বিপিএল ফেরা হচ্ছে না স্মিথের

আগের সংবাদ

অক্টোবরে আওয়ামী লীগের সম্মেলন: কাদের

পরের সংবাদ

নতুন গন্তব্যে কমেডি নাটক

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ১২, ২০১৯ , ৪:০৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০১৯, ৪:০৮ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্যাকেজ যুগ আসার পরও অনেকদিন নাটক তার চেনা বৃত্ত থেকে বেরুতে পারেনি। একুশে টেলিভিশন সম্প্রচারে আসার পর নাটক নির্মাণের ধরন বদলে যায়। বিটিভির পরিচিতি ছকের ভেতরেও যারা নাটক নির্মাণে বৈচিত্র্য আনতে চাইছিলেন, তাদেরই একজন সালাহউদ্দিন লাভলু। ইটিভি চালুর পরও তিনি তার প্রচেষ্টা জারি রাখেন। এনটিভি আত্মপ্রকাশের কিছুদিন পরই এই চ্যানেলের জন্য নির্মাণ করেন ‘রঙের মানুষ’। এনটিভি যে অসংখ্য দর্শকপ্রিয় নাটক প্রচার করে তার মধ্যে ট্রেন্ডসেটার বলা চলে ‘রঙের মানুষ’কেই। এই নাটকের জনপ্রিয়তার পর বাংলাদেশের নাটকে কমেডি ধারা হয়ে ওঠে সবচেয়ে শক্তিশালী। দেড় দশক পেরিয়েও শত শত নাটকে ‘রঙের মানুষ’র ছায়া। গ্রামকেন্দ্রিক গল্পের অধিকাংশ কমেডি নাটকই ‘রঙের মানুষ’র কাছ থেকে মাল-মসলা নিচ্ছে। ফলে কমেডি নাটক হয়ে পড়েছে একঘেয়ে।
এটি কমেডি নাটকের একটি বাস্তবতা। আরেকটি বাস্তবতা হচ্ছে পুনরাবৃত্তির দোষে দুষ্ট হওয়ার পর কমেডি নাটকের জনপ্রিয়তায় চিড় ধরছে না। প্রচণ্ড সমালোচনার মুখেও কমেডি নাটকে আসছে না বৈচিত্র্য। তারপরও দর্শকরা গোগ্রাসে কমেডি নাটক গিলছেন। গ্রামকেন্দ্রিক গল্পের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অনেক আগেই শহুরে কমেডি এসেছে দর্শকদের বিনোদনের একঘেয়েমি কাটাতে। কিন্তু এই ধারাটিও একই বৃত্তেই যেন বারবার পাঁক খাচ্ছে। পুরান ঢাকার প্রেক্ষাপটে কিছু নাটক হচ্ছে। কিছু নাটক হচ্ছে অ্যাপার্টমেন্টকেন্দ্রিক গল্পে। গ্রামের গল্পের মতো শহরের গল্পও একঘেয়ে ছকে হিমশিম খাচ্ছে।
গত বছর হঠাৎ করেই সিরিয়াস গল্পের নাটক দর্শকদের মন জোগাতে সফল হয়। অনেকে ভেবেছিলেন যে, এবার কমেডি গল্পের বুঝি দিন শেষ! আসলে কোথায় কী! কমেডি নাটক তার পুরনো গৌরব বুকে নিয়েই বীরদর্পে চ্যানেলে চ্যানেলে রাজত্ব করতে থাকে। কমেডি নাটক, সিরিয়াস নাটকের চেয়ে কয়েক ধাপে এগিয়ে যায় ইউটিউবে দর্শক-বিস্ফোরণ ঘটার পর। এই প্ল্যাটফর্মে কমেডি নাটকেরই একচ্ছত্র আধিপত্য। চ্যানেলের দর্শক উৎসবকেন্দ্রিক হলেও ইউটিউবে বছরজুড়েই কমেডি নাটকের ‘ভিউ’ লাখ লাখ। তুলনায় সিরিয়াস নাটকের দর্শকপ্রিয়তা অনেক পেছনে।
কমেডি নাটকের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ। নাটকের সংলাপ সস্তা। অভিনয় শিল্পীদের অভিনয় দুর্বল। নির্মাণে কোনো চমক নেই। একঘেয়ে শুটিং লোকেশন। আর হাস্যরসের নামে ভাঁড়ামি। এসব অভিযোগ যেন নির্মাতা আর দর্শক দুই শ্রেণির কেউই কানে তুলছেন না। নির্মাতারা একই তরিকায় নাটকের পর নাটক বানিয়ে যাচ্ছেন। দর্শকরা সেসব নাটক দেখতে আগে চ্যানেলের রিমোট ঘুরাতেন, এখন ইউটিউবে লিংক খুঁজে বেড়াচ্ছেন। ইউটিউবে অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, কমেডি নাটকের প্রতি দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহ। দর্শকরা নাটকে দেখেছেন আর নিজেদের ভালোলাগার কথা কমেন্ট বক্সে ফেলছেন। চ্যানেলের দর্শকরা চললেও, ইউটিউব কমেডি নাটকের এক নতুন জগত খুলে দিয়েছে।
তারা মানের কারণে কমেডি নাটকের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন, তারা বিস্ময়ে লক্ষ করছেন যে, কমেডি নাটকের নতুন নতুন দরজা খুলে যাচ্ছে। দর্শকরা নির্মল হাসির সন্ধানে যাচ্ছেন ইউটিউবে, বদলে পাচ্ছেন ভাঁড়ামো। তারপরও তাদের চাহিদায় কোনো ক্লান্তি নেই। মোশাররফ করিমের কাছ থেকে নতুন নতুন কমেডি নাটক তাদের প্রত্যাশা। কমেডি নাটকের এই অঘোষিত যুবরাজ রয়েছেন, রয়েছেন আরো এক ঝাঁক অভিনেতা-অভিনেত্রীর সঙ্গে দর্শকদের পরিচয়। এই শিল্পীদের কমেডি অভিনয়ের প্রতি দর্শকদের দারুণ আগ্রহ। নাটকের গুণ-মান যাই হোক, চেনা মুখ থাকলেই দর্শকরা নাটক দেখতে আগ্রহবোধ করছেন। দর্শকদের আগ্রহে ভাটার কোনো লক্ষণ নেই।
ফলে কমেডি নাটকের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ আর নেই সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। উৎকণ্ঠা আছে কমেডি নাটকের মানের ব্যাপারে। যে নিম্ন মান বছরের পর বছর সমালোচনার মুখেও অটুট। গত বছর বেশ কয়েকটি কমেডি নাটক প্রশংসিত হয়েছে। নজর কেড়ে নিয়েছে সমালোচকদের। দর্শকরা এসব নাটক দেখে নিজেদের সুরুচির পরিচয় দিয়েছেন। এই নাটকগুলো ব্যতিক্রম হয়েই রয়ে গেছে। মোটা দাগে এখনো ভাঁড়ামিপূর্ণ কমেডি নাটকেরই দৌরাত্ম্য। এসব নাটক বাংলাদেশের টিভি নাটকের ঐতিহ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সচেতন নাট্যশিল্পী ও নাট্যনির্দেশকরা এসব কমেডি নাটক থেকে দর্শকদের ‘মুক্ত’ করারও দাবি জানিয়ে আসছেন অনেকদিন ধরে। কিন্তু নাট্য প্রযোজক ও চ্যানেল কর্তৃপক্ষের সস্তা নাটকের প্রতি পক্ষপাত নাট্যকর্মীদের দাবিকে অঙ্কুরেই নষ্ট করে দিচ্ছে। কমেডি নাটকে আসছে না কোনো ধরনের মৌলিক পরিবর্তন।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা