তরুতলে শান্তিনিকেতন

শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪

(পূর্ব প্রকাশের পর)

পুনরায় যখন শালে ফুল এসেছে অসংখ্য অগনিত কঁচি পাতার শীর্ষে ফুল ফুটেছে, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফুলদেহে শাল ব্যাকুলিত তখন কবি দিশেহারা-

এই তো ভাল লেগে ছিল আলোর নাচন পাতায় পাতায়

শালের বনে খ্যাপা হাওয়া, এই তো আমার মনকে মাতায়।

শম্পা বলছে, জান কি এ কবিতাটির কোথাও আছে “চোখে তোমার বীণা বাজায়।” চোখ কেন বীণা বাজাবে?

হাত রইল, মন রইল তবু কবি কেন চোখের বীণার কথা বলেছেন? এ কথার উত্তর কী বল- শম্পা আমার দিকে তাকায়।

তাইতো আমি ভাবি। এ ভাবেতো ভেবে দেখিনি কখনো। তবে কি এই কবিতা? নুতন করে সংস্থাপনের মধ্যে যে আবেগের নতুন রূপায়ন ঘটে তাই কবিতা? আমি বলি, তা কি এমন যে, “খাট নাই,পালং নাই চোখ পেতে বস?” এই চোখ পেতে বসই কবিতার নব জন্ম ঘটায়? শম্পা শুনে হাসে। ও আপন মনে বলতে থাকে সত্যিই বুঝি তাই। আমারা হাঁটতে থাকি- পাশে বিশাল শালমঞ্জরী। হাওয়ায় কাঁপে ওদের দিগম্বর শরীর জুড়ে নতুন পাতা ফোটা, ফুল ভরা নীরব সৌন্দর্য। হাওয়ায় কাঁপা বৃহৎ, বড় ডালের দোলা দেখে কবিযে আন্দোলিত হয়েছিলেন তাই দেখে আমিও যখন ভাবি, কত সহজে মেনে নিচ্ছি রবীন্দ্র অনুপস্থিতি। এখানে একদিন তিনি ছিলেন- আজ তিনি নেই। এ এক কঠিন সত্য- জানি না কী করে মেনে নিচ্ছি শম্পাকে বলতে শুধুই এক দীর্ঘশ্বাস আমাদের বুকের গভীর ফুঁরে বেড়িয়ে আসে- আর আমরা সময়ের নৌকোতে চেপে কেবলি দ্বিখন্ডিত হই।

এই শালবীথিতল বড় মোহময়। বড় গাছের বড় ছায়ায় সমস্ত এলাকাটা বীণার মধুর ঝংকারে বেজে ওঠে নি:শব্দ রৌদ্রলোকেও কেমন মায়া গন্ধী। খুব শীতলও বটে । এর সাথে সোজা পথের টান বড় অলৌকিক। গিয়ে শেষ হয়ে গৌর প্রাঙ্গনে একাকার হয়ে সম্মুখে এগিযে চলছে। পাশে শমীন্দ্র পাঠাগার। রবীন্দ্রনাথের মৃত কনিষ্ট পুত্রের স্মৃতি ধারণ করে নীরবে দাঁড়িয়ে। সে অকালে ঝলে যায় রবীন্দ্রনাথের কোল থেকে দূরে মংপুতে বসে কলেরায়। রবীন্দ্রনাথ তাও সয়ে ছিলেন। কী যে প্রসন্ন বেদনায় একে একে সকল আপন জনদের মৃত্যুকে অবলোকন করে নিজে প্রিয় এবং অবধারিত সুন্দর মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছিলেন তাই ভাবি- বলতে বলতে আমি শম্পাকে হাতে ধরে সিংহ সদনের সান বাঁধানো কাঠ মলিকার ঝারের নিচে বসি। ক্লান্তও লাগে। তাকিয়ে দেখি, উত্তর শিক্ষা সদনের ছেলেরা মেয়েরা গেরুয়া কাপড়ের খোটে বর্ণিল কাঁকড় তুলে কী যেন খেলার জন্য তৈরি হচ্ছে।

ওদিকে তাকিয়ে শম্পা বলে, জানো দুলাল, উত্তরশিক্ষা সদনে আমিও যখন পড়তাম সাইকেলে চেপে এইখানে এসে আমিও পাথরের নুড়ি কুড়াতাম। কী যে ভালো লাগত। সেই পাথর নুড়িগুলো এখনো ওখানে পড়ে আছে আর আমি সরে গেছি কোথায় কতদূরে। ভর্তি হলাম বাংলা সাহিত্যে। তারপর কোথা থেকে তুমি এসে জুটলে। থাক সে কথা- দেখ, বৃক্ষের ঐ ঘনিষ্ট সাহচর্যের মধ্যে জীবনের সুন্দর বোধগুলো কত সহজেই ঝলমল করে উঠেছে। কিশোর কিশোরী ছেলে-মেয়েগুলো কত সহজ সুন্দর করে জীবনকে আবেগ দিয়ে জড়িয়ে ধরেছে। খোলা আকাশ- বৃক্ষময় চারিধার। এর মধ্যে জীবন কত সুন্দর ভাবে ফুটে উঠেতে পারে। এখানেই বোধ হয় রবীন্দ্রনাথ সার্থক ও সফল।

নয়.

শালবীথির পূর্ব প্রান্তে “মৃনালিনী ছাত্রীবাস” ছাড়িয়ে দেহলী বাড়ি। দোতালা। উত্তরায়ণ তাঁর নিজস্ব আবাস এলাকা। এ এলাকা বাদে আর যেখানে কবি বাস করতেন তা এই দেহলী। তাঁর স্ত্রী পুত্র কন্যাদের নিয়ে এখানেই প্রথম থাকেন। তখনতো তিনি তাঁর পদ্মা শিলাইদহ ও পতিসর ছেড়ে এসে এখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তোমরা আর রবীন্দ্রনাথকে ধরে রাখতে পারলে না; বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের জেরও শেষ- কবি এসে নূতন কবিতা তাঁর ‘শন্তিনিকেতন’ রচনায় এই লালমাটির দেশ বীরভূমে তাঁর পিতার সাধনার পীঠস্থান শান্তিনিকেতন বেছে নিলেন, তোমরা হেরে গেলে, পেলেনা আর রবীন্দ্রনাথকে। এতগুলো কথা বলতে বলতে হেসে দম নিল শম্পা।

হ্যাঁ হেরে গেলাম শম্পা। সত্যি হেরে গেল পূর্ব বাংলা। তখনোতো ভারত ভাগের কথা ওঠেনি। তবেতো তিনি ওখানেই এই শান্তিনিকেতন, এই বিশ্বভারতী গড়তে পারতেন। পদ্মা ও শিলাইদহতো তাঁর সৃষ্টির মহাযজ্ঞের এক মহতি উৎস, তাঁর সৃজনের বড় নিয়ামক শাক্তি। তবে কেন শিলাইদহ বঞ্চিত হল এ কথা আমিও ভাবি শম্পা। ঐতিহাসিক কারণ যাই হোক, মনোগত কারণ একটা বড় বিষয় ছিল হয়ত। পিতার পছন্দ ছিল এই উদাস, জনবিরল রাঙ্গামাটির দেশ, দুটি ছাতিম দম্পতির এক বিরল অবস্থান, নুতন মাটি ফেলে বৃক্ষের আবাসস্থল নির্মান- সেই হিমালয় যাবার বাল্য স্মৃতি, ভ্রাতুষ্পুত্র বলেন্দ্রনাথ কর্তৃক প্রথম একটি ব্রাহ্ম বিদ্যালয় স্থাপনের গোড়া পত্তন। এ সবের সাথে কবির মনোগত সংযোগ ও প্রনোদনা কাজ করে পরবর্তীতে গড়ে উঠেছে আজকের শান্তিনিকেতন।

তা হয়ত হবে, বলে, শম্পা আমাকে টেনে নিয়ে যায় দেহলীর পেছেনে; যেখানে মাধবী ও কাঠ মলিকারা চাপ চাপ গন্ধ বিলাচ্ছে। এর চারিদিকে ইতস্তত: আমলকী, আম ও অল্প দূরে একটি তাল তার দ্রাবিড় শরির নিয়ে এক পায়ে দাঁড়িয়ে। পাশে নকল পর্ব্বতটি। শিশু বিভাগের ছেলেরা ও মেয়েরা আজো ওর গা বেয়ে উঠতে উঠতে পর্ব্বত আরোহনের স্বাদ মেটায়। উপরে বিশাল বট তার ডাল থেকে ঝুল মূল নামিয়ে বাচ্চাদের নূতন নূতন আনন্দের খোরাক মেটাচ্ছে। এখানে বসে শিশুমেলা- আমিও আসতাম বোলপুর থেকে, বাবা ছাইকেলে চাপিয়ে দিয়ে যেতেন। খুব ভোরে বালক বালিকাদের নিয়ে দিদিমনিরা বসে যান। পাঠশালায় যা পড়ানো হতে পারে তাই এখনো পড়ান হয়। তবে আনন্দের মধ্য দিয়ে, হাসি ও খেলাখেলির মধ্য দিয়ে। পড়া হয়ত কিছুই হয় না- হয় শুধু বটের ঝুল মূলে দোল খাওয়া, গাছে ওঠা- আর সে কী সদা সর্বদা হই চই! যেন মনে হয়, ইচ্ছে করেই শিক্ষকরূপী দাদা দিদিরা এদের ঘর থেকে ডেকে এনে প্রকৃতির সাথে সখ্যতা গড়ে দেয়। এই এদের আনন্দ পাঠশালা, এই এদের শিশু মেলা যা রবীন্দ্রনাথের পতœী মৃনালিনী দেবীর স্মরণে ‘আনন্দ আশ্রম’ নামে শিশুতোষ বিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছে।

দেহলীর দেয়াল ধরে মাধবীর ঝাড়। থোকা থোকা ফুলগুলো হাসি খুশিতে মশগুল শিশুদের মত ফুটে আছে। আমি বিদ্যাভবন হোষ্টেল থেকে পূর্বের প্রধান ফটক পেরিয়ে বিদ্যাভবনে ক্লাস করতে যেতে কত দিন দাঁড়িয়ে দেখেছি শাসনহীন নিবিড় পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যে শিশুদের নিয়ে খেলার ছলে পড়ায় মশগুল। দেখে দেখে মনে হত রবীন্দ্রনাথের মূল শিক্ষা দর্শনটি এভাবেই শিশুচিত্তে ছড়িয়ে দেবার এ এক অভিনব আয়োজন। যা কিনা সম্ভবের মধ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গতা লাভ করে। কারণ তখন ওরা গাইছিল-

আজ ধানের ক্ষেতে রৌদ্র ছায়ায়

লুকোচুরি খেলা-

নীল আকাশে কে ভাসালে

সাদা মেঘের ভেলা।

আমি ও শম্পা তখন দূরে দাঁড়িয়ে দেখছি। বটের ঝুল মূল ধরে যে বাচ্চাগুলো দোল খাচ্ছে দিদি মনিরা তাদের জোরে জোরে ধাক্কা দিচ্ছে আর মুখে নামতা পড়াচ্ছে। কী অদ্ভুত শিক্ষাদান পদ্ধতি। অন্যত্র দেখি আমলকির নিচে দাঁড়িয়ে কিছু বাচ্চা মেয়েরা নাচছে পাশে দাঁড়িয়ে দিদিমনিরা তাল দিচ্ছেন। এ সব দেখে আমার মনে হচ্ছিল, কী সদ্ভাবের মধ্য দিয়ে একজন শিক্ষক কত সহজে, স্বভাবের সাথে সঙ্গতি রেখে বাচ্চাদের অন্তরের চেতনাকে জাগিয়ে দিতে পারছে। মনে হচ্ছিল, প্রকৃতি ও বৃক্ষলতা পাতার সান্নিধ্যে শিশু মনকে জাগিয়ে দিতে পারাটাই যেন জীবনের শুভ সূচনা- এভাবেই এদের মন আনন্দ ফূর্তিতে ভরে উঠে বড় হয়ে একসময় নব নব সৃষ্টির প্রেরণায় উন্মোচিত হয়।

শম্পা বলছে, আমি পাশ করে বাচ্চাদের বিভাগে শিক্ষক হতে চাই। জানিনা আমার সে আশা পূড়ন হবে কিনা। বললাম হবে, “যদি পণ করেই থাকিস সে পণ তোমার রবেই রবে”। “বেশ দেখা যাক তোমার কথা ফলে কিনা।” পুনরায় আমার দিকে তাকিয়ে শম্পা বলছে, রবীন্দ্রনাথের একটি কবিতা আছে না “কুটির বাস”? কবিতাটির ভূমিকায় কবি এক শান্তিনিকেতনবাসী সম্পর্কে বলছেন-

“তরু বিলাসী আমাদের এক তরুণ বন্ধু (অধ্যাপক তেজশ চন্দ্র সেন) এই আশ্রমের এক কোনে পথের ধারে একখানি গোলাকার কুটির রচনা করেছেন। সেটি হচ্ছে একটি পুরাতন তাল গাছের চরণ বেষ্টন করে। তাই তার নাম হয়েছে তালধ্বজ। এটি যেন মৌচাকের মতো, নিভৃত বাসের মধু দিয়ে ভরা। লোভনীয় বলেই মনে করি, সেই সঙ্গে এতে মনে হয়, বাসস্থান সম্বন্ধে অধিকারভেদ আছে যেখানে আশ্রয় নেবার ইচ্ছা থাকে সেখানে হয়ত আশ্রয় নেবার যোগ্যতা থাকে না।”

আমরা তখন তালধ্বজের পাশে বসে। শম্পা বলছে, এই কবিতার পাণ্ডুলিপিতে আরম্ভেই এই অসংকলিত স্তবক পাওয়া যায় ”-

বাসাটি বেঁধে আছ মুক্ত দ্বারে

বটের ছায়াটিতে পথের ধারে

সমুখ দিয়ে যাই; মনেতে ভাবি

তোমার ঘরে ছিল আমার দাবি-

হারায়ে ফেলেছি সে ঘূর্ণিবায়ে

অনেক কাজে আর অনেক দায়ে

এখানে পথে চলা পথিক জনা

আপনি এসে বসে অন্যমনা ।

তাহার বাসা সেও চলারই তালে,

তাহার আনাগোনা সজহ চালে।

আসন লঘু তার, অল্প বোঝা-

সোজা সে চলে আসে, যায় সে সোজা

আমি যে ফাঁদি ভিত, বিরাম ভুলি

চূড়ার পরে চূড়া আকাশে তুলি।

আমি যে ভাবনার জটিল জালে

বাঁধিয়া নিতে চাই সুদূর কালে-

সে জালে আপনারে জড়াই ঠেসে

পথের অধিকার হারাই শেষে

হায় রবীন্দ্রনাথ! তোমার অন্তর্ধান হয়েছে আজ কত দিন। কিন্তু আজো তোমাকে আমরা চিনিনি। চিনতে পরিনি। কারণ মনের স্তরগত পার্থক্য। আমরা আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ- সৃষ্টি করিনা। অন্য কাউকে মন্দ বলার মধ্যেই আমরা এক ধরণের আত্মতৃপ্তি পাই। এ সব মূঢ়তার পশ্চাতে যে সুশিক্ষার প্রয়োজন তা আজো এ দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। শিক্ষার মূল সুরটি কী হওয়া উচিৎ কী হলে মন সব সংঙ্কীর্নতা থেকে উর্দ্ধে উঠে আসবে- কী শান্ত সুর শিখলে আমরা মহানুভব হয়ে উঠব- শিক্ষা সিলেবাসে তার কোন চিহ্ন নেই, প্রক্রিয়া নেই জীবনকে তৈরি করার ক্ষেত্রে কোন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য।

মন বলেও কিছু নেই। মনতো চিন্তা, যুক্তি ও অনুভবের সম্মেলন। কী করে আমরা চিন্তা করব- মাথা খাটাব আর অনুভব করব তার জন্য কোন দ্বার শিক্ষার্থীর সামনে খোলা নেই। আমারতো মনে হয়, এই নেই বলেই শিক্ষার্থীর মানস স্রোত একদিন শুকিয়ে যায়। ফলে যা হয় তা সবই শুকনো ছোবড়া। মনের উপযুক্ত খাবার আমরা পাইনা- তাই কেমন তালগোল পাকানো বাঙালি জীবন। রবীন্দ্রনাথ একা সেখানে কী করবেন?

শম্পার জন্য আমার কষ্ট হয়। কিন্তু ভালো লাগে অতনুকে। শম্পা আমার শান্তিনিকেতনের গাইড অতনু আমার তত্ত্বাবধায়ক। শম্পার সাথে পথ চলার আনন্দ- রাবিন্দ্রীক অতীত খুঁজতে খঁজতে খুঁজে পাই শান্তিনিকেতন। সেখানে এই ত্রয়ী বন্ধু আমরা একে অন্যের পরিপূরক। কিছু মমতা, কিছু গান ও কবিতার সান্নিধ্যে শম্পা শম্পা হয়ে উঠেছে অতল জলের মত স্বচ্ছ ও সাবলীল। শান্তিনিকেতনের নির্জন নিসর্গবাসে শম্পার মত যে সু-ভদ্রা তাকে না হলেই নয়। এখানের প্রতিটি বৃক্ষজ আবেগের সাথে তার ওঠা নামা, শ্বাস প্রশ্বাস- যে নাকি স্বপ্ন ও কল্পনার পিপাসা বাড়াতে পারে। এর অতিরিক্ত আমি স্পর্শ করতে চাইনি। আকাশের সেই অঢেল চন্দ্র রশ্মির সাথে সাথে যে দিন ভূবন ডাঙ্গার পথ পাড়ি দিচ্ছিলাম সে রাতে বলেছিলাম, “পাপের রূপ কেমন জানিনে তবে না পাওয়ার মধ্যে একদিন সাঙ্গ হবে এই পথ চলা। ”

এই পথ চলা শেষ হতে প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল আমার অতনুকে, কাউকে বলতে। সে তার উপস্থিতির মধ্যে সামগ্রিক আবেদন জানায়।

কল্পনা বৃত্তির অনুরাগ শেষে বৃদ্ধিবৃত্তির জটিলতায়, দুর্দমতায় সে যখন হোষ্টেলের এক তালা থেকে অন্য তালায় আমাকে হাঁক দেয় দুলাল, দুলাল। তখন আমি আলোড়িত হই। শম্পা তা পারে না। অতনু ডাক দিল, চল ,চল আজ বিকেলে সোনাঝুরি বনে যাব। চল, চল ধ্যোৎ তুমি বড় দেরি কর।”

অতনু ওরকমই। সর্বত্রই ওর প্রাণের জোর । আমাকে ঘরের বার করে তবে ছাড়বে। টগবগ করে ফোটে। তাই ও ভাসিয়ে নিতে পারে। কোন দিন সঙ্গে নিয়ে আসে ওদের বাসার লেবু। বলবে মা পাঠিয়েছে; “কী খাও,না খাও; এগুলো দিয়ে খাবে।”

কোন দিন টেনে নিয়ে যাবে রতন পলীতে, ওদের বাসায়। পাশে বসিয়ে ওর মা ওদের তিন ভাই ও আমাকে খেতে দেবে। আমি মনে মনে ভাবি কেন এরকম করে। বিদ্যাভবন হোষ্টেলের খাবার যে দু’তিন দিন এক সাথে খেলেই আর ভালো লাগেনা তাই এরকম করে।

মনে পড়ে প্রথম ক’দিনের কথা। বিদ্যাভবন ছাত্রাবাসে থাকব কিন্তু মাসের মাঝামাঝি বলে খেতে হবে অন্যত্র। সকল ছেলে মেয়েদের জন্য দুপুরে ক্লাস শেষে একটা কেন্টিনে খাবারের ব্যবস্থা ছিল। আমি ঢুকেছি কিন্তু কীভাবে কী করতে হবে জানিনে। একটি মেয়ে দেখে কী বুঝল কে জানে। হেসে এগিয়ে এসে বসতে বলে একটা থালা নিল। ধুইয়ে আনল। পরে ওর আর আমার জন্য ভাত, ডাল, তরকারি এনে একটা থালা আমার সামনে রেখে বলল, খাও। পরে ক্লাশ শেষে মাঝে মাঝেই ওর সাথে দেখা হত। (চলবে)

:: দু লা ল স র কা র

সাময়িকী'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj