শ্রীনগরে লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্সসহ একাধিক গাড়ীতে ছিনতাই

আগের সংবাদ

বাউফলে শিশু ও নারী উন্নয়ন বিষয়ক কর্মশালা

পরের সংবাদ

সচেতনতাই সামাজিক মাধ্যম ব্যাবহারের সঠিক পন্থা

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ৭, ২০১৯ , ৪:৫৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: জানুয়ারি ৭, ২০১৯, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ

সম্প্রতি রেডিওলজিক্যাল সোসাইটি অফ নর্থ আমেরিকা কনফারেন্সে একদল গবেষক জানান, এমআরআই ও এমআরএস এর মাধ্যমে তারা দেখেছেন স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটে আসক্ত টিনএজারের মস্তিষ্কে গামা অ্যামাইনো বিউটারিক এসিড বা গাবা এবং গ্লুটামেট-গ্লুটামাইন বা জিএলএক্স এর অনুপাত স্বাভাবিকের চেয়ে বাড়িয়ে দেয়। যা মস্তিষ্কের তরঙ্গ প্রবাহের গতিকে অনেক কমিয়ে দেয়।
অনুপাতের তুলনায় বেশি হওয়ায় গাবা ও জিএলএক্স বাড়ায় হতাশা ও উদ্বোগ। এরফলে বাড়ে কাজের প্রতি অনীহা, ঝিমুনি ও স্নায়ুবৈকল্য। টিনএজারদের নিয়ে আপাততঃ কিছু বলছিনা। কৌতুহল হল বড়োরা যারা আমাদের অগ্রজ। তাদেরকেই বরং সারাক্ষণ স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটে বন্দী থাকতে দেখি। আজকাল কোন আড্ডায় কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে গেলে দেখা যায় ছোটদের চেয়ে বড়োরাও স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট তথা ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। শুধু তাই নয় মুখমুখি আড্ডার চেয়ে তারা ভার্চুয়াল বন্ধুত্বকে বেশী গুরত্ব দিয়ে থাকেন। অনেক সময় সামনে থাকা মানুষটিকে সম্পূর্ণ অবজ্ঞা করে ভার্চুয়াল বন্ধুদের নিয়ে সময় কাটান।
নবীন বা টিনএজাররা যাদের দেখে শিখবে তারাই যদি এধরনের আচরণ করে থাকেন তাহলে ছোটদের দোষারোপ করার তো কিছু নেই। আজকাল সোশ্যাল মিডিয়া বা সরাসরি যদি বলি ফেসবুকে বড়োরা যে ধরনের পোস্ট বা ছবি আপলোড করেন এবং তাদের বন্ধু-বান্ধব বা অনুসারীরা যে মন্তব্য করেন তা কতোটা যুক্তিযুক্ত? তা কি একবার ভেবে দেখা দরকার নয়? বিশেষ করে যারা অবসর জীবনে আছেন কিংবা ছেলে-মেয়ে বিয়ে দেয়ার পর নিজের মতো সময় কাটাচ্ছেন তাদের অনেকেই ফেসবুক ব্যাবহারে একেবারেই নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করছেন না। ফেসবুকে চোখ রাখলে দেখা যায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে নবীনদের চেয়ে প্রবীণরাই বরং এর অপব্যাবহার করছেন বেশী। সম্প্রতি চোখে পরা কিছু মন্তব্যর কথাই ধরা যাক। অবসর জীবনে যাওয়া এক ভদ্রলোক আরেক ভদ্রমহিলার একক ছবিতে মন্তব্য করেছেন, আমি তো দেবী দেখছি, দেবীর মতোই লাগছে”। আরেক মন্তব্যে লিখেছেন, নায়িকা’র মতো দেখাচ্ছে, নায়িকা কি কেবল নায়ক আর ভিলেনদের তুষ্ট করলেই চলবে! ভক্তদের ও তো কিছু দিতে হয়”! কিংবা বুড়ো হয়ে গেছি বলে কি সাধ-আহ্লাদ থাকতে নেই”! এ জাতীয় আরও অনেক মন্তব্য। কোন সামাজিক মাধ্যমে এজাতীয় মন্তব্য কতোটুকু শোভনীয়, বিশেষ করে প্রবীণ বয়সে। তা চিন্তা করবার বিষয় বৈকি! তারউপর যদি অনুসরণ ও শ্রদ্ধাযোগ্য ব্যাক্তি এ জাতীয় মন্তব্য করার আগে না ভাবেন তাহলে অনুজ ও নবীনদের সমালোচনা করার কোন অধিকার থাকে কি! কেননা, সামাজিক মাধ্যমে জানার উপায় নেই কে স্বজন’ কে বান্ধব’ আর কে-ই বা শুধুই ভার্চুয়ালি পরিচিত। তারউপর মধ্যরাত কিংবা ভোররাত কিনা সে সময় জ্ঞানটুকু পর্যন্ত খেয়াল রাখছেন না। এসব মন্তব্য সকলের চোখে পড়ছে এবং যে যার মতো ধরনা করে নিচ্ছে।
এরপর আসি ছবি পোস্ট করার বিষয়ে। বেশীর ভাগ মধ্যবয়সী থেকে পড়ন্ত বয়সী মহিলারা তাদের সাজসজ্জা, গয়না-শাড়ী, মেকআপ-ভঙ্গিমা, খাবার পরিবেশন নিয়ে ক্ষণে ক্ষণে যেসব পোস্ট দিয়ে থাকেন তা স্পষ্টতইঃ স্নায়ুবৈকল্যর প্রথমিক লক্ষণ। এইসব অযোচিত প্রদর্শন তাদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা তো জাগায়ই না বরং কমায়। আগে মা-খালা, মামী-চাচীদের দেখলে মমতা ও শ্রদ্ধায় হৃদয় ভরে যেতো। এখন তাদের এই প্রকাশভঙ্গী কি এতটুকু ভক্তি জাগায়! এই প্রকাশের মানসিক তৃপ্তি কতোখানি একমাত্র তারাই উপলব্ধি করতে পারবেন। তবে সেটা যে তাদের হতাশা ও উদ্বোগ এর বহিঃপ্রকাশ তা সম্প্রতি গবেষণাই বলে দেয়।
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আজকাল খুব প্রচারনা ও প্রকাশনা দেখি। প্রবীণ এবং সুশীল ব্যাক্তিগণ যদি এই দ্বায়িত্বটুকু নেয়ার চিন্তা করতেন তাহলে বোধহয় উভয় পক্ষই লাভবান হতো। নিজেকে প্রকাশ ও প্রচার করার মানসিকতার পরিবর্তে বরং টিনএজার বা অনুজদের পথ প্রদর্শক হওয়ার বিষয়টা ভেবে দেখতে পারেন। চিন্তা করতে পারেন অহেতুক ভার্চুয়াল মন্তব্যে সময় নষ্ট না করে সৃজনশীল কিছু করার কথা। আজকাল অগ্রজ তথা প্রবীণরা নিজেরাই সামাজিক মাধ্যম ব্যাবহার করার ব্যাপারে পরিশীলতা মেনে চলেন না। যে সহনশীলতা আমরা আমাদের বয়োজ্যেষ্ঠদের মাঝে দেখেছি তা বর্তমান বয়োজ্যেষ্ঠদের আচরণে সেভাবে বিরাজমান আছে কি!
নিয়মিত ব্যায়াম কিংবা সময়মত ঘুমোতে যাওয়া, নিয়মতান্ত্রিক চলাফেরা, পারিবারিক আড্ডায় ছোটদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রবণতা এসবের কোন দায়ভার তারা নিতে চান না। কোন মত পার্থক্য বা গরমিল হলেই সরাসরি অনুজদের দোষারোপ করার মানসিকতা তাদেরও পরিহার করা প্রয়োজন। শুধু উপদেশ বা পরামর্শ দেয়ার জন্যই কিন্তু তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে অনুপ্রাণিত করবে না। তারা নিজেরা তাদের নিজেদের কাজে কর্মে তার প্রতিফলন না দেখালে নবীনরা কি করে উৎসাহিত হবে। ধরা যাক, পরামর্শের বেলায় বয়োজ্যেষ্ঠ বা অগ্রজগণ প্রায়ই উপদেশ দিয়ে থাকেন- মানুষের মনটা ডাস্টবিন নয় তাই সেখানে রাগ, ঘৃণা, বিদ্বেষ জমা করে রাখতে নেই। মন’ হলো কেবলই ভালোবাসা, স্নেহ, মায়া-মমতার জন্য। অথচ দেখা গেলো কোন এক ঘটনায় বড়োদের সাথে কোন ব্যাপারে মনোমালিন্য হলে তারাই রাগ, ঘৃণা, বিদ্বেষ দিনের পর দিন জমা করে রাখেন। খুব সহজে ক্ষমা করতে পারেন না। এই যে, দ্বৈত আচরণ সেটা বুঝেও অনুজ তথা নবীনরা কিছু বলতে পারেনা। পরিবেশ আরো প্রতিকূল অবস্থায় চলে যাওয়ার আশঙ্কায়। এ ক্ষেত্রে অগ্রজদের বোঝাবার দ্বায়িত্ব নেবে কে! সমাজে ভারসাম্য ও সামঞ্জস্য বজায় রাখতে অগ্রজ ও অনুজ উভয়ের সমান ভূমিকা। এ ব্যাপারে দু-পক্ষকেই খেয়াল রাখতে হবে। সম্মান ও শ্রদ্ধা পেতে ব্লেম-গেম” নয় বরং পারস্পরিক চিন্তা ও আচরণের পরিশীলতাই যথেস্ট। ফিরে আসি শুরুর কথায়। গাবা ও জিএলএক্স প্রবীণদের মস্তিষ্কেও প্রভাব ফেলে। হতাশা, উদ্বোগ, স্নায়ুবৈকল্য তাদেরও ক্ষতি করছে অতিমাত্রায় স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটে বন্দী থাকায়। তাই নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম-খাবার, সময়মত ঘুম ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম তাদের নিজেদের প্রয়োজনেই করা দরকার। এতে করে তাদেরও সৃজনশীলতা বাড়বে। সেইসাথে বাড়াবে সহনশীলতা। উপরন্ত শ্লথ হবে সামাজিক মাধ্যমের অপব্যাবহার।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা