প্রাণ অপ্রাণের সীমান্তে

শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪

– রেজাউদ্দিন স্টালিন

আমরা দুই বন্ধু হাঁটছিলাম

রাত্রির হৃদয় ভেঙে আমাদের গল্পের ঢেউ

গড়িয়ে যাচ্ছিলো পথের নদীর ওপর

দুপাশের বাড়িগুলো থেকে আলোর উল্লাস

ঠিকরে পড়ছিলো সড়কের সৈকতে

চমৎকার জ্যোৎস্নার মধ্যে আমাদের বিতর্কের বিদ্যুৎ

ছোটাছুটি করছিলো বাতাসের বেলাভূমে

প্রাণ ও অপ্রাণের সংজ্ঞায় কণ্ঠ ভিজিয়ে

আমরা বললাম : প্রাণের অস্তিত্ব দীর্ঘসূত্রী

জ্যামিতিক জিজ্ঞাসার মতো

বিন্দুকে কেন্দ্র করে বৃত্তের বিকাশ যেমন

আর অপ্রাণ বর্ণনার অতীত

প্রাণের ভেতর তীব্র নীরবতা

এরকম কাব্যিক বিশ্লেষণ আমাদের কারো মনঃপুত হলো না জেনে

আমরা প্রসঙ্গ পাল্টে ফেললাম

বললাম আজকের রাতটা সুন্দর

ভালোবাসার জন্য এরকম একটি রাত সত্যি চমৎকার

জানো জ্যোৎস্নাতাড়িত হয়ে তৃষ্ণাকে একদিন চুমু খেয়েছিলাম

তার কিছু রেশ বয়ে যাচ্ছে আমার দুচোখ ঠোঁট ও মনের ওপর

বন্ধু বললো-কিন্তু সন্ধ্যাকে চুমু খেতে গিয়ে

ভীরু পাখির মতো আমার বুক কেঁপে উঠেছিলো

আমার সাহস কণ্ঠের ভেতর আটকে গিয়ে

বিষণœ বাংলার মতো ঝুলে ছিলো চাঁদের আঁকসিতে

হেসে ফেললাম, অবিবাহিত যুবক হিসাবে আমাদের জৈবিক জীবনের

স্বাদ ভবিষ্যতের দেরাজে সংরক্ষিত

বন্ধুটি প্রশ্ন করলো-কিন্তু সেরকম নিশ্চয়তা কোথায়

আমাদের স্বপ্নের স্রোত

অর্থের আহ্নিক দ্রাঘিমায় স্থির হয়ে আছে

আমাদের চাহিদা চাতক পাখির মতো অন্ধ ও তৃষ্ণাতাড়িত

তৃতীয় বিশ্বের মানুষ হিসাবে এটুকু বন্ধ্যা অহংকার নিয়ে

জলহীন হাওয়াহীন খাদ্যহীন উদ্দেশ্যবিহীন আমরা হেঁটে যাচ্ছি

মুহূর্তে সম্বিত পেলাম

সত্যি আমরা অনেক দূরে এক অচেনা পাড়ায় পতিত হয়েছি

এবং রাত গভীর হয়েছে

এখনও দু’একটা বাড়ির ব্রীড়ানতা আলো

তাদের ময়ূরপুচ্ছ জানালার ফাঁক দিয়ে গলিয়ে দিয়েছে

আমি বললাম তবু বিতর্কের সিদ্ধান্তে আমাদের বলা প্রয়োজন

এর জন্য দায়ী সন্দিগ্ধ সমাজ

একথা বলার অপেক্ষা রাখে না, বন্ধু বললো

দ্যাখো আমরা সা¤্রাজ্যবাদের ব্রোথেলে আমন্ত্রিত হচ্ছি প্রতিদিন

জাতিসংষের ঠোঁটে মানবতার তিলের তারিফ করছি

আমাদের সচেতন সময়ের মধ্যে এই মানবিক অপরাধ

বড় হচ্ছে দীর্ঘ হচ্ছে দীর্ঘতর

আমাদের হাঁটাপথের ভেতর বাড়িগুলো গাছগুলো

বড় একা বড় বিষণœ হয়ে আসছে

একটি হন্তা-হতাশা তার উদ্যত ফলা

উঁচিয়ে ধরেছে আমাদের হৃদয়ের দিকে

আমি বললাম জানো, গল্পচ্ছলে আমরা ঢুকে পড়েছি

জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য

একটি রাজনৈতিক বলয়ের ভেতর

এ মুহূর্তে সেই সব মানুষের সাথে

আমাদের জিজ্ঞাসা কেমন মিলে যাচ্ছে দ্যাখো

ইমু পাখির সঙ্গীত শোনার জন্যে যারা উদয় পর্যন্ত অপেক্ষমাণ

যারা দিন ও রাত্রির গর্ভে ঘনতার স্বপ্নের চাষাবাদ করে

যেখানে কৃষ্ণবর্ণ সুন্দরীরা তাদের সন্তানদের

সমুদ্রের পাশব গল্প শোনায়

যেখানে হীরের হরিণ ছোটে লোহিতাভ মাটির প্রদেশে

সেই দেশ আর সেই সব মানুষের সাথে

আমাদের অন্তরের কিরকম যোগসূত্র দেখো

আমি আনন্দে প্রায় চিৎকার করে উঠলাম

আমরা এখনই প্রাণের সংজ্ঞার সাক্ষাৎ পাবো

কিন্তু বন্ধুটির কেন জানি ভয় হলো

সে বললো-জানো অতিরিক্ত সুখ কিংবা দুঃখের সময়

আমি বোবা হয়ে যাই

আর এসময় কেউ সিদ্ধান্তের জন্যে অপেক্ষা করে না

সে মুহূর্তে আমার বোধ হলো

আমাদের ফিরতে হবে

সাময়িকী'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj