টসে হেরে ব্যাটিংয়ে রাজশাহী কিংস

আগের সংবাদ

আওয়ামী লীগের বিজয়ে তৃণমূল কর্মীদের ভূমিকা

পরের সংবাদ

শীতার্তদের জন্য এখনই ব্যবস্থা নিন

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ১১, ২০১৯ , ৮:৩৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: জানুয়ারি ১১, ২০১৯, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ

তাপমাত্রা কমে গিয়ে সারাদেশেই এখন কনকনে শীত। রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রামসহ উত্তরের জেলাগুলোতে এরই মাঝে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। জানা গেছে, বছরের শুরুতেই পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে।

এ ছাড়া উত্তরের কয়েকটি জেলাতেও তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে ওঠানামা করছে। এসব এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। হাড় কাঁপানো শীত আর হিমেল বাতাসে এক প্রকার থমকে গেছে সেসব এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এবারের শীতে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে একটি থেকে দুটি মৃদু ও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। ফলে শীত আর শীতজনিত রোগবালাই আরো বেশি কষ্ট ও প্রাণনাশের কারণ হয়ে উঠতে পারে। এখনই উচিত শীতার্তদের রক্ষায় ব্যবস্থা নেয়া। ঋতু পরিক্রমায় প্রতি বছরই শীত আসে। শীত পোশাকি ঋতু হিসেবে সচ্ছল মানুষের পছন্দের হলেও গরিব মানুষের জন্য যারপরনাই বিপদের- কষ্ট ও ভোগান্তির।

বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের শীতে সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত হতে হয়। একে শীতের কষ্ট, তার ওপর নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানিসহ শীতজনিত রোগের প্রকোপ। গ্রাম-নগরে চারপাশে তাকালেই শীতার্ত অসহায় মানুষের দুর্ভোগ চোখে পড়ে। প্রতি বছরই সরকার শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা নেয়, কিন্তু সেটা অপর্যাপ্ত ও বিলম্বিত হলে মানুষের কষ্ট বাড়ে।

শীত এলে বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি উদ্যোগেও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। কিন্তু প্রায়ই লক্ষণীয়- শীতবস্ত্র সংগ্রহ ও বিতরণের এসব উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে করতে শীত প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে আসে।

শীতের শুরু থেকে যদি এসব উদ্যোগ নেয়া যায়, তাহলে শীতার্তরা আরো বেশি উপকৃত হতে পারেন। উদ্বেগের বিষয়, এবার শীতবস্ত্র ও ওষুধপত্র বিতরণের সরকারি-বেসরকারি তেমন কোনো তৎপরতা এখনো চোখে পড়ছে না। প্রশাসন বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোগে অবিলম্বে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ ও পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, কমিউনিটি হাসপাতালের মাধ্যমে শীতজনিত রোগের ওষুধ বিতরণের ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

শীতাক্রান্ত অঞ্চলে পর্যাপ্ত শীত নিবারণী সামগ্রী ও ওষুধপথ্যের মজুদ এবং স্থানীয় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে সার্বক্ষণিক চিকিৎসার সুবন্দোবস্ত রাখতে হবে। শীতার্ত ও দুস্থ মানুষদের পাশে দাঁড়ানো সামর্থ্যবান ও বিত্তবানদের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অসহায় শীতার্ত মানুষের সাহায্যার্থে আমাদের সবার সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। আসুন আমরা সবাই নিজ নিজ সামর্থ্য নিয়ে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক মূল্যবোধের পরিচয় দিই।