কাতারের ওপর অবরোধ বহাল রাখবে সৌদি-মিশর

আগের সংবাদ

হাইকোর্টের আদেশ, নির্বাচন কমিশন পালন করুক

পরের সংবাদ

পাকিস্তানে সার্ক সম্মেলনের আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দিল ভারত

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ২৮, ২০১৮ , ৮:১২ অপরাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ২৮, ২০১৮, ৮:১২ অপরাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিককে সার্ক সম্মেলনে যোগদান করার জন্য পাকিস্তানের আমন্ত্রণ আবারও প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। বুধবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্কের শীর্ষ সম্মেলন পাকিস্তানে আয়োজন করা হলে নয়াদিল্লি তাতে অংশ নেবে না। পাশাপাশি করতারপুর করিডরের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার যে কোনও সম্পর্ক নেই, সে কথাও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সুষমা।

এর আগেও ভারত পাকিস্তানে সার্ক সম্মেলন আয়োজনের বিরোধিতা করায় তা বাতিল হয়ে যায়। সার্কের সব সদস্য রাজি হলেই কেবল আয়োজক দেশ সম্মেলন আয়োজনের দিন-তারিখ ঘোষণা করতে পারে। সার্কের সদস্য দেশগুলো হচ্ছে, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ, ভুটান ও আফগানিস্তান।

মঙ্গলবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মুহাম্মদ ফয়সাল জানান, সার্ক সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। তার ২৪ ঘণ্টাও কাটল না।

বুধবার তেলেঙ্গানা রাজ্যের রাজধানী হায়দ্রবাদে সংবাদ সম্মেলনে সুষমা বলেন, ‘আমন্ত্রণ এসেছে। কিন্তু তাতে আমরা সাড়া দিচ্ছি না। ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে পাকিস্তান মদত দেওয়া বন্ধ না করা পর্যন্ত কোনও আলোচনা হবে না। আমরা সার্ক সম্মেলনে যোগ দিচ্ছি না।’

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে পাকিস্তানের নরওয়ালে বুধবারই করতারপুর করিডরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন হচ্ছে। ভারত থেকে যোগ দিয়েছেন দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরসিমরত কউর বাদল ও হরদীপ সিং পুরি এবং পাঞ্জাবের মন্ত্রী নভজ্যোৎ সিং সিধু।

সাংবাদিক বৈঠকে উঠে আসে সেই প্রসঙ্গও। প্রশ্ন করা হয়, দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে পাঠিয়ে কি ইসলামাবাদের সঙ্গে আলোচনার বার্তা দিতে চাইছে নয়াদিল্লি।

জবাবে সুষমা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘দ্বিপাক্ষিক আলোচনা আর করতারপুর করিডর দু’টি আলাদা বিষয়। আমরা খুশি যে দীর্ঘ বছর ধরে ভারত আর্জি জানানোর পর অবশেষে পাকিস্তান করতারপুর করিডর তৈরিতে সদর্থক পদক্ষেপ করছে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, এর ভিত্তিতেই পাকিস্তানের সঙ্গে ফের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু হবে।’

সুষমা বলেন, ‘যে মুহূর্তে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে মদত দেওয়া বন্ধ করবে, সেদিন থেকেই আলোচনা শুরু হতে পারে। কিন্তু করতারপুর করিডরের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার কোনও সম্পর্ক নেই।’

পাকিস্তানের করতারপুরেই শিখ ধর্মগুরু গুরু নানক অন্তিম শয্যায় শায়িত। শিখদের পবিত্র তীর্থক্ষেত্র এই কর্তারপুরের দরবার সাহিব গুরুদ্বার। এই করতারপুর থেকে পাঞ্জাবের গুরদাসপুরে ডেরা বাবা নানক পর্যন্ত এই করিডরের কাজ শেষ হবে ২০১৯ সালের নভেম্বরে। তারপর থেকে ভারতের শিখ সম্প্রদায়ের মানুষজন বিনা ভিসায় এই করতারপুরের গুরুদ্বার ভ্রমণ করতে পারবেন।