবং তাকে জিজ্ঞাসা করে ছাগলের ব্যাপারে। রহমতি বেওয়া নিজেও আশ্চর্যান্বিত হয় আর বলে, ছাগলটাকে সে দেখেনি। তখন গাঁয়ের লোকজন বেশকিছু সম্ভাবনার কথা আলোচনা করে। তারা বাক্যের প্রথমে বা শেষে ‘হতে পারে’ জুড়ে দিয়ে বলে-

১. কোনো শেয়াল কুকুরে ছাগলটিকে টেনে নিয়ে খেয়েছে। শেয়াল কুকুরের তো আর হালাল হারাম নাই।

২. মোলাকাত আলিই কোনো একদিন এসে ছাগলটিকে ধরে নিয়ে গিয়ে জবাই করে খেয়েছে।

৩. ছাগলটি মনের দুঃখে তার প্রেমিককে দেখতে না পেয়ে চলে গেছে মোলাকাত আলির সন্ধানে অথবা আত্মহত্যা করেছে। [এ সময় হাসির হল্লা ওঠে, এবং ধীরে ধীরে ব্যাপারটি কৌতককর হয়ে ওঠে।]

তখন আরো একজন ইয়ার্কির সুরে বলে-

৪. দেখ গিয়ে, কাঠমোল্লাই হয়তো ছাগলটি ধরে নিয়ে গিয়ে দূরের হাটে বিক্রি করে দিয়েছে। নইলে একই সাথে নতুন পায়জামা পাঞ্জাবি কেনার টাকা সে কোথায় পেল। [আবার হাসির হল্লা ওঠে, এ সময় ওখান দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল কাঠমোল্লা। তখন তাকে দেখে সবাই থেমে যায়।]

কাঠমোল্লা সেখানে এসে দাঁড়ালে তারা অন্যভাবে ছাগলের প্রসঙ্গটি নিয়ে কথা বলতে শুরু করে। কাঠমোল্লা তখন তাদের বলে- বাদ দাও এসব ব্যাপারের আলোচনা।

খ. মোলাকাত আলির দুবছরের মেয়েটা খুব অসুস্থ হয়। কাঠমোল্লার সহায়তায় মোলাকাত আলির বউ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং ডাক্তাররা বলে, বাচ্চাটাকে বিষ দেয়া হয়েছে, তাড়াতাড়ি চিকিৎসা দেয়া দরকার। বাচ্চাটা মোলাকাত আলির বউয়ের কোলের ওপর থেকে নিয়ে কাঠমোল্লা যখন কোলে নেয় হাসপাতালের বেডে শোওয়ানোর জন্য তখন সে মারা যায়। বাচ্চাটার মায়ের কান্নাতে চারদিক ভরে যায়। মনে মনে অনেক খুঁজেও কে এ কাজ করতে পারে তা বুঝতে পারে না মোলাকাত আলির বউ। সে চিৎকার করে কাঁদতে লাগল- ‘কে তার এতবড় ক্ষতি করল রে আল্লারে’ বা ‘কে এমন কাজ করল রে আল্লারে’ বা ‘হামি এখন কি লিয়্যা বাঁচব রে আলারে’ এ ধরনের বিলাপ করে। তখন কাঠমোল্লা তার পেছনে শিশুলাশটি নিয়ে দাঁড়িয়েছিল। কাঠমোল্লা বলে- সবই আল্লার ইচ্ছা, কেঁদে কোনো লাভ নেই।’ এটা বলার পর সে শিশুলাশ নিয়ে হাঁটতে থাকে। তার পিছে পিছে হাঁটতে থাকে মোলাকাতের বউ। একটা থানা কেস হলো বটে তবে তাতে তেমন কোনো সন্দেহজনক লোক বা সাক্ষ্য না পাওয়ায় কেসের অগ্রগতি হলো না।

বছর পাঁচেক পর যখন মোলাকাত আলি গাঁয়ে ফিরে আসে তখন বাড়ির কাছে প্রথমেই তার বউয়ের সাথে দেখা হয়ে যায়। বউটা তাকে দেখে বিরাট একটা ঘোমটা মাথায় দিলে, মোলাকাত বলে- ‘আমি মোলাকাত আলি, তুমি আমাকে চিনতে পারনি- আমি তোমার স্বামী।’ তখন বউটা বলে- ‘আমার স্বামীর নাম বেনায়েত মোল্লা। মোলাকাত আলির মনে পড়ে কাঠমোল্লার নাম বেনায়েত, এ নাম বহুদিন পর তার মনে পড়ল। বউটা তাকে পার হয়ে বাড়িতে ঢুকে গেল। মোলাকাত আলি দেখল বাড়িটা বেশ সুন্দর করে বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলেছে বেনায়েত মোল্লা ওরফে কাঠমোল্লা। সে ভীষণ অবসন্ন হয়ে বাড়ির বাইরে যে নিমগাছটা ছিল সেখানে হেলান দিয়ে বসে। কার কাছে থেকে খবর শুনে রহমতি বেওয়া মোলাকাত আলিকে দেখতে আসে। রহমতি বেওয়াকে দেখামাত্র মোলাকাত আলি কেঁদে ওঠে। সে পকেট থেকে কিছু টাকা বের করে রহমতি বেওয়ার হাতে ধরিয়ে দেয়। রহমতি বেওয়া বলে- ‘বাবা আমি টাকা নিতে আসিনি, তোমাকে দেখতে এসেছি। তুমি কেমন আছ বাবা, কেমন ছিলে বাবা, তুমি আমাকে ক্ষমা দিও বাবা।’ রহমতি বেওয়াও কাঁদে, কাঁদতে কাঁদতে মোলাকাত চলে যাবার পরে ঘটে যাওয়া সবকিছু বলে। বলে তার দুবছরের মেয়েটির মৃত্যুর কথা। কাঠমোল্লার তার বউকে বিয়ে করার কথা। মোলাকাত আলি আর দাঁড়ায় না।

হযরত আলি গাঁয়ে ফিরে এসেছে শুনে পাঁচ বছর আগের সেই মঙ্গলবারের মতো কয়েক গাঁয়ের লোক ভেঙে পড়ে, যদিও সেদিন শনিবার, যদিও তারা তাকে এসে দেখতে পায় না। হ

সাময়িকী'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj