ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারল বাংলাদেশ

আগের সংবাদ

আইয়ুব বাচ্চুর স্মরণে আসিফের গান

পরের সংবাদ

মাদারীপুরের শহীদ পান্না

মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি মেলেনি

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ১৭, ২০১৮ , ৩:৩৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: ডিসেম্বর ১৭, ২০১৮, ৩:৩৮ অপরাহ্ণ

১৯৭১ সালে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার দক্ষিণ রাজদী গ্রামের এম এ কাদের সিদ্দিকীর ছেলে শহীদ নুরুল আলম পান্না। বরিশাল জেলার গৌরনদী সরকারি কলেজের তিনি ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। ছাত্রজীবনে তিনি জড়িয়ে পড়েন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে। দেশপ্রেমিক, পরোপকারী, আত্মপ্রত্যয়ী, স্বাধীনচেতা ও উদ্যমী এক যুবক।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ঝাঁপিয়ে পড়েন। চলে আসেন নিজ গ্রামে। যুদ্ধ চলাকালীন মে মাসে যোগ দেন ৩০৩ নম্বর রাইফেলে। মেজর মনজুর নেতৃত্বে ৮ নম্বর সেক্টরের অধীনে কালকিনি অঞ্চলে নুরু কবিরাজের কাছে প্রশিক্ষণ নেন। তার কাজ ছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গোপন সংবাদ সংগ্রহ করা। একবার তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে উপজেলার ফাসিয়াতলা বাজারে রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাকে আটক করে মাদারীপুর এ আর হাওলাদার জুট মিলের মিলিটারি ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে বেয়নেট দিয়ে তাকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয় । হত্যা করার পর মৃতদেহ নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হয়।
তার আত্মীয়স্বজন জানান, বিজয়ের ৪৭ বছর পরও তার নাম মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। শহীদ পান্নার স্মরণে এলাকাবাসীর উদ্যোগে তার নিজ গ্রামে ১৯৭৩ সালে শহীদ পান্না স্মৃতি সংঘ স্থাপিত হয়। সেটিও আজ বিলুপ্তির পথে। অর্থাভাবে মুখথুবড়ে পড়ে আছে ঘরটি। ১৯৮৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ প্রণীত তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। কেন, কী কারণে চ‚ড়ান্ত তালিকায় তার নাম নেই সে কথা আজও সবার অজানা। তবে ১৯৯৫ সালের ২৬ মার্চ প্রকাশিত মুক্তিযোদ্ধা নাসিরউদ্দিন জমাদার রচিত ‘মাদারীপুর মুক্তিযুদ্ধের শহীদ স্মৃতিকথা’র ২৫ পৃষ্ঠায় তার মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ ও শহীদ হওয়ার ইতিহাস লিপিবদ্ধ আছে। ১৯৯৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর প্রকাশিত ‘মুক্তি বার্তা’র দ্বিতীয় বর্ষের দশম সংখ্যায় তার নাম আছে।
শহীদ পান্নার ভাই অধ্যাপক জহিরুল আলম ডালিম ২০০৯ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছর ৩১ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৎকালীন জেলা প্রশাসক শশী কুমার সিংহ বরাবর একটি আবেদন করেন। কিন্তু আবেদনের ২ বছর পরও শহীদ পান্নার নাম তালিকাভুক্ত হয়নি। ২০০৯ সালের ২৫ নভেম্বর উপজেলা পরিষদের সভায় কালকিনি-ভ‚রঘাটা সড়কের কাঠেরপোল থেকে বড়বাড়ী পর্যন্ত সড়কের নাম ‘শহীদ পান্না সড়ক’ নামে করার প্রস্তাব গৃহীত হয়। সর্বশেষ ২০১১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি শহীদ পান্নার নাম তালিকাভুক্ত করার জন্য পুনরায় আবেদন করা হয়। শহীদ পান্নার পরিবার এখনো নাম তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রত্যাশায় দিন গুনছে।
২০১৭ সালে সারা দেশে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই শুরু হলে সেখানে নুরুল আলম পান্নাকে গণশহীদ হিসেবে রাখা হয়েছে। শহীদ পান্নার ছোট ভাই অধ্যাপক জহিরুল আলম ডালিম জানান, স্বাধীনতার ৪৭ চল্লিশ বছর পরও একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নাম সরকারি তালিকাভুক্ত না হওয়ার কারণ জানি না। আমরা সরকারি কোনো সাহায্য চাই না। শুধু চাই আমার ভাইয়ের নাম মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্ত হোক।
কালকিনি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য মো. আব্দুল জলিল জানান, ২০১৭ সালে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই শুরু হয়। নুরুল আলাম পান্নার ছোট ভাই অধ্যাপক জহিরুল আলম ডালিম কালকিনি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির কাছে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে যাচাই-বাছাই কমিটির কাছে সঠিক কাগজপত্র ও সাক্ষী উপস্থাপন করতে পারে নাই। যার পরিপ্রেক্ষিতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণিত হয় নাই। তারপরও তিনি গণশহীদ হিসেবে আছেন।