প্রেম কিংবা মৃত্যুর উপাখ্যান

শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪

বোরখা হাতে নিয়ে রান্না ঘরের দিকে যেতে যেতে, আবিরের উদ্দেশ্যে বলে, আচ্ছা ভাইয়া। ততক্ষণ আবিরের মস্তিষ্কে টেস্টোরন হরমন কিলবিল করা শুরু হয়ে গেছে। তাছাড়া মেয়েদের ফাঁদে ফেলে যৌনতার বিষয় আশয়ে সে বড্ড পটু। আবির ঝুমাকে বলে রান্না শেষ হলে অর্ধেক খাবার তুমি বাসায় নিয়ে যেও আর তুমি কখনো বাথরুম ব্যবহার করলে এই দক্ষিণ পাশের বাথরুম ব্যবহার করবে। আবিরের উদারতা দেখে ঝুমার ভালো লাগে। রান্না শেষ করে ঝুমা আবিরকে বলে, ‘ভাইয়া আমি আর দুই দিন অসতাম’, তখনই আবিরের মাথায় আগুন ধরে যায়। সে মনে মনে ভাবে যা করার এই দুই দিনে করতে হবে। তা নাহলে পাখি ফসকে যাবে।

আদর্শ গ্রামের দক্ষিণ পাশে যে ন্যাড়া বটবৃক্ষ আছে তার পাশেই সাজ্জাদ মিয়ার বাড়ি। তিনি বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান। তার একমাত্র ছেলে আবির চৌধুরী। আবিরকে দেখতে অনেকটা মার্কিন সাঁতারু মাইকেল ফেলেপ্সের মতে মনে হয়; যদিও তার সাঁতার বিদ্যায় আঁতুড়ে স্বভাব কিন্তু তার হাবভাবে মনে হয় অলিম্পিক গেমসের স্বর্ণবিজীয়। সে একাই খুলনার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া। এখানে সে প্রায় এক বছর যাবৎ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স প্রথমবর্ষে পড়ছে। এখন তার পরীক্ষাও চলছে। তার রান্নার জন্য একজন কাজের মহিলা আছে। তার নাম সে খালা হিসেবেই জানে। সাধারণত কাজের মহিলাদের নাম খালা হয় কিংবা বুয়া হয়। যেমন আজকাল কোনো রিকশাওয়ালাকে কেউ ডাক দিলে, এই রিকশা বলে ডাক দেয়, তেমন আর কি। তবে তার কাজের মহিলার নাম রহিমা বেগম। রহিমার বয়স কত তা এখনো নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। তবে কোনো হিসাবই তার বয়স ৪/৫ বছরের নিচে নামাতে পারেনি। রহিমার এলাকায় তার একটি বদনাম আছে। সে নাকি তার স্বামীকে খেয়েছে। যখন তার স্বামী মারা যায় তখন সে গর্ভবতী এখন সেই গর্ভের সন্তান ঝুমা। এখন ঝুমার বয়স ১৫ বছরের কাছাকাছি হবে। কেউ কেউ ঝুমাকে রাক্ষুসী বলে ডাকে; কারণ তার জন্মের আবির্ভাবের মাঝে তার বাবার অকাল মৃত্যু ঘটছে। কখনো কখনো ঝুমার মাও তাকে আদর করে রাক্ষুসী বলে ডাক দেয়। এতে ঝুমার বেশি একটা খারাপ লাগে না। যেহেতু সে গেঁদাকাল থেকে এই শব্দটির সাথে অতিপরিচিত। এক ধরনের গাসহা ব্যাপার হয়ে গেছে।

আজ সকাল থেকে ছোটখাটো বৃষ্টি শুরু হয়েছে। রহিমা বেগমের ঘরের চালা চুয়ে বৃষ্টির ফোঁটা পড়াও শুরু হয়েছে। চালা চুয়ে চুয়ে শুধু বৃষ্টিই পড়ে না; জোছনাও চুয়ে চুয়ে পড়ে। তারা কী তখন জোছনার পূর্ণচাঁদ দেখে সুকান্তের কবিতা পাঠ করে কীনা, কিংবা মুখ ফসকে বলে কীনা-‘ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়।/পূর্ণিমা যেন ঝলসানো রুটি’ বৃষ্টির গতি বেড়ে গেলে, ঝুমা ও ঝুমার মায়ের একটি কাজ সবার আগে করতে হয়। কাজটি হলো-বৃষ্টির ফোঁটায় অভিকর্ষ গতি মুখে থালা, বাসন কোসন, ঘটি, মগ, জগ পেতে রাখতে হয়। তা না হলে তাদের ঘরে সব কিছু ভিজে যাবে। একবারের বৃষ্টিতে তো ঝুমার ও তার মায়ের সব জামা কাপড় কাঁথা বালিশ ভিজে এক প্রকার মদাগন্ধ তৈরি হয়েছিল। সেবার তাদের ঘরে কেউ ছিল না। তবে তাদের দুটি ছাগল ছিল। সেদিন বৃষ্টির সঙ্গিতের সাথে ছাগলের ভ্যাঁ ভ্যাঁ যুক্ত হয়ে, আজকাল কার কোনো কোনো ব্যান্ডদলের ভালো সঙ্গীত তৈরি হয়েছিল।

দুপুর ২টা বাজে ঝুমার মাদ্রাসা থেকে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে তাদের ঘরের মধ্যে ঢুকেই দেখে কেউ নেই। বৃষ্টি আসলে তাদের চিন্তা বেড়ে যায়। কেননা এই সময় ছাগল চুরির ভয় থাকে। সে ঘরের এক কোণে বইখাতা ও বোরখা খুলে রেখে ছাগল তালাশের জন্য আবার বেরিয়ে পড়ে। বোরখা পরায় ঝুমোর একটু বেশি লাভই হয়েছে বলা চলে। তার মাত্র দুই সেট জামা কাপড়। এসব জামা কাপড় দেখতেও বেশি ভালো না। ঝুমার কিছুদূর গিয়ে তার মায়ের সাথে দেখা পায়। তার মাও ছাগল তালাশে এসেছে। তার মা একটি ছাগলের কান ধরে রহিম চাচার পুকুর পারে দাঁড়িয়ে আছে।

ঝুমা-আম্মা আর দুইডা খাসি কোহানে?

রহিমা-দ্যাখতেছি না তো। তুই একবার- সরকার বাড়ির দরজায় ভাঙা ব্র্যাক স্কুলে যাইয়া দ্যাকতো। ঝুমার সরকার বাড়ির কাছে আসতেই বৃষ্টি থেমে যায়। সে ব্র্যাক স্কুলের ভিতর ঢুকে অনেকের গরু ছাগল দেখতে পেলেও তাদের বাকি খাসি দুটি দেখতে পায় না। তার বুক ফেটে কান্না বেরিয়ে আসে। এই শ্রাবণ ধারা কিছু সময়ের জন্য থেমে গিয়ে, এখন ভর করেছে ঝুমার চোখে। সামনের কোরবানির ঈদে এই খাসি দুটি ছিল তাদের ঈদ ভরসা। সে ভাবে এবারও বুঝি আমাদের ঈদ হলো না।

ঝুমার ভেজা শরীর নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে এসে দেখে তার মা সব ছাগলসহ তার আগেই বাড়িতে এসে বসে আছে। ঝুমার কান্না বিদ্যুৎ গতিতে থেমে যায় এবং হাসতে শুরু করে ছাগলের দিকে তাকিয়ে। এ যেন এই বৃষ্টি এই খরা। হঠাৎ ঝুমুরের মা চিৎকার দিয়ে ওঠে-

রহিম- তোর দাপনা থেইক্কা রক্ত ঝরতাছে ঝুমা-রে ঝুমা তার হাঁটুর উপরে প্যান্ট উঠিয়ে রক্ত ঝরার উৎস খোঁজে। কিন্তু কোনো কাটা ফাটার দাগ দেখতে পায় না। তার ধারণা ছিল, সে যখন ছাগল তালাশে ব্যস্ত ছিল। তখন সে একবার পা পিছলে পড়ে গিয়েছিল। হয়তো তখন কাটতে পারে। একটু পরে সে রক্তের উৎস বুঝতে পেরে লজ্জায় লাল হয়ে যায়।

ঝুমার ঘরটি হলো তিনু মিয়ার বস্তির একদম শেষ প্রান্তে এবং রাস্তার উপরে। অবশ্য রাস্তাটি একটি কাঁচা রাস্তা, কোনো প্রকার যানবাহন চলে না। শুধু এই বস্তির লোকজন আসা-যাওয়া করে। তবে রাতের বেলায় কিছু পরিচিত যুবকের আনাগোনা বেড়ে যায়। সেই সকল যুবকদের কিছু কিছু কুকর্মের কথা ঝুমা জানে। তাই তাদের কাছেও ঘেঁষার চেষ্টা করে না।

এখন বেলা প্রায় পড়তে বসেছে। ঝুমুরের পেট ক্ষুধায় চো চো করছে। ঝুমা তার মাকে ডেকে বলে ‘আম্মা, ও আম্মা- আমার ক্ষুধা লাগছে। ম্যাচ থেইক্কা কী খাবার আনছো’

রহিম-আজকে হ্যাগো পাকাতে যাই নাই। আমার গায় জ্বর বাইরা গ্যাছে।

ঝুমুর তার মায়ের কপালে হাত দিয়ে দেখে যে, জ্বরে গাঁ পুড়ে যাচ্ছে।

ঝুমা-তোমায় জ্বর হইচে, তয় বৃষ্টিতে ভিজে ছাগোল খুঁজতে গেলা ক্যান?

রহিমা-আরে রাক্ষুসী-আমার ছাগল কি জ্বরের চেয়ে ছোট হয়ে গেলে।

ঝুমা-তাহোলি, তুমি এবার ম্যাচে রান্না করবা কী কইরা। আমরা খাবো কি।

রহিমা ভাবে; এখনতো প্রায় জুলাই মাস শেষ হয়ে আয়ছে। দুই এক দিনের মোধ্যি টাকা পাওয়া যাবে। এই মুহূর্তে ঘন ঘন যাওয়া দরকার। আমিতো প্রায় ২৫০০ টাকা পাবো। তাহলে এ মাসের ও গত মাসের কিস্তির টাকা দিতে পারবো। আরেকবার ভাবে- যদি আমায় পরিবর্তে ঝুমুরকে পাঠাই তাহলে কেমন হয়।

রহিমা- তুই কি ম্যাচের আবির মামারে দুই দিন রান্না করে দিবি।

ঝুমা রাজি হয় এই ভেবে যে তার মা অসুস্থ, দুই মাসের কিস্তি বকেয়া হয়েছে। তাছাড়া তার স্কুল চার দিন ছুটি হয়ছে।

ঝুমা কাক ডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে রান্না করতে যায়। দরজায় টোকা দিতেই আবির দরজা খুলে দেয়।

আবির-খালা গতকাল আসো নাই ক্যান?

ঝুমা-আমি খালা না। তার মেয়ে।

আবির-ও আচ্ছা। বোরখা পরে আছেন তো তাই। সোরি।

আবির লজ্জা পায়; তবে মেয়েটির কণ্ঠস্বর ভালো লাগে। আবার সে চেয়ারে বসে অঙ্ক কষা শুরু করে। আজ সকাল দশটায় তার ক্যালকুলাস পরীক্ষা। ঝুমার ঘরের ভিতর ঢুকে তার নাক মুখ বিস্ময়ে ভরে ওঠে। সে একা একা বলে এত বড় একটা ফ্লাট আর আবির মামা একা একা থাকে। এত সুন্দর ঘর সে আগে কখনো দেখে নাই। এত বড় বাড়ি হবেই তো, একা বাপের এক পোলা, তারপরে আবার চেয়ারম্যান, ধনী মানুষ। সে রান্নঘর থেকে ঘুরে ফিরে আবিরের রুমে আসে। আবিরের বিপরীতমুখী হয়ে সে বলে; ‘ভাইয়া কী কী পাকাইতাম’

আবির-আজ তো আমার পরীক্ষা, তুমি দ্যাখো ফ্রিজে গরুর মাংস রান্না করা আছে, আর একটি ডিম ভাজলেই হবে। কিন্তু তুমিতো অন্যদিকে তাকিয়ে কথা বলছো। তবুও আমি তোমায় আয়নায় দেখতে পাচ্ছি। অবশ্য তুমি বোরখা পরা।

ঝুমা-হাসে, (মিট মিট করে)। আচ্ছা মামা।

আবির-মামা বলো কেন। সেতো তোমার আম্মা বলে।

ঝুমা-তালি কী বলতাম।

আবির-ভাইয়া। তোমার বোরখা পরার দরকার নাই, কেমন।

ঝুমা নীরব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, কোনো উত্তর না দিয়ে রান্নার কাজে ব্যস্ততা দেখায়।

সকালের রান্না শেষ করে ঝুমা আবার দুপুরের রান্নার জন্য আসে। এসে দেখে ঘরে তালা মারা। ঝুমা কিছুক্ষণ দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থেকে বাড়ি যাবার জন্য সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামবার পথে আবিরের সঙ্গে দেখা হয়।

আবির-কোথায় যাচ্ছ? আস, উপরে আস।

আবির ও ঝুমা দ্ইু জনে উপরে উঠে আসে। ঝুমা আবিরের হাত থেকে বাজারের ব্যাগটি হাতে নেয়। ঝুমা রুমে ঢুকেই রান্নার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। হঠাৎ ডাইনিং রুম থেকে ঝুমা ডাক শোনে, ঝুমা আবিরের রুমে প্রবেশ করে।

ঝুমা-কি ভাইয়া, ডাকতাছেন যে।

আবির-শোন। আমি বাহিরে যাচ্ছি। এই নাও চাবি, রান্না শেষ হলে তালা মেরে যাবে। ও আচ্ছা, রান্না করা খাবার ঢেকে রেখ।

আবির রুমের চাবি ঝুমার হাতে দিয়ে বাহিরে চলে যায়। এখন এত বড় ফ্লাটে ঝুমা একা। ঝুমা আয়নার দিকে এগিয়ে যায়। বোরখার নেকাব খুলে নিজেকে দেখতে থাকে। এত বড় আয়নায় সে আগে কখনো নিজের মুখ দেখেনি। এরপর সম্পূর্ণ বোরখা খুলে নিজেকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে থাকে। হঠাৎ সে কলিং বেলের আওয়াজ শুনতে পেয়ে ভড়কে যায়। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে সে দরজা খুলে দেয়।

আবির, ঝুমার বোরখাহীন সৌন্দর্য দেখে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। মনে মনে ভাবে আমি একি দেখলাম।

আবির-আমার যাওয়া হলো না ঝুমা। যে কাজ ছিল তা আমি ফোন দিয়ে সেরে ফেলেছি।

ঝুমা মাথা নত করে, বোরখা হাতে নিয়ে রান্না ঘরের দিকে যেতে যেতে, আবিরের উদ্দেশ্যে বলে আচ্ছা ভাইয়া। ততক্ষণ আবিরের মস্তিষ্কে টেস্টোরন হরমন কিলবিল করা শুরু হয়ে গেছে। তাছাড়া মেয়েদের ফাঁদে ফেলে যৌনতার বিষয় আশয়ে সে বড্ড পটু। আবির ঝুমাকে বলে রান্না শেষ হলে অর্ধেক খাবার তুমি বাসায় নিয়ে যেও আর তুমি কখনো বাথরুম ব্যবহার করলে এই দক্ষিণ পাশের বাথরুম ব্যবহার করবে। আবিরের উদারতা দেখে ঝুমার ভালো লাগে। রান্না শেষ করে ঝুমা আবিরকে বলে, ‘ভাইয়া আমি আর দুই দিন অসতাম’, তখনই আবিরের মাথায় আগুন ধরে যায়। সে মনে মনে ভাবে যা করার এই দুই দিনে করতে হবে। তা নাহলে পাখি ফসকে যাবে।

আবিরের এখন চারদিনের পরীক্ষা মধ্যবর্তীকালীন বিরতি চলছে। সে এখন সব সময় রুমেই বেশি থাকে। দুপুরের রান্নার জন্য ঝুমা আসে। ঝুমাকে আবির ডেকে বলে- ‘ঝুমা আমি তোমাকে একটি কথা বলবো বলবো করে ভাবছি। কিন্তু লজ্জায় বলতে পারছি না।’ তবুও বলে ফেলে-‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’।

ঝুমা বুঝতে পারে এটা একটা ফাঁদ। কারণ তার এ বিষয়ে তার মা অনেক আগে থেকেই সতর্ক করে দিয়েছে। তাই আবিরকে সে সরাসরি না বলে দেয় এবং ভয়ে থরথর করে কাঁপতে থাকে। আবির ঝুমার এই সাহস দেখে তার একটি গোপন তথ্য ফাঁস করার ভয় দেখায়।

ঝুমা-আপনি কিসের ভয় দেখান।

আবির-তোমার একটা ন্যাংটা ভিডিও ক্লিপস আমার কাছে আছে। তুমি যদি আমার কথা না শোন তা হলে আমি ভিডিওটি সবার কাছে ছড়িয়ে দেব।

ঝুমা রেগে বলে, ‘যান যান আপনি যা পারেন তাই করেন আপনি আমার কি ভিডিও করেছেন যা ফাঁস করে দেবেন’।

আবির-কেন, তুমি যে বাথরুমে বসে একা একা- যা কিছু করেছো। ঐ সব।

ঝুমা রেগে মেগে হন্তদন্ত হয়ে রুম থেকে বাহিরে বের হয়ে যায়। রান্না ঘরের চুলায় ডাল পুরতে থাকে। পোড়া গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

পরের দিন ঝুমা রাস্তায় বের হলো। সকলে যেন কেমন করে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। কেউ কেউ মুখ টিপে হাসে। সে স্কুলে এসে দেখে সেই একই অবস্থা মাদ্রাসায়ও। মাদ্রাসার সকল সহপাঠী তার সাথে যেন কেমন আচরণ করে। সে ভয়ে ভয়ে পিছনের বেঞ্চে বসে। একটু পরে ক্লাস টিচার শ্রেণীকক্ষে রুমের ভিতর প্রবেশ করে প্রথমেই বলে, ঝুমা দাঁড়াও ঝুমা উঠে দাঁড়ায়। টিচার তাকে সকল ছাত্রছাত্রীর মাঝে বলে; ‘ঝুমা তোমার স্কুল থেকে নাম কেটে দেওয়া হয়েছে, এখনি তুমি ক্লাস রুম ত্যাগ করো। আমি তোমার মুখও দেখতে চাই না’।

ঝুমা কোনো কথা না বলে কাঁদতে কাঁদতে স্কুল থেকে পথে বেরিয়ে পড়ে। যে পথে সে কখনো হাঁটে নাই। সেই অপরিচিত পথে হাঁটতে থাকে।

:: সাকি মাহমুদা

সাময়িকী'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj