আওয়ামী লীগের মনোনয়নের চিঠি দেওয়া শুরু

আগের সংবাদ

বদলে গেল ইনস্টাগ্রাম

পরের সংবাদ

কালকিনির সাহেবরামপুর পাবলিক লাইব্রেরি

সময়ের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে পাঠক

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ২৫, ২০১৮ , ১:২৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ২৫, ২০১৮, ১:২৯ অপরাহ্ণ

‘বই মানুষের মনের খোরাক’ স্লোগানকে সামনে রেখে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় প্রায় ৮২ বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছিল সাহেবরামপুর পাবলিক লাইব্রেরি। যেখানে প্রতিনিয়ত শত শত বইপিপাসু মানুষের আনাগোনা ছিল। পাঠকদের নিত্য কোলাহলে লাইব্রেরিটি ছিল সার্বক্ষণিক আনন্দমুখর। সংস্কারের অভাব আর সময়ের বিবর্তনে মানুষ একদা জাঁকজমক লাইব্রেরিতে এখন আর কোনো পাঠক যাচ্ছেন না। আকাশ সংস্কৃতির যুগে পাঠক আর এ জরাজীর্ণ লাইব্রেরিতে সময় দিতে চান না।
অথচ বইপ্রেমীদের কথা মাথায় রেখে মাদারীপুর জেলার মধ্যে প্রথম এ লাইব্রেরিটি ১৯৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত করা হয়। কিন্তু বর্তমানে ওই লাইব্রেরিটি সংস্কারের অভাবে দিন দিন তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। এতে করে অনেক বইপ্রেমী মানুষ আসা কমে গেছে এ লাইব্রেরিতে।
জানা গেছে, ১৯৩৬ সালে ওই এলাকার আব্দুল হামিদ মাস্টার টিনশেডবিশিষ্ট সাহেবরামুপর পাবলিক লাইব্রেরিটি প্রতিষ্ঠিত করেন। সেখানে বিভিন্ন কবি-সাহিত্যিকদের লেখা, একুশের চেতনা ও মুক্তিযোদ্ধাভিত্তিক বই সংযোজন করা হয়। লাইব্রেরির পক্ষ থেকে বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালন করে আসছে কর্তৃপক্ষ। এরপর ১৯৪০ সালে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক এই লাইব্রেরিটি দেখতে সাহেবরামপুরে আসেন। এ সময় তিনি পাঠাগারটি টিকিয়ে রাখার জন্য সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন। ১৯৭৮ সালে থেকে এই লাইব্রেরির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন ওই এলাকার মুক্তিযোদ্ধা আওলাদ হোসেন মাস্টার। বর্তমানে বৃষ্টি হলে লাইব্রেরিটির চালা দিয়ে পানি পড়ে বই ও আসবাবপত্র ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তারপর লাইব্রেরিটির বেড়া ছিদ্র হয়ে গেছে। এ লাইব্রেরিটির অবস্থা এখন চরম নাজুক হওয়ায় আগের মতো আর বইপ্রেমীরা বই পড়তে আসেন না। লাইব্রেরিটির বেহাল দশার বিষয়টি নিয়ে অনেক বিত্তশালীদের কাছে একাধিকবার ধরনা দিলেও কেউ এগিয়ে আসেননি বলে জানা যায়। লাইব্রেরিটি সংস্কারের অভাবে তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। বইপ্রেমী মাহামুদুর রহমান ও মো. তপু বলেন, লাইব্রেরিটি সংস্কার না করা হলে যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে। তাই দ্রুত এর সংস্কারের দাবি জানাই।
এ ব্যাপারে সাহেবরামপুর পাবলিক লাইব্রেরির সভাপতি আওলাদ হোসেন মাস্টার বলেন, অর্থের অভাবে আমরা ঐতিহ্যবাহী লাইব্রেরিটির সংস্কার করতে পারছি না।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা