পলওয়েলের সঙ্গে পুলিশের কল্যাণ জড়িত: আইজিপি

আগের সংবাদ

টি-টোয়েন্টিতেও অজিদের হার

পরের সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর ডকুমেন্টারি প্রদর্শন আচরণবিধি লঙ্ঘন : বিএনপি

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ১৭, ২০১৮ , ৬:৪২ অপরাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ১৭, ২০১৮, ৬:৪২ অপরাহ্ণ

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবনী নিয়ে তৈরি ডকুমেন্টারি প্রদর্শনের মাধ্যমে আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে বলে দাবি করেছে বিএনপি।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘একের পর এক নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী আচরণবিধি ন্যূনতম অনুসরণ করছেন না। এ বিষয়ে পুরোপুরি নির্বিকার সরকারের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন।’

‘আচরণবিধিমালা ১৪(২) ভঙ্গ করে শেখ হাসিনা গণভবনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন। এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র ‘হাসিনা: এ ডটার’স টেল’ ডকুমেন্টারি ফিল্মটি চারটি সিনেমা হলে গতকাল শুক্রবার মুক্তি দেওয়া হয়েছে।’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আগামী নির্বাচনে একজন প্রার্থী। শেখ হাসিনা একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সেই কারণে ইতিহাসের নানা ঘটনা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, ক্ষমতার পালাবদল, ব্যক্তি ও রাজনৈতিক জীবনের নানা অভিজ্ঞতা এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি এককেন্দ্রীকভাকে উপস্থাপন করা হয়েছে-যা আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন।’

তিনি বলেন, ‘আচরণবিধিতে বলা আছে-এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যাবে না। এতে প্রচারণা শুরুর আগেই নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করবে। নিজে প্রার্থী হয়ে নিজেই কিভাবে আচরণবিধি ভঙ্গ করেন তা বোধগম্য নয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালার ১২ ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, ভোট গ্রহণের তিন সপ্তাহ পূর্বে কোনো প্রকার প্রচার শুরু করা যাবে না। একই সঙ্গে বিধিমালার ১০(ঙ) ধারানুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারণার জন্য প্রার্থীর ছবি বা প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণামূলক কোনো বক্তব্য দেওয়া যাবে না। এই ডকুমেন্টারি ফিল্মটি কি প্রচারণামূলক নয়?’

‘বিধিমালার ৭-এ পোস্টার ব্যহারের বিধি-নিষেধও আছে। সেখানে বলা আছে-সিটি করপোরেশন এবং পৌর এলাকার কোথাও পোস্টার সাঁটানোর কোনো সুযোগ নেই। অথচ ডকুফিল্মটি সিটি করপোরেশন এলাকায় অর্থাৎ সিনেমা হলগুলোয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি সম্বলিত পোষ্টারসহ রীতিমতো মহড়া আকারে প্রচারণা চালানো হচ্ছে”, বলেন বিএনপির এই নেতা।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নেওয়ায় নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘ঢাকঢোল পিটিয়ে এসব করা হলেও নির্বাচন কমিশন নীরব দর্শকের ভূমিকায়। এছাড়াও বিভিন্ন টেলিভিশন ও রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে সিটি করপোরেশনের স্থাপিত টিভি স্ক্রিনে শেখ হাসিনার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড প্রচার চালানো হচ্ছে।’

‘প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক আচরণবিধি ভঙ্গের অসংখ্য প্রমাণ থাকলেও নির্বাচন কমিশনের নীরব ভূমিকার কারণে নির্বাচনে ন্যূনতম লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি। বরং আচরণবিধি লঙ্ঘন না করলেও পরিকল্পিতভাবে ঘটনা তৈরি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হচ্ছে বিরোধীদলের ওপর’, বলেন তিনি।

বর্তমান প্রেক্ষাপটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘অবিলম্বে শেখ হাসিনার ওপর নির্মিত ডকুফিল্মটি সিনেমা হলগুলো থেকে প্রত্যাহার করতে হবে। কোনোভাবেই নির্বাচনকালীন সময়ে এসব প্রচারণা চালানো যাবে না। পাশাপাশি গণভবনকেও নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করা যাবে না।’

নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের ন্যূনতম কোনো পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি কমিশন, মানুষের মন থেকে ভীতি দূর করতে পারেনি। ভোট দেওয়া দূরে থাক, মানুষ নির্ভয়ে মুখ খুলে কথা বলবে এমন পরিস্থিতিও দেশে নেই।’