শেখ হাসিনাকে থাই প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

আগের সংবাদ

রাজধানীতে ১৩ ভুয়া চাকরিদাতা গ্রেপ্তার

পরের সংবাদ

কর্মসংস্থানের জন্য পোল্ট্রি শিল্প

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ১০, ২০১৯ , ৯:১৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: জানুয়ারি ১০, ২০১৯, ৯:১৩ অপরাহ্ণ

রিপন কুমার দাস

ট্রেড ইন্সট্রাক্টর, পটুয়াখালী।

পোল্ট্রি বলতে আমরা সাধারণত ব্রয়লার লেয়ার, হাঁস, কবুতর, কোয়েল, রাজাহাঁস, টার্কি, তিতিরকেই বুঝি, বর্তমানে বাংলাদেশ পোল্ট্রি উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। কিন্তু দিন দিন জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে কৃষি জমি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ও জনবহুল এলাকায় পরিবেশ দূষণ ও দুর্গন্ধের ফলে ভবিষ্যতে ডিম ও মাংস উৎপাদন হুমকির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাই দেশের মানুষের মাংস ও ডিমের চাহিদা পূরণের জন্য প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পোল্ট্রি শিল্পনগরী স্থাপন করা প্রয়োজন। কেন দরকার পোল্ট্রি শিল্পনগরী? দেশে কৃষি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে, জনবহুল এলাকায় দুর্গন্ধসহ পরিবেশ দূষণ হচ্ছে।

শিক্ষিত বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের জন্য, লাইভ স্টক ডিপ্লোমা ও পোল্ট্রি বিষয়ে ভোকেশনাল পাসকৃতদের কর্মসংস্থানের জন্য। দেশের পোল্ট্রি আমিষের চাহিদা মেটানো ও বিদেশে পোল্ট্রি সামগ্রী রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য। শিক্ষিত বেকার যুবকদের উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।

সরকার কর্তৃক প্রতিটি পোল্ট্রি শিল্পনগরীতে অবকাঠামো, লেয়ার পালনের খাঁচাসহ যন্ত্রপাতি সরবরাহ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, প্রতিটি প্লটকে পোল্ট্রি পালনের উপযোগী করে সম্পূর্ণ তৈরি অবস্থায় উদ্যোক্তার হাতে হস্তাস্তর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এ ছাড়া জনবহুল এলাকায় পোল্ট্রি শিল্পনগরী করার ক্ষেত্রে প্লটের পরিবর্তে বহুতল ভবন নির্মাণ করে পোল্ট্রি উৎপাদনের জন্য উদ্যোক্তারের মাঝে বরাদ্দ প্রদান করা যেতে পারে। এ ছাড়া নগরীতে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা থাকতে হবে। একজন উদ্যোক্তা প্লটের জন্য আবেদন করার ৩ মাসের মধ্যে অবকাঠামো, লেয়ার পালনের খাচাসহ সব যন্ত্রপাতি স্থাপন করে উদ্যোক্তার কাছে পোল্ট্রি নগরী কর্তৃপক্ষ হস্তান্তর করবে।

প্রজেক্টসমূহ নগদ মূল্যে অথবা ৫ বছরের ১০টি কিস্তিতে পরিশোধের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। কিস্তির ক্ষেত্রে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে সম্পাদিত হবে, অর্থাৎ একজন উদ্যোক্তা বিনা জামানতে শুধু ব্যক্তিগত গ্যারান্টিতে প্রজেক্টের বিপরীতে ব্যাংক থেকে ঋণগ্রহণ করতে পারবেন।

নগরীতে ফিডমিল উৎপাদনের জন্য উদ্যোক্তাদের মাঝে একটি প্লট বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন। কারণ ফিডমিল বাইরে থেকে ক্রয় করতে হলে সঠিক মানের নাও হতে পারে, অথবা সময়মতো পোল্ট্রির খাবার সংগ্রহ করা নাও যেতে পারে। বাইরে থেকে ফিডমিল সংগ্রহ করলে যাতায়ত খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে ফলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাবে।

উদ্যোক্তাদের যাতে ওষুধ ও যন্ত্রপাতি ক্রয় করার জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করতে না হয় সে জন্য নগরীর মধ্যে একটি প্লটে পোল্ট্রির ওষুধ, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিপণনের জন্য একটি প্লট বরাদ্দ করা প্রয়োজন হবে। দূর-দূরান্ত থেকে ওষুধ ক্রয় করার জন্য পরিবহন খরচ বেশি হয়, আর অনেক সময় নিম্নমানের ওষুধ ও পণ্যের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়।

বিদেশে মাংস ও ডিম রপ্তানি করার জন্য পোল্ট্রি প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজ স্থাপন করতে হবে। এ জন্য নগরীতে একটি প্লট বরাদ্দ করা যেতে পারে। পোল্ট্রি শিল্প দুর্গন্ধমুক্ত ও পরিবেশ দূষণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নগরীতে একটি বায়ো গ্যাস প্লান্ট স্থাপন করার জন্য একটি প্লট একজন উদ্যোক্তার মাঝে বরাদ্দ করতে হবে।

ওই উদ্যোক্তা তার নিজস্ব জনবল দিয়ে সব প্লটের বিষ্টা ও উচ্ছিষ্টসমূহ সংগ্রহ করে বায়োগ্যাস উৎপাদন করে তা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে নির্দিষ্ট মূল্যে নগরীর উদ্যোক্তাদের কাছে বিতরণ করবেন ও অবশিষ্ট বিষ্টা জৈব সার হিসেবে চাষিদের কাছে বিক্রি করবেন। ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতি মিটানোসহ নগরীর পরিবেশ দূষণমুক্ত করা সম্ভব হবে।

বেশিরভাগ সময় আমাদের দেশে পোল্ট্রি ব্যবসায়ীরা মধ্যস্বত্বভোগীদের জন্য তাদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়। তাই পোল্ট্রি শিল্পনগরীর উদ্যোক্তারা যাতে তাদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক দাম পায়, সেজন্য নগরীর একটি প্লটে বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন করা প্রয়োজন।

যেখানে খুচরা ও পাইকারি ডিম, বাচ্চা ও মাংস বিক্রির ব্যবস্থা থাকবে এবং এলাকার ক্ষুদ্র পোল্ট্রি বিক্রয়কারীরা যাতে ক্রয় করতে পারে সে জন্য একটি প্লটে আড়ত স্থাপন করা যেতে পারে। নগরীতে যাতে মাংস ও ডিম উৎপাদনের জন্য বাচ্চার সংকট দেখা না দেয় সে জন্য পোল্ট্রি হ্যাচারি স্থাপন করার জন্য কমপক্ষে একটি প্লটে উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দ করা প্রয়োজন হবে।

ওই প্লটে উদ্যোক্তরা একটি পোল্ট্রি হ্যাচারি স্থাপন করবেন, পোল্ট্রি হ্যাচারি স্থাপন করার জন্য সব প্রকার সহযোগিতা নগরী কর্তৃপক্ষ প্রদান করবেন। পোল্ট্রি শিল্পনগরী স্থাপন করা সম্ভব হলে দেশে মাংস, ডিম ও বাচ্চা উৎপাদন করে চাহিদা পূরণসহ প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।

রিপন কুমার দাস : ট্রেড ইন্সট্রাক্টর, পটুয়াখালী।