বিশ্ব ইজতেমা মাঠ খুলে না দিলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

আগের সংবাদ

শিক্ষকতার পেশায় নৈতিকতা খুবই জরুরি

পরের সংবাদ

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক অগ্রগতি

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৭, ২০১৮ , ৯:১১ অপরাহ্ণ | আপডেট: ডিসেম্বর ৭, ২০১৮, ৯:১১ অপরাহ্ণ

২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে পৌঁছবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার জাপানি সংবাদ মাধ্যম নিক্কে এশিয়ান রিভিউকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এমন আশাবাদের কথা জানান তিনি। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে প্রধানমন্ত্রীর এই টার্গেট খুবই আশাব্যঞ্জক। শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে ৬ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশ হয়েছে।

গত অর্থবছরে এ প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭.৮৬ শতাংশ। সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮.২৫ শতাংশ। ক্রমাগত এ হার আরো বাড়তে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে ২০২১ সাল নাগাদ প্রবৃদ্ধির হার ১০ শতাংশে পৌঁছবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে বাংলাদেশ জাতিসংঘের প্রাথমিক স্বীকৃতি পেয়েছে। সেই স্বীকৃতির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে দেশের অর্থনীতিতেও। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে মাথাপিছু আয় ও মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি রেকর্ড পরিমাণে অর্জিত হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার আমলে। এমন অর্জন সরকারের মুকুটে সাফল্যের পালক যোগ করেছে। এর জন্য সরকারের অভিনন্দন প্রাপ্য।

মূলত জিডিপির প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির কারণেই মানুষের গড় মাথাপিছু আয়ও বেড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ৩টা খাতের মধ্যে কৃষি খাতে ২ দশমিক ৯৭, শিল্প খাতে ১০ দশমিক ২২ ও সেবা খাতে ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। জনগণের সর্বমোট ব্যক্তিগত আয়কে জনপ্রতি ভাগ দিয়ে মাথাপিছু আয় নির্ধারণ হয়ে থাকে। তবে প্রকট বৈষম্যের এ সমাজে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির সুফল সবাই পাচ্ছেন কিনা সেটা বড় প্রশ্ন।

বিশ্লেষকদের মতে, জিডিপি বাড়লেও ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করেছে। তাই ধনীরা সম্পদের পাহাড় গড়লেও সুযোগ-সুবিধার অভাবে দরিদ্ররা দরিদ্রই থেকে যাচ্ছে। সামাজিক বৈষম্যের এই দুষ্টচক্র ভাঙতে না পারলে সংকট আরো তীব্র হতে পারে। একদিকে দারিদ্র্য কমছে, অন্যদিকে ধনী-গরিবের মধ্যে আয়ের ক্ষেত্রে বৈষম্য বাড়ছে। এটি খুবই উদ্বেগের বিষয়। মূলত সম্পদের অসম বণ্টন এবং অবৈধ আয়ের উৎসের কারণে আয় বৈষম্য প্রকট হচ্ছে। জিডিপির ঊর্ধ্বগতির সুফল সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে পৌঁছে দেয়ার জন্য ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমিয়ে আনতে হবে।

এজন্য ঘুষ, দুর্নীতি, কর ফাঁকির বিষয়টি কঠোরভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। সরকার যে দারিদ্র্য বিমোচনে তৎপর সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। নানা বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও অর্থনীতির ক্ষেত্রগুলোতে উন্নতির ধারা অব্যাহত রয়েছে। জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিসহ কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, বাণিজ্য, বৈদেশিক আয় ইত্যাদি খাতেও ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। মানুষের সচেতনতাও বেড়েছে আগের তুলনায়।

আমরা অবশ্যই প্রত্যাশা করি, এই অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারা অব্যাহত থাকুক। পাশাপাশি জরুরি হচ্ছে, বৈষম্য কমাতে টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন। বৈষম্য বিলোপ সম্ভব হলেই জিডিপি বৃদ্ধির শতভাগ সুফল দেশবাসী পেতে পারে; যা নিশ্চিত করতে হবে সরকারকেই।