ডাক বিভাগের কর্মচারী ভাতা বাড়ল ৭৭ ভাগ

আগের সংবাদ

ভোলা-২ আসনে ৫শত ৫১ কোটি টাকার সিসি ব্লকের কাজ এগিয়ে চলছে

পরের সংবাদ

এনবিআরের রাজস্ব আদায় বেড়েছে

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৩, ২০১৮ , ৩:১৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: ডিসেম্বর ৩, ২০১৮, ৩:১৩ অপরাহ্ণ

গত পাঁচ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫.২৬ শতাংশ। এ সময়ে মোট রাজস্ব আদায়ে ৩৫.১৭ শতাংশ আয়কর ও অন্যান্য খাত ৩৬.০৭ শতাংশ স্থানীয় পর্যায়ে মূসক এবং ২৮.৭৬ শতাংশ শুল্ক আদায় হয়। মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি-রপ্তানি, অর্থপাচার, রিটার্নে মিথ্যা তথ্য দেয়া বন্ধ করতে এনবিআর নজরদারি বাড়িয়েছে। প্রযুক্তি নির্ভরতায় রাজস্ব আদায়ে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে ও রাজস্ব জালের বিস্তারে গুরুত্ব দিয়েছে। এনবিআরের গত পাঁচ অর্থবছরের কার্যক্রম সম্পর্কিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজস্ব আদায় বাড়লেও বড় অঙ্কের ঘাটতি থাকায় প্রতি বছরই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করতে হয়েছে। নতুন আয়কর, ভ্যাট এবং শুল্ক আইন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। সম্পূর্ণ প্রযুক্তি নির্ভরতায় রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা এখনো সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। মিথ্যা তথ্য ব্যবহারের সুযোগ থাকায় রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ হয়নি। এ ব্যাপারে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, এনবিআরের কার্যক্রমে আগের চেয়ে গতি এলেও তা যথেষ্ট নয়। অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছে। এসব বিষয়ে আরো গুরুত্ব বাড়াতে হবে। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূইয়া বলেন, এনবিআরের কার্যক্রমে আধুনিকতা আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। রাজস্ব আদায় প্রতি বছরই বাড়ছে। আশা করছি, সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এনবিআর সফল হবে।
প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, রাজস্ব আদায়ে এনবিআরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা, আদায় হয় ১ লাখ ২০ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা এবং প্রবৃদ্ধি হয় ১০.৬৯ শতাংশ। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১ লাখ ৩৫ হাজার ২৮ কোটি টাকা, আদায় হয় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা এবং প্রবৃদ্ধি ছিল ১২.৩২ শতাংশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা, আদায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা এবং প্রবৃদ্ধি ছিল ১৪.৬০ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা, আদায় হয় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩ কোটি টাকা এবং প্রবৃদ্ধি ছিল ১৮.৯৬ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে ৩০ জুন পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয় ৩ লাখ ৫ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা। এ সময়ে এনবিআরের প্রবৃদ্ধি হয় ১৯.৭৩ শতাংশ। এনবিআরের গত ৫ বছরের রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধির গড় হার ১৫.২৬ শতাংশ।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, রাজস্ব ফাঁকি রোধে এনবিআরের গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অভিযান চালিয়ে অনেক রাজস্ব ফাঁকিবাজ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করা হয়েছে। মিথ্যা তথ্য সরবরাহকারীদের ব্যাংক হিসাব জব্দ ও সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে। অর্থপাচার রোধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, কানাডাসহ ৩৩টি দেশের সঙ্গে অর্থপাচার রোধে নতুন সমঝোতা হয়েছে। এসব দেশের সরকার অর্থপাচার রোধ, পাচারকৃত অর্থ ফেরতে এবং পাচারকৃত অর্থ থেকে রাজস্ব আদায়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতায় রাজি হয়েছে। প্রযুক্তি নির্ভরতায় রাজস্ব আদায়ে এনবিআর ই-পেমেন্ট, ই-ফাইলিং, ই-রিটার্ন চালু করেছে। অনলাইনে টিআইএন দেয়া হচ্ছে। অনলাইনে ভ্যাট আদায়ে চেষ্টা চলছে। আগামী অর্থবছরে ভ্যাট আইন ২০১২ বাস্তবায়নে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সময়ে আয়কর ও শুল্ক আইন কার্যকরেও কাজ চলছে।