অক্টোবরে আওয়ামী লীগের সম্মেলন: কাদের

আগের সংবাদ

জমে উঠেছে খুলনা-চিটাগং লড়াই

পরের সংবাদ

হল বন্ধের খবর শুনলে খারাপ লাগে: ইলিয়াস কাঞ্চন

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ১২, ২০১৯ , ৫:০২ অপরাহ্ণ | আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০১৯, ৫:১৫ অপরাহ্ণ

দেশীয় চলচ্চিত্রের সরকারি অনুদান প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করলেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি মনে করেন, চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য অনুদান না দিয়ে বরং নির্মিত হওয়া ভালো চলচ্চিত্রকে পুরস্কার হিসেবে সরকারি অনুদান দেয়া উচিত। সরকারি অনুদান নিয়ে অনেকে চলচ্চিত্র নির্মাণই করেননি। আবার অনেকে নির্মাণ করেছেন, সেগুলো মান-সম্পন্ন চলচ্চিত্র হয়ে ওঠেনি বলে অভিযোগ এই তারকার। সম্প্রতি ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। এই অভিনেতা বলেন, বর্তমানে আমাদের চলচ্চিত্রের যে অবস্থা তাতে এ ধরনের উৎসব আরো বেশি হওয়া উচিত। সেই সঙ্গে সরকারের আরো বেশি পৃষ্ঠপোষকতা করা দরকার। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে এর কোনো বিকল্প নেই। তবে যে পদ্ধতিতে বর্তমানে সরকার চলচ্চিত্রকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে, বিশেষ করে অনুদানের কথা বলব। সে পদ্ধতিটারও পরিবর্তন করা দরকার। এখন যে টাকাটা চলচ্চিত্র নির্মাণ করার জন্য নির্মাতাদের দেয়া হয়, এ টাকা দিয়ে আসলে চলচ্চিত্র নির্মাণ করা যায় না। তারপরও তারা করছেন। প্রতি বছর দেশে যেসব চলচ্চিত্র নির্মিত হয়, সেখান থেকে বাছাই করে যদি ১০টা ভালো চলচ্চিত্রকে পুরস্কার দেয়া হয়, তাহলে ভালো ছবি নির্মাণের প্রবণতা বাড়বে। যে নির্মাতাই ছবিটি নির্মাণ করুন না কেন, তার যদি চিন্তার মধ্যে থাকে, আমি যে ছবিটা নির্মাণ করছি, সেটি যদি মানসম্পন্ন করে নির্মাণ করি, তাহলে সরকারের কাছ থেকে একটা পুরস্কার পেতে পারি। একমাত্র তখনই ভালো চলচ্চিত্র পাওয়া যাবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। দেশের সিনেমা হলের বেহাল দশারও সমালোচনা করেন ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি বলেন, আমি দেশের বাইরে গেলে কখনো এমন হয়নি যে সিনেমা দেখিনি। কেন যাই? কারণ আমি এক ধরনের তাগিদ অনুভব করি। ছবি দেখার পরিবেশটাই মূলত সে তাগিদ ভেতরে তৈরি করে দেয়।
কিন্তু আমাদের দেশে প্রায়ই সিনেমা হল বন্ধের খবর শুনি। খুব খারাপ লাগে। কারণ আমি আজ যে অবস্থানে আছি সেটা কিন্তু এই চলচ্চিত্রের জন্যই। সরকারের দিক থেকে যদি একটা নির্দেশনা থাকত, যেখানেই মার্কেট নির্মাণ হবে, সেখানে ছোট করে হলেও একটা সিনেমা হল নির্মাণ করতে হবে; তাহলে হয়তো চিত্রটা আজ ভিন্ন হতো।
আমাদের অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে যেন ভুল না হয়, সে দিকটা নিয়ে আমাদের ভাবা উচিত। দর্শককে শুধু সিনেমা হল করেই দিলেই হবে না। পাশাপাশি রিফ্রেশমেন্টেরও ব্যবস্থা করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্স ও যমুনা ফিউচার পার্কের ব্লকবাস্টারের কথা। তাদের মতো করে এগুতে হবে। বিদেশের সিনেমা হলগুলো কিন্তু এ ধরনেরই।
ইলিয়াস কাঞ্চন ১৯৭৭ সালে ‘বসুন্ধরা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয় শুরু করেন। অভিনয় ছাড়াও তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিচালনার সঙ্গে জড়িত। তার প্রযোজিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘মাটির কসম’ আর পরিচালনা শুরু করেন ‘বাবা আমার বাবা’ চলচ্চিত্র দিয়ে। বর্তমানে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন নিয়েও আলোচিত হয়েছেন তিনি। এ ছাড়া নিরাপদ ইভেন্টস নামে তার একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আসছে অমর একুশে গ্রন্থমেলার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে ইলিয়াস কাঞ্চনের মালিকানাধীন নিরাপদ ইভেন্টস।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা