খেলাপি ঋণ: সমাধান কোন পথে?

আগের সংবাদ

খেলাপি ভোটাররাও নন-খেলাপি প্রার্থী চান

পরের সংবাদ

নির্বাচনী ইশতেহার ও তরুণদের প্রত্যাশা

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৬, ২০১৮ , ৮:৩৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: ডিসেম্বর ৬, ২০১৮, ৮:৩৮ অপরাহ্ণ

জসীম উদ্দীন

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ১০ কোটি ৪১ লাখ। তার মধ্যে তরুণ ভোটারের সংখ্যা ২ কোটি ৩০ লাখ। এদের মধ্যে আবার ২১ লাখ ৭৭ হাজার ২১৪ জন একেবারেই নতুন। অর্থাৎ মোট ভোটারের ২০ শতাংশই হলো তরুণ। তাই তাদের মনোযোগ আকর্ষণটাই যেন রাজনৈতিক দলগুলোর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে আলোচ্য বিষয় হলো আসন্ন নির্বাচনে তরুণদের প্রত্যাশা কি? আধুনিক যুগের সচেতন তরুণ অবশ্যই একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ, সন্ত্রাসমুক্ত ও অসাম্প্রদায়িক একটি দেশ তারা দেখতে চায়। এখানে তরুণদের কাছে যেমনি প্রত্যাশা আছে তেমনি তরুণদেরও কিছু প্রত্যাশা আছে।

বর্তমান বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট ভোগ করছে। অর্থাৎ দেশের ৬৫ শতাংশ লোকজন কর্মশীল আর মাত্র ৩৫ শতাংশ মানুষ নির্ভরশীল। তাই এ বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে হবে। আবার তরুণদেরও স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেশ গঠনে কাজ করতে হবে। বেকারত্ব আমাদের দেশের প্রধান সমস্যা। আবার দিন দিন শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে।

আশার কথা হলো, তরুণরা বর্তমানে চাকরি করার চেয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার দিকে বেশি ঝুঁকছে। তবে তারা উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। সরকারি বিভিন্ন জটিলতা ও পর্যাপ্ত মূলধনের অভাব তাদের উদ্যোগ গ্রহণের পথকে কণ্টকাকীর্ণ করে তুলেছ। সরকারি আমলারা গাড়ি কেনার জন্য বিনা সুদে ঋণ পেলেও তরুণরা উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সে ধরনের কোনো সুযোগ পাচ্ছে না। তাই আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা থাকবে যে সরকার তাদের উদ্যোগ গ্রহণের পথকে আরো সম্প্রসারণ এবং প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেবে। ব

র্তমান বাংলাদেশের তরুণরা অনেক সচেতন, অসাম্প্রদায়িক এবং সমতায় বিশ্বাসী। তাই নির্বাচনী ইশতেহারে তারা নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের অধিকারের নিশ্চয়তা তারা দেখতে চায়। তরুণরা বিগত বছরগুলোতে লক্ষ করেছে, সব উন্নয়ন হয়েছে রাজধানী ও চট্টগ্রামকেন্দ্রিক। তাই তরুণ সমাজ সব জেলায় সমানভাবে (ডিসেন্ট্রালাইজড এন্ড ইকুইটেবল) উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি সংবলিত ইশতেহার বেশি পছন্দ করবে।

এ বৃহৎ যুবসমাজ এমন নির্বাচনী ইশতেহারকে প্রাধান্য দিবে, যেখানে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ থাকবে এবং বিশ^বিদ্যালয়গুলোর পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন, কারিগরি শিক্ষার প্রসার, প্রশ্ন ফাঁস রোধ ও শিক্ষা খাতে অধিক স্বচ্ছতা আনয়নের নিশ্চয়তা থাকবে।

এ ছাড়া তাদের শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তরুণদের টানতে হলে অবশ্যই সুষ্ঠু ছাত্ররাজনীতির প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম সব সময় সংস্কৃতিমনা তাই সে বিষয়ও খেয়াল রাখতে হবে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর।

সর্বোপরি, এ কথা স্মরণ রাখতে হবে যে, তরুণরা কখনো বিবেচনাহীনভাবে ভোট দিবে না। নির্বাচন চলাকালীন রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা এবং কর্মীদের আচার-আচরণও তাদের ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। একটি সুন্দর, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে তরুণরা নির্বাচিত করবে তাদের পছন্দের সরকারকে। এগিয়ে যাবে তারুণ্য, এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।