আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার বুধবার

আগের সংবাদ

উত্তর কোরিয়ার ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনা কেন্দ্র সক্রিয়

পরের সংবাদ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চূড়ান্ত সম্মতি মিয়ানমারের

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ১২, ২০১৮ , ৮:১৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ১২, ২০১৮, ৮:১৯ অপরাহ্ণ

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আগামী ১৫ নভেম্বর প্রত্যাবাসনের প্রথম দফা শুরু হচ্ছে। প্রথম ব্যাচে ৪৮৫ পরিবারের ২ হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গা কক্সবাজারের শিবির থেকে তাদের নিজেদের বসত-ভিটা মিয়ানমারে ফিরে যাবে বলে নিশ্চিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সোমবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মিয়ানমার সরকার।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য দুই দেশের মধ্যে গঠিত যৌথ কমিটির সবশেষ বৈঠকে আগামী ১৫ নভেম্বর প্রত্যাবাসনের প্রথম ব্যাচ শুরু করার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়। প্রথম ব্যাচে ৪৮৫ পরিবারের ২ হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গা মিয়ানমার ফিরে যাবে।

প্রথম ব্যাচের প্রত্যাবাসন শুরু হলে ধারাবাহিকভাবে বাকি রোহিঙ্গারাও ফিরে যাবে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে।

এর আগে ঢাকাকে নেপিডোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এরই মধ্যে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় মিয়ানমার ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গা নাগরিকদের বসবাসের জন্য ভারত সরকার ২৮৫টি বাড়ি নির্মাণ করে দিয়েছে। আর চীন সরকার ১ হাজার বাড়ির কাঠামো পাঠিয়েছে, যেগুলো সংযোগ করলেই পূর্ণ বাড়িতে রূপ নেবে।

অন্যদিকে, দুই দেশের সীমান্তের শূন্য রেখায় যেসব রোহিঙ্গা বসবাস করছেন তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কাজও দ্রুত শুরু হচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রস (আইসিআরসি) শূন্য রেখায় বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারকে সঙ্গে নিয়ে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। শূন্য রেখায় বসবাসকারীরা তাদের আগের বসত-ভিটায় সরাসরি ফেরত যাবে।

মিয়ানমার সরকার এবং সেনাবাহিনীর অত্যাচার সইতে না পেরে, জীবন বাচাতে বিগত ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ঢল নামে। প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের একাধিক শিবিরে আশ্রয় নেয়। তারও আগে একই কারণে আরও প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের একাধিক শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের মুসলমান রোহিঙ্গাদের ওপর গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে গণহত্যা, নিপীড়ন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়াসহ নানা ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ চালিয়ে আসছে দেশটির সেনাবাহিনী ও তাদের মদতপুষ্ট বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কয়েকটি গোষ্ঠী। ফলে ধারাবাহিকভাবে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয়ের জন্য পালিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে চলে আসে। বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিলেও ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়াতে আহ্বান জানায়। সারা বিশ্বে নিন্দিত এ ঘটনায় চরম সমালোচিত হয়ে চাপের মুখে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আলোচনায় সম্মত হয় মিয়ানমার। পরে তালিকা সরবরাহ ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলে দেশটির সামরিকবাহিনীর সমর্থনপুষ্ট সরকার। সরকার তাতেও রাজি হলে রোহিঙ্গাদের তালিকা সরবরাহ করা হয়।

এরপর যাচাই-বাছাই ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার জন্য উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কর্মকর্তারা কয়েক দফায় বৈঠকে মিলিত হন। সর্বশেষ গত ৩০ অক্টোবর মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট শয়ে ঢাকায় এসে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হকের সঙ্গে এ ব্যাপারে বৈঠক করেন। এরপর সাংবাদিকদের মিন্ট শয়ে বলেন, ‘আমাদের দুইপক্ষেরই রাজনৈতিক সদিচ্ছা আছে এবং আমরা দুই পক্ষই দ্রুত প্রত্যাবাসন শুরু করতে চাই।’ রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা রাখাইনে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছি। এরমধ্যে রয়েছে সেখানকার পুলিশ এবং জনগণকে সচেতন করা, যাতে রোহিঙ্গারা বৈষম্যের শিকার না হয়।’ বর্তমানে বাংলাদেশে সাড়ে দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছে।