পদোন্নতির হিড়িক : ফিরছেন দলছুটরা

আগের সংবাদ

সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে কি

পরের সংবাদ

ডাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক

গঠনতন্ত্র সংশোধন নিয়ে ছাত্রনেতাদের যত প্রস্তাব

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ১১, ২০১৯ , ১২:৩৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: জানুয়ারি ১১, ২০১৯, ১২:৩৬ অপরাহ্ণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) গঠনতন্ত্র সংশোধনের নানা ধরনের প্রস্তাবনা দিয়েছেন ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতারা। ডাকসুতে পদসংখ্যা এবং নারী নেতৃত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি সমস্যাভিত্তিক আলাদা পদ সৃষ্টির প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। অন্যদিকে ডাকসু নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা ও ক্যাম্পাসে সব সংগঠনের নেতাকর্মীদের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির প্রস্তাব দিয়েছে ছাত্রদল। বাম ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমফিল করা (নিয়মিত) শিক্ষার্থীদের সদস্য রাখা, একটি নির্দিষ্ট সেশন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়ার প্রস্তাব রেখেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের কনফারেন্স হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ছাত্রনেতারা এসব প্রস্তাব দিয়েছেন।
আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে অচল ডাকসু (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) সচল করতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের একপর্যায়ে ৬ বছর আগে একটি রিট আবেদন হয় উচ্চা আদালতে। ওই আবেদনের নিষ্পত্তি করে গত বছর ১৭ জানুয়ারি এক রায়ে হাইকোর্ট ৬ মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আবেদনে ওই রায় চেম্বার আদালতের স্থগিতাদেশ আটকে যায়, যার সুরাহা হয়েছে গত রবিবার আপিল বিভাগ স্থগিতাদেশ তুলে নিয়ে আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়।
এখন আগামী মার্চের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন আয়োজনে উদ্যোগী হয়েছে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেলক্ষ্যে ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধন নিয়ে আলোচনা করতে গতকাল ‘ক্রিয়াশীল’ সব ছাত্র সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে নিয়ে বৈঠক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় মতবিনিময় সভা শুরু হয়ে শেষ হয় দুপুর দেড়টায়। সভায় উপস্থিত ছিলেন গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটির আহ্বায়ক আইন বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান, ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল, কবি জসীমউদ্দীন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক রহমত উল্লাহ, শামসুন্নাহার হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক সুপ্রিয়া সাহা ও রোকেয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা। এতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জাসদ), প্রগতিশীল ছাত্রজোটের অন্তর্ভুক্ত বাম সংগঠনের মধ্যে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীসহ ১৩টি ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ডাকসু নির্বাচন নিয়ে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সক্রিয়তার মধ্যে ‘প্রক্টরিয়াল বডির’ সদস্যদের পাহারায় ছাত্রদলের নেতারা গতকালের বৈঠকে যোগ দেন।
মতবিনিময় সভা চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ডাকসু নির্বাচনের জন্য আমরা সুপরিকল্পিতরূপে এবং ধাপে ধাপে প্রস্তুতি নিচ্ছি। ডাকসুর গঠনতন্ত্র মেনে সব কাজ শেষ করা হবে। তবে গঠনতন্ত্রের বিষয়ে ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা শেষে গঠিত কমিটি একটি প্রতিবেদন দেবে। সে অনুসারে পরবর্তী ধাপগুলো করা হবে। আগামী ৩১ মার্চের মধ্যেই নির্বাচন দেয়ার প্রয়াস আমরা নিয়েছি। আমাদের প্রত্যাশিত সময়ের মধ্যে যাতে কাজ শেষ করতে পারি সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করছি।
ডাকসুতে পদসংখ্যা বাড়ানো, নারী প্রতিনিধি ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যাকেন্দ্রিক আলাদা সম্পাদক পদ সৃষ্টির দাবি জানিয়েছে ছাত্রলীগ। বৈঠক শেষে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস সাংবাদিকদের বলেন, আমরা চাই সব সংগঠন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে সহাবস্থান আছে। তারা স্বাভাবিকভাবেই ক্লাস-পরীক্ষা ও অন্যান্য কাজ করছে। নিয়মিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছাত্রদল ক্যাম্পাসে সক্রিয় হলে এবং ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিলে তাদের বাধা দেয়া হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
কয়েক বছরে বিভিন্ন সময়ে ক্যাম্পাসে এসে হামলার শিকার হন ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই বৈঠকেও ছাত্রদলের দুই নেতাকে পাহারা দিয়ে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা। ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের পরিস্থিতি নেই অভিযোগ করে পরিস্থিতির উত্তরণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদক্ষেপ চেয়েছেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার কোনো কারণ নেই। ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিত না হলে আমরা নির্বাচনে অংশ নাও নিতে পারি।
ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজীর বলেন, ডাকসুর বর্তমান গঠনতন্ত্রে সভাপতিকে একচেটিয়া ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। তিনি যে বিষয়ে চাইবেন সে বিষয়ই আলোচিত হবে। তাই সভাপতির ক্ষমতা কমিয়ে এনে অন্যান্য পদের ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, গঠনতন্ত্র পরিমার্জন, পরিবর্ধন ও সংশোধন নিয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর বক্তব্য আমরা শুনেছি। তারা তাদের বক্তব্য বিস্তারিতভাবে দেয়ার জন্য সময় চেয়েছে। আগামী সোমবারের মধ্যে এ বিষয়ে লিখিত বক্তব্য দেয়া যাবে। এরপর আমরা চূড়ান্ত সুপারিশ করব।