ফতুল্লায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, নিহত ১

আগের সংবাদ

বৈঠকে ঐক্যফ্রন্ট

পরের সংবাদ

তামিম-সৌম্যর ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের জয়

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৬, ২০১৮ , ৬:০৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: ডিসেম্বর ৬, ২০১৮, ৬:০৮ অপরাহ্ণ

প্রথমে লক্ষ্যটা বেশ বড়ই ছিল। কিন্তু তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকারের ব্যাটিংয়ে তাণ্ডবে ৩৩২ রানের লক্ষ্যটাও ছোট হয়ে গেলো। তবে আলোকস্বল্পতায় বিসিবি একাদশের পুরো ইনিংস সম্পন্ন হয়নি। খেলা থামার পর ডিএল পদ্ধতিতে ৫১ রানে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে বিসিবি একাদশকে।

৯ ডিসেম্বর শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজকে সামনে রেখে আজ বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) সাভারের বিকেএসপি মাঠে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে নামে ওয়েস্ট উইন্ডিজ ও বিসিবি একাদশ।

ম্যাচে উইন্ডিজের দেওয়া ৩৩২ রানের বড় লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসে ঝড়ো সূচনা করেন। দুর্দান্ত সেঞ্চুরি তুলে নেন টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল। ইনজুরি থেকে ফিরে প্রথমবারের মতো ব্যাট করতে নেমেই সেঞ্চুরির দেখা পান তিনি।

তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস মিলে ৮১ রানের জুটি গড়েন। ব্যক্তিগত ২৭ রানে চেজের বলে হেটমায়ারের ক্যাচে পরিণত হয়ে ফেরেন ইমরুল। ইমরুলের বিদায়ের পর সৌম্য সরকারকে নিয়ে এগিয়ে যান তামিম। ৩৪ বলে ৮ চার ও ১ ছক্কায় নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন তামিম। সেখানেই থেমে থাকেননি দেশসেরা ওপেনার, ৭০ বলে ১৩ চার ও ৩ ছক্কায় সেঞ্চুরিও তুলে নেন তিনি।

দলীয় ১৯৫ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ১০৭ রানে চেজের বলে স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন তামিম। আউট হওয়ার আগে ৭৩ বলে ১৩টি বাউন্ডারি ও ৪টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

তামিমের বিদায়ের পর দায়িত্বটা নিজ কাঁধে তুলে নেন সৌম্য সরকার। পূরণ করেন নিজের সেঞ্চুরিও। ৮৩ বলে ১০৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান সৌম্য। এছাড়া আরিফুল হক ১৮ বলে ২১ ও অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ১৮ বলে ২২ রান করেন।

প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে উইন্ডিজের সংগ্রহ করে ৩৩১ রান। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮১ রান করেন শাই হোপ। এছাড়া ৬৫ রানে অপরাজিত থাকেন রোস্টন চেজ।

বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় উইন্ডিজ। ইনিংস শুরু করতে নেমে বেশ দেখেশুনেই শুরু করেন দুই ওপেনার শাই হোপ ও কাইরন পাওয়েল। মাশরাফি ও রুবেলের ১০ ওভার শেষে যেন ঝড় শুরু হয় দুই উইন্ডিজের ব্যাটে।

১৫ ওভারে দুই ওপেনার স্কোরকার্ডে জমা করেন ১০১ রান। ১৬তম ওভারে এই শতরানের জুটি ভাঙেন স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু। ব্যাক্তিগত ৪৩ রানে ইমরুল কায়েসের হাতে ক্যাচে তুলে দিয়ে ফেরেন কাইরন পাওয়াল। ড্যারেন ব্রাভোকে নিয়ে রানের গতি সচল রাখেন হোপ। তবে এই জুটি খুব বেশি বড় হতে দেননি মেহেদি হাসান রানা।

আকবর আলির ক্যাচে পরিণত করে তিন নম্বরে নামা ড্যারেন ব্রাভোকে সাজঘরে পাঠান তরুণ এই বাঁহাতি পেসার। আউট হয়ে ফেরার আগে ৩৩ বলে ২৭ রান করেন ব্রাভো। শাই হোপকে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান অপু। আউট হওয়ার আগে ৮৪ বলে তিন ছক্কা ও ছয়টি চারে ৮১ রান আসে হোপের ব্যাট থেকে।

দ্বিতীয় স্পেলে বোলিংয়ে এসে ৫ রান করা মারলন স্যামুয়েলসক ফেরান অধিনায়ক মাশরাফি। ক্যারিবীয় অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েলকে রানের খাতা খোলার আগেই ফেরান তরুণ স্পিনার শামিম পাটোয়ারী।

এরপর শিমরান হেটমায়ার ও ফ্যাবিয়ান অ্যালেন মিলে কিছুটা প্রতিরোধ গড়তে চাইলেও রুবেলের তা হতে দেননি। হেটমায়ারকে ৩৩ রানে ফিরিয়ে দেন এই পেসার। ডানহাতি এই পেসারের দ্বিতীয় শিকার হন ফ্যাবিয়ান অ্যালেন। হাফ সেঞ্চুরি থেকে ২ রান দূরে থেকে ফেরেন তিনি।

তবে ৫১ বলে চেজের ৬৫ রানের ঝড়ো ইনিংসে ৩০০ পারিয়ে যায় ক্যারিবীয়রা। ছয়টি চার ও এক ছক্কায় ৬৫ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। সর্বশেষ ৮ উইকেট হারিয়ে উইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩৩১।

বিসিবি একাদশের পক্ষে দুটি করে উইকেট নেন রুবেল, নাজমুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান রানা। এ ছাড়া মাশরাফি বিন মুর্তজা ও শামীম পাটোয়ারি নেন একটি করে উইকেট।