বাউফলে উচ্ছেদ অভিযান : কোটি টাকার জমি উদ্ধার

আগের সংবাদ

নির্বাচনী বছরে আতঙ্ক কাটছে না বিনিয়োগকারীদের

পরের সংবাদ

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে রপ্তানি আয়

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৬, ২০১৮ , ২:১৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: ডিসেম্বর ৬, ২০১৮, ২:১৭ অপরাহ্ণ

লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়েছে দেশের রপ্তানি আয়ে। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ১ হাজার ৭০৭ কোটি ৩৭ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ শতাংশ বেশি। গতকাল বুধবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রপ্তানি আয়ে সুখবর নিয়েই অর্থবছর শুরু হয়েছিল। ইতিবাচক সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক খাতের আয় বাড়ছে। যার কারণে রপ্তানিতে বড় প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হচ্ছে। ইপিবির পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৫২৩ কোটি ডলার। তবে এ সময়ে আয় হয়েছে ১ হাজার ৭০৭ কোটি মার্কিন ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১২ দশমিক ০৭ শতাংশ। এদিকে গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে রপ্তানি আয় অর্জিত হয়েছিল ১ হাজার ৪৫৬ কোটি মার্কিন ডলার। সেই হিসাবে গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাসে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। তথ্য অনুযায়ী, একক মাস হিসাবে নভেম্বরে ৩৪২ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এটি গত বছরের নভেম্বরের চেয়ে ১১ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেশি। গত বছরের নভেম্বরে রপ্তানি হয়েছিল ৩০৫ কোটি ডলারের পণ্য।
ইপিবির তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বরাবরের মতোই চলতি অর্থবছরে জুলাই-নভেম্বর সময়ে মোট রপ্তানি আয়ে বড় অবদান রেখেছে তৈরি পোশাক খাত। আলোচিত সময়ে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ৪১৮ কোটি ৬২ লাখ ডলার। এ সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ২৭৬ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। এ হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ শতাংশ। গত বছর একই সময়ে আয় বেড়েছে ১৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এ প্রসঙ্গে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর এক নেতা বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর গত পাঁচ বছরে দেশের পোশাক খাতের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে সবাই সচেতন। সংস্কারের এ ইতিবাচক উদ্যোগ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহল অবগত রয়েছে। অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশের পোশাক খাতের ওপর আস্থাশীল। যার কারণে এ খাতে রপ্তানি আয় বাড়ছে। তবে এটি আশানুরূপ নয়। কারণ আমরা আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছি না। বৈশি^ক ক্রেতারা ন্যায্যমূল্য দিলে এ খাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি আরো বেশি হতো।
আলোচ্য সময়ে কৃষিপণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৪৫ কোটি ৮৬ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৭৭ শতাংশ বেশি। প্লাস্টিক পণ্যের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ৩০ শতাংশ। এ সময়ে আয় হয়েছে ৪ কোটি ৮৭ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৪ দশমিক ৮১ শতাংশ বেশি। তবে পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি আয় ২২ শতাংশ কমেছে। এ খাতে আয় দাঁড়িয়েছে ৩৫ কোটি ১৫ লাখ ডলার। একইভাবে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতের রপ্তানি আয়ও কমেছে। এ খাতে আয় হয়েছে ৪৩ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ শতাংশ কম। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ৩ হাজার ৬৬৬ কোটি ৮২ লাখ ডলার আয় হয়। এর মধ্যে ৩০ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারই এসেছিল তৈরি পোশাক থেকে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি করে ৩৯ বিলিয়ন (৩ হাজার ৯০০ কোটি) ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার, যা গত অর্থবছরের চেয়ে চার শতাংশ বেশি।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা