মেঘনায় দুই স্পিড বোটের সংঘর্ষে যুবক নিহত

আগের সংবাদ

জাবিতে মুক্তিযুদ্ধের জন ইতিহাস' বিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত

পরের সংবাদ

শেরপুর-১ আসন 

ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন দেশের সর্ব কনিষ্ঠ প্রার্থী প্রিয়াংকা

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৬, ২০১৮ , ১:৩৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: ডিসেম্বর ৬, ২০১৮, ১:৩৪ অপরাহ্ণ

শেরপুর-১ (সদর) আসনে ঐক্য ফ্রন্ট তথা বিএনপি প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ নিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়ছেন দেশের সর্ব কনিষ্ঠ প্রার্থী ডাঃ সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা (২৫)। ৩০০ আসনের প্রার্থী পর্যালোচনায় এমনটাই তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এ আসনে দীর্ঘ ২২ বছর পর ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থীতা পেল বিএনপি। এতে ওই প্রতীকে ভোট দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। এ আসনে রাজনৈতিক মাঠে নবীণ হলেও বিএনপি প্রার্থী সানসিলা জেবরিন লড়াই করছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের হেভীওয়েট প্রার্থী ৪ বারের সংসদ হুইপ আতিউর রহমান আতিকের সাথে। কারাবন্দি পিতা জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক শিল্পপতি মোঃ হযরত আলীর কষ্ট গাঁথা আজ দীর্ঘদিন পর ধানের শীষে প্রতীক পাওয়ার বিষয়কে কাজে লাগিয়ে এ লড়াইয়ে বিজয়ী হতে মাঠ গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রিয়াংকা। জানা যায়, ১৯৯৩ সালের ২২ জুন জন্ম নেয়া ডাঃ সানসিলা জেবরিন বয়স মাত্র ২৫ বছর। এবারের নির্বাচনে বয়সের দিক থেকে তিনি জেলা ৩টি আসনের ক্ষেত্রেই নয়, সারা দেশেই সর্ব কনিষ্ঠ প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হচ্ছেন। তিনি ২০০৮ সালে এসএসসি ও ২০১০ সালে এইচ.এস.সি এবং ২০১৬ সালে এমএমবিবিএস পাশ করেন। তিনি বর্তমানে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রভাষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এ আসনে তার পিতা জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোঃ হযরত আলী ছিলেন বিএনপির মূল প্রার্থী। কিন্তু ঋণ সংক্রান্ত জটিলতায় বাদ পড়ার আশংকায় বিকল্প প্রার্থী ছিলেন ডাঃ প্রিয়াংকা। অবশেষে যাচাই বাছাই কালে সেই আশংকায় বাস্তব রূপ নেয়ায় বাদ পড়েন বিএনপি প্রার্থী হযরত আলী। একই সাথে দলের অপর দুই প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও ফজলুল কাদের লুটুর দলীয় মনোনয়ন না থাকায় দলীয় মনোনয়ন পত্র বাতিল হয়ে গেলে দলের একমাত্র প্রার্থী হিসেবে থেকে যান প্রিয়াংকা। দলীয় সূত্রে জানা যায়, জোটের রাজনীতির স্বার্থে বিগত ৪টি জাতীয় নির্বাচনে শেরপুর-১ (সদর) আসনটি জামায়াতকে ছেড়ে দেয়া হলেও কোন নির্বাচনে জয়ের মুখ দেখেটি জামায়াত। যে কারনে ধানের শীষ প্রতীকে গত ২২ বছরে জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেয়া হয়নি বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের। এদিকে জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামরুজ্জামান মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসি হওয়ার পর এ আসনে নতুন সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করে বিএনপি। তারই ধারাবাহিকতায় এবার তৃণ মূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত পাকাপোক্ত অবস্থান তৈরী হয় জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোঃ হযরত আলীর। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ৩ মাসের অধিক সময় ধরে একাধিক ফৌজদারী মামলায় হাজতবাসে থাকা ও ঋণ খেলাপির দায় থেকে মুক্ত না হওয়ায় সে আশা ভঙ্গ হয়ে যাওয়ায় দল ও পরিবারের পরামর্শে প্রার্থী করা হয় প্রিয়াংকাকে। বিএনপির নতুন মুখ প্রিয়াংকা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয়ের লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই দলীয় নেতা কর্মীদের সাথে মত বিনিময়ের পাশাপাশি যোগাযোগ শুরু করেছেন। সর্ব কনিষ্ট প্রার্থী হিসেবে তিনি এ আসনে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিউর রহমান আতিক, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইলিয়াস উদ্দিনসহ কৃষক, শ্রমিক, জনতা লীগের জহির রায়হান, ইসলামী আন্দোলনের এডভোকেট মতিউর রহমান, ও কমিউনিষ্ট পার্টির আফিল শেখের বিপক্ষে নির্বাচনে লড়বেন। তবে মহাজোটের শরিক দলের নেতা হিসেবে নিজের শেষ চেষ্ঠা ব্যর্থ হলে শেষ পর্যন্ত প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিতে পারেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী আলহাজ্ব ইলিয়াস উদ্দিন। সে ক্ষেত্রে আওয়ামীলীগ প্রার্থী হুইপ আতিকের সাথে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হবে প্রিয়াংকাকে। এমনটাই গুঞ্জন শুরু হয়েছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলে। নিজের প্রার্থীতা বিষয়ে প্রিয়াংকা বলেন, দীর্ঘ সময়ের পর এ আসনে বিএনপি থেকে প্রার্থী দেয়া হয়েছে, এটা অনেক আনন্দের ব্যাপার। এছাড়া এ আসনে ধানের শীষের জনপ্রিয়তা অনেক বেশী। আওয়ামীলীগ প্রার্থী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামীলীগের একজন হেভীওয়েট প্রার্থী রয়েছেন। তিনি শ্রদ্ধাভাজন একজন মানুষ, উনার কাছে আমাদের অনেক কিছু শিখার আছে। প্রিয়াংকা বলেন, নিজেকে অনেক লাকি মনে করছি, কারন সর্ব কনিষ্ট একজন প্রার্থী হিসেবে উনার বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো। আমি মনে করি রাজনীতিতে হার জিত থাকবেই। যদি অবাধ ও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় তবে ধানের শীষের বিজয় শতভাগ নিশ্চিত ইনশাআল্লাহ। এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা সদস্য ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারন সম্পাদক এডভোকেট খন্দকার মাহবুবুল আলম কবির বলেন, প্রিয়াংকা আমাদের ঐক্য ও আকাঙ্খার প্রতীক। এজন্য বিএনপি নেতা কর্মীরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। মাঠ পর্যায়েও তাকে নিয়ে ভাল সারা পাওয়া যাচ্ছে। বয়স ও অভিজ্ঞতার কারনে অসম লড়াইয়ে আশংকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রিয়াংকা কনিষ্ঠ প্রার্থী এটা কোন বিষয় নয়। সাধারন ভোটাররা ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে বিজয়ী করবেন। প্রিয়াংকা এবারের নির্বাচনে নারী ভোটাদের সাড়া জাগাতে পারে।