স্পেনের বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়ার জয়

আগের সংবাদ

সাম্প্রদায়িক শক্তি এখন ধানের শীষে ভর করেছে: সেতুমন্ত্রী

পরের সংবাদ

কম্বোডিয়ায় দুই খেমার রুজ নেতা গণহত্যার দায়ে দণ্ডিত

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ১৬, ২০১৮ , ৬:১৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ১৬, ২০১৮, ৬:১৮ অপরাহ্ণ

কম্বোডিয়ায় প্রথমবারের মতো দুই খেমার রুজ নেতা গণহত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। দেশটির এক-চতুর্থাংশ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী এ নৃশংস শাসনের পতনের ৪০ বছর পর শুক্রবার জাতিসংঘ সমর্থিত ট্রাইব্যুনাল তাদের আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন।

এর আগে ২০১৪ সালে একই ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষীসাব্যস্ত করে এ দুজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড হয়।

সাজাপ্রাপ্ত খেমার নেতারা হলেন- মাওবাদী সাবেক শাসক পল পটের ডেপুটি নুওন চে (৯২) এবং তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান খিউ সাম্ফান (৮৭)।

আজ শুক্রবার দ্য এক্সট্রাঅর্ডিনারি চেম্বারস ইন দ্য কোর্টস অব কম্বোডিয়া (ইসিসিসি) জানায়, খেমার রুজ ব্রাদার নম্বর টু নুওন চে এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট খিউ সাম্ফানকে চ্যাম মুসলমান এবং নৃতাত্ত্বিক ভিয়েতনামীদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যা চালানোর অভিযোগে দোষীসাব্যস্ত করা হচ্ছে।

এ রায় খেমার রুজ শাসকদের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে গণহত্যা চালানোর অভিযোগের প্রথম আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।

বিবিসি জানিয়েছে, এ ট্রাইব্যুনালে এখন পর্যন্ত মাত্র তিনজন খেমার রুজ নেতাকে দোষীসাব্যস্ত করা হয়েছে। অন্যজন হলেন কমরেড ডাচ।

পল পটের ডেপুটি নুওন চে কম্বোডিয়ার মানুষের কাছে ব্রাদার টু নামে পরিচিত ছিলেন।

ব্রাদার ওয়ান পল পটের নেতৃত্বে ১৯৭৫ সালের ১৭ এপ্রিল সেনাবাহিনীকে হটিয়ে খেমার রুজ গেরিলারা তৎকালীন কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেন দখল করে নেয়।

নমপেন দখল করে পল পট সরকার মূলত কৃষি সংস্কারের নামে ভয়ঙ্কর হত্যাযজ্ঞ চালায়। পল পট ১৯৯৮ সালে কম্বোডিয়ার জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় মারা যান। খেমার রুজের আনুষ্ঠানিক নাম ছিল কমিউনিস্ট পার্টি অব কাম্পুচিয়া (সিপিকে)।

২০১১ সালে কম্বোডিয়ার মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে খেমার রুজের বিরুদ্ধে গণহত্যা, যুদ্ধ অপরাধ এবং মানবতাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে বিচার শুরু হয়।

১৯৭৫-৭৯ সাল পর্যন্ত খেমার রুজের শাসনামলে কম্বোডিয়ায় ১৭ লাখ মানুষ নির্যাতন ও অনাহারে মারা যান বা তাদের গণহত্যা করা হয়, যা দেশটির ওই সময়ের মোট জনসংখ্যার এক-চর্তুথাংশ ছিল।

খেমার রুজের শাসনামলে শহরগুলো খালি করে ফেলা হয়েছিল। কৃষিনির্ভর সমাজ বিনির্মাণে খেমার রুজের লক্ষ্য বাস্তবায়নে শহরের বাসিন্দাদের গ্রামে সমবায়ভিত্তিক কাজে নিয়োজিত করা হয়। তখন অনেকেই কাজ করতে গিয়ে মারা যান।

চার বছরের ভয়াবহ শাসনের সময় সম্ভাব্য শত্রু অনুমানে বুদ্ধিজীবী, সংখ্যালঘু, সাবেক কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদেরও হত্যা করা হয়।

নুওন চে খেমার রুজ সরকারের আদর্শিক বিষয়গুলো পরিচালনা করতেন। আর খিউ সাম্ফানকে সামনে রেখেই এসব কিছু বাস্তবায়ন করা হতো।

নুওন চে ও খিউ সাম্ফানের সঙ্গে সাবেক দুই খেমার রুজ সরকারের মন্ত্রীরও বিচার শুরু হয়েছিল।

২০১৩ সালের মার্চে সাবেক খেমার রুজ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী লেঙ স্যারি মারা যান। আর তার স্ত্রী সাবেক সমাজমন্ত্রী লেঙ তিরিতকে বয়সজনিত কারণে ট্রাইব্যুনাল বিচারের অযোগ্য ঘোষণা করে।