আওয়ামী লীগের বিজয়ে তৃণমূল কর্মীদের ভূমিকা

আগের সংবাদ

চালকের আসনে আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্তহীন বিএনপি

পরের সংবাদ

প্রতিহিংসা নয়, সম্প্রীতির রাজনীতি চাই

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ১১, ২০১৯ , ৮:৪২ অপরাহ্ণ | আপডেট: জানুয়ারি ১১, ২০১৯, ৮:৪২ অপরাহ্ণ

অধ্যাপক হাসানুর রশীদ

প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, বিশ্ব ইতিহাস কেন্দ্র ও জাদুঘর, ঢাকা

বিএনপির নেতারা নিঃসন্দেহে বর্তমান পরিপ্রেক্ষিত উপলব্ধি করছেন। দলটির সামনে দ্বিমুখী নীতি পরিত্যাগের সময় চলে এসেছে। আবার দলটির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য আওয়ামী লীগ বিরোধী অবস্থান এখনো ধরে রাখতে হবে এমন কথা ধ্রুব হতে পারে না। পরিস্থিতি বদলিয়েছে। এ অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি জামায়াতে ইসলামীর সাহচর্য আত্মিকভাবে ত্যাগ করে আওয়ামী লীগসহ সব মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব দলের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে ভবিষ্যতে পথে না হাঁটলে বিএনপির রাজনৈতিক লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হবে মনে হয়।

১৯৪৯ সালে ২৩ জুন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ প্রতিপক্ষ ভাবতে থাকে। স্বয়ং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠাকে হঠকারী সিদ্ধান্ত বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জো আওয়ামী লীগ করে গা, উসকো শের হাম কুচাল দে গা।’

১৯৫৪ সালের ৩১ মে, যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা ভেঙে দেয়ার পর মওলানা ভাসানীর আওয়ামী লীগ ও শেরেবাংলার কৃষক শ্রমিক পার্টির নেতারা পূর্ব পাকিস্তানের আঞ্চলিক রাজনীতিতে প্রবল প্রতিপক্ষ দুটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী হয়ে ওঠেন। শুরু হয় প্রতিহিংসার রাজনীতি। তারপর এক পক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে সবরকম রাজনৈতিক ভূমিকা গ্রহণ করেছে।

ফলে ১৯৫৪ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচন এবং নির্বাচনোত্তর যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন থেকে শুরু করে ১৯৫৮ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানে এ দুটি পক্ষের সাতটি মন্ত্রিসভা গঠিত হয় এবং প্রতিপক্ষ দলের ষড়যন্ত্র ও দলীয় কোন্দলের কারণে প্রতিটি মন্ত্রিসভার পতন ঘটে। এ সময়ের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানে ৩ বার গভর্নরের শাসন প্রবর্তিত হয়।

পূর্ব পাকিস্তানের নেতাদের এই আত্মবিরোধের কারণে চলমান প্রাদেশিক পরিষদের একজন সদস্যের ছোড়া চেয়ারের হাতলের আঘাতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্পিকার শাহেদ আলী ১৯৫৮ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। এই সহিংসতার পথ ধরে একই বছরের ৮ অক্টোবর পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি হয়। তারপর সামরিক শাসক জেনারেল আইয়ুব খান ১৯৬০ সালে অভিনব একটি নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তান থেকে ৪০ হাজার এবং পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ৪০ হাজার, মোট ৮০ হাজার ‘মৌলিক গণতন্ত্রী’ নির্বাচিত করে নেন এবং ১৯৬০ সালে এক ব্যতিক্রমধর্মী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাদের দেয়া হ্যাঁ/না ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে দেশ শাসন শুরু করেন।

১৯৬২ সালের ৮ জুন পাকিস্তান থেকে সামরিক শাসন প্রত্যাহার করা হয়। তা হলেও ১৯৭০ সাল পর্যন্ত কার্যত পাকিস্তান সামরিক শাসনের অধীনেই ছিল। তবু ১৯৬৬ সাল থেকে বিরোধী রাজনীতি চাঙ্গা হতে থাকে এবং ১৯৬৯ সালের দিকে এসে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিতে সরকারবিরোধী আন্দোলন প্রবল হয়ে ওঠে।

১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ পেতে থাকে। গঠিত জাসদ হয়। পরবর্তীকালে জাসদের রাজনীতির ছায়াতলে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি যুক্ত হয়। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে জাসদের নেতৃত্বে সরকারের শক্তিশালী প্রতিপক্ষ দাঁড়িয়ে যায়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয়ে যায়। আওয়ামী লীগ ও জাসদ দুই প্রতিপক্ষ শক্তি খন্দকার মুশতাক ও জেনারেল জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়। খন্দকার মুশতাক সরকারের পতনের পর বিচারপতি সায়েম রাষ্ট্রপতি হন। তাকে সরিয়ে ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল জেনারেল জিয়া সামরিক বাহিনীর প্রধানের পদে থেকে অসাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশের ৮ম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তারপর তিনি নিজের পদকে বৈধ করার জন্য ১৯৭৭ সালের ৩০ মে গণভোট আয়োজন করেন।

এ নির্বাচনে ব্যালট-পেপারে ভোটারদের কাছে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, আপনি কি রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের (বীরউত্তম) প্রতি এবং তার দ্বারা গৃহীত নীতি ও কার্যক্রমের প্রতি আস্থাশীল? এবং এ প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ অথবা না দিয়ে করার নির্দেশনা ছিল। জেনারেল আইয়ুব খানের ফর্মুলার হ্যাঁ/না ভোট ব্যবস্থার এ নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটে জেনারেল জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

জেনারেল জিয়া খুবই উচ্চাভিলাষী ও বিচক্ষণ সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণ করেই একটি রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ নেন। তিনি জানতেন, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের বাইরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ব্যক্তিদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের আরেকটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল গঠন করা সম্ভব নয়। সে কারণে তিনি ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ন্যাশন্যাল পার্টি (বিএনপি) গঠন করেন।

সে সময় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অতি ক্ষুদ্র অংশ ও সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধীরা বিএনপিতে যোগ দেন। আবার জেনারেল জিয়া ১৯৭৮ সালের ৫ এপ্রিল বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে যুদ্ধাপরাধীদের দেশে ফিরে আসার সুযোগ করে দেন। তার পরপরই বঙ্গবন্ধু সরকার কর্তৃক নাগরিকত্ব হারানো জামায়াত নেতা গোলাম আযম দেশে ফিরে আসেন।

দেশে ফিরে এসে তিনি ১৯৭৯ সালের মে মাসে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে পুনর্জীবিত করেন। জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে রাত্রিযাপনকালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু তার আগেই তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ ও বিপক্ষ শক্তির বীজ রোপণ করে যান।

জেনারেল এরশাদের শাসনকালে রাজনৈতিক বিরোধ ভিন্নমাত্রা লাভ করে। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও বাম দলসমূহ এক জোট হয়। জামায়াতে ইসলামীও এ জোটের সঙ্গে আন্দোলন করে। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর জেনারেল এরশাদের পতন হয়।

১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনে সরকার গঠন করে। মাগুরা-২ আসনের উপনির্বাচনে ব্যাপক ভোট কারচুপির পর আওয়ামী লীগ তত্ত্বাধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলে।

১৯৯৬ সালের দিকে বিএনপির বিপরীতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বিরোধ তুঙ্গে ওঠে। সে সময় জামায়াতে ইসলামী আবার অবস্থান বদলিয়ে আওয়ামী লীগ ও বাম দলসমূহের সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করে। মজার বিষয় হলো, জামায়াতে ইসলামী আবার ২০০১ সালে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সঙ্গে ৪ দলীয় জোট গঠন করে।

২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ১৭টি আসন লাভ করে। এ নির্বাচনের পর ৪ দলীয় জোটের অংশীদার হিসেবে জামায়াতে ইসলামী বিএনপির মন্ত্রিসভায় যোগ দেয় এবং দলটির সভাপতি মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী শিল্প ও সেক্রেটারি আলী আহসান মুজাহিদ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন।

জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে প্রান্তিক পর্যায়ের সব নেতাকর্মী ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। প্রধানত তারাই ছিল রাজাকার, আলবদর, আলশামসের সদস্য। তারা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযোদ্ধা ও এ দেশের স্বাধীনতার পক্ষের লোকদের হত্যা করেছে।

আওয়ামী লীগ সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট অংশগ্রহণ করেনি। জোটটির নেতারা নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়। ফলে নির্বাচনের পূর্বাপর সহিংসতায় ৫ শতাধিক মানুষ নিহত হয়- যাদের অধিকাংশই পেট্রলবোমায় দগ্ধ হয়ে অত্যন্ত কষ্ট ভোগ করে মারা যায়। ১১৮০ জনের মতো মানুষ দগ্ধ হয়। পেট্রলবোমায় ২ হাজার ৯০৩টি প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন ধরনের গাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়, রেলের ১৮টি বগি এবং ৮টি নৌযান, ৭০টি সরকারি অফিস এবং ৬টি ভূমি অফিসকেও পুড়িয়ে দেয়া হয়।

এই সহিংসতায় রাষ্ট্রের অপরিসীম ক্ষতি হয়। জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি নেতারা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে সেটি বাদ দিয়ে ড. কামালের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য জোট গঠন করে বিএনপি জোট আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।

বিএনপি গঠনের ইতিহাসের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ কোনোভাবেই জড়িত নয়। দলটির প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়া ১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিত প্রশ্নবিদ্ধ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় লাভের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একজন যুদ্ধাপরাধীকে বেছে নিয়েছিলেন। আমার জানা মতে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়া বিএনপি গঠনের দলটি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কিংবা মুক্তিযোদ্ধাদের রাজনৈতিক দল বলে দাবি করেননি।

পরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ও মুক্তিযোদ্ধাদের একচ্ছত্র রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের অগ্রযাত্রা প্রতিহত করতে দলটির প্রতিষ্ঠাকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করে মুক্তিযুদ্ধের বিষয়টি দলে যুক্ত করেছেন এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত শুরু করেছেন। বর্তমান সময়ে দলটির নেতৃত্ব স্বীকার না করলেও এটা সত্য যে, তারা বিএনপির কাছে একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের ধারণ করতে গিয়ে দলটিকে ভাবমূর্তি ও রাজনৈতিক জটিলতায় ফেলেছেন।

১৯৯১ সালের পর আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রবল প্রতিপক্ষ দুটি রাজনৈতিক শক্তি হয়ে উঠতে থাকে। সে ধারাবাহিকতায় বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ ও বিপক্ষ এ দুটি ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ১৯৭৯ সালে পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর কমবেশি আড়াই দশক রাজনীতির মাঠে জামায়াতে ইসলামী স্বাচ্ছন্দ্যভাবে হাঁটা-চলা করেছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দলটির খুবই প্রতিকূল অবস্থায় নিপতিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের প্রতিপক্ষ দল জামায়াতে ইসলামী আজ জাতির কাঠগড়ায় দণ্ডায়মান। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার মধ্য দিয়ে দেশের তরুণ প্রজন্মসহ বিপুল জনগোষ্ঠীকে আস্থায় নিতে পেরেছে। দেশ আজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সিক্ত। ফলে বেশ কিছু ক্ষেত্রে ব্যর্থতা থাকলেও দেশবাসীর একটি বড় অংশ এই একটি কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষায় প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।

বিএনপির নেতারা নিঃসন্দেহে বর্তমান পরিপ্রেক্ষিত উপলব্ধি করছেন। দলটির সামনে দ্বিমুখী নীতি পরিত্যাগের সময় চলে এসেছে। আবার দলটির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য আওয়ামী লীগ বিরোধী অবস্থান এখনো ধরে রাখতে হবে এমন কথা ধ্রুব হতে পারে না। পরিস্থিতি বদলিয়েছে।

এ অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি জামায়াতে ইসলামীর সাহচর্য আত্মিকভাবে ত্যাগ করে আওয়ামী লীগসহ সব মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব দলের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে ভবিষ্যতে পথে না হাঁটলে বিএনপির রাজনৈতিক লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হবে মনে হয়। আর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, সংঘাত নয়। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার প্রবণতা থেকে সরে আসুক। আমরা রাজনীতিতে সম্প্রীতি চাই। রাষ্ট্রক্ষমতার পালাবদল হবে।

সব অবস্থায় ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মনে পরস্পরের প্রতি সৌহার্দ্য থাকবে। ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি রাশি রাশি ভালোবাসায় ভরে উঠুক। আমরা আর কখনোই চাই না, এ দেশ আবার রক্তাক্ত হোক। এ অতি সম্ভব কাজটি রাজনীতিবিদদেরই করতে হবে।

অধ্যাপক হাসানুর রশীদ: প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, বিশ্ব ইতিহাস কেন্দ্র ও জাদুঘর, ঢাকা।