আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান শেরেবাংলার দৌহিত্র রাজু

আগের সংবাদ

নাইকো দুুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সম্পৃক্ততা

পরের সংবাদ

আ.লীগের কাছে ১০০ আসন চাইবে জাপা

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ১২, ২০১৮ , ৮:৫৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ১২, ২০১৮, ৮:৫৬ অপরাহ্ণ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে ফের মহাজোট গঠনের মধ্য দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবে এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি। তবে লাঙ্গল প্রতীক নিয়েই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে দলটি।

আজ সোমবার বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মহাজোট গঠন করে জাতীয় পার্টি। এরপর ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে একক ভাবে অংশ নেয়ার কথা বলে জাপা। শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে যায় দলটি। মূলত ২০০৮ সালের নির্বাচনে পর থেকে মহাজোট আর কার্যকর নেই। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফের মহাজোটে এরশাদের নির্বাচন করা নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। তবে সবকিছু নির্ভর করছিল বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা না করার বিষয়ে।

শেষ পর্যন্ত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় ফের মহাজোটে এরশাদের নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে মহাজোটে থেকে ৮০টি আসন, ১২জন মন্ত্রী পরিষদের সদস্য রাখতে এরশাদ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আনুষ্টানিক দাবি জানিয়েছেন। যদিও আগে ১০০ আসন চাওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগের কাছে। শেষ পর্যন্ত ২০টি আসন ছাড় দেয়া হয়েছে।

সোমবার জাতাীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের) রাজধানীর বনানীতে দলের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্ট যদি নির্বাচনে না আসে, তাহলে আমরা ৩০০ আসনে নির্বাচন করবো। আর যদি ওই জোট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তাহলে আমরা আওয়ামী লীগ এবং ১৪ দলের সঙ্গে মিলে মহাজোট গঠন করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জিএম কাদের বলেন, ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাকে ইতিবাচক মনে করছে জাতীয় পার্টি। সব দলের অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের স্বার্থে ভালো। দেশবাসীর জন্য উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টির সূচনা করবে। একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জিএম কাদের বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের কাছে ১০০ আসন চাইবেন। তবে আওয়ামী লীগ জোটের শরিক দলগুলোকে ৭০টি আসন দিতে চেয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি সিদ্ধান্ত হবে। সেটি এখনো বলা যাচ্ছে না।

ভোটগ্রহণের দিন পেছানোর বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। সব দলের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হবে। এজন্য তারা যেসব পদক্ষেপ নেবে তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নাই। নির্বাচন কমিশন যখন তফসিল ঘোষণা করে, তখন আমরা বলেছি, আমরা নির্বাচন করবো। এখন নির্বাচন কমিশন মনে করছে, নির্বাচন পিছিয়ে দিলে অংশগ্রহণমূলক হবে। এখন সেটা করছেন, এতে আমাদের সম্মতি আছে। সাবেক মন্ত্রী জিএম কাদের আরো বলেন, ফরম বিক্রিতে আমরা ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। দেশের প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রার্থীরা আমাদের মনোনয়ন ফরম নিচ্ছেন। কোনো কোনো সংসদীয় আসন থেকে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম বিক্রি হবে। তার দু’দিন পর যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত করা হবে। তবে ভোটগ্রহণের দিন পেছানোর কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নেবো মনোনয়ন বিক্রির সময় আরও দু-একদিন বাড়িয়ে দেবো কি-না। যেহেতু আমাদের অনেক প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক তাই বিক্রির সময় বাড়ানো হলে যাচাই বাছাইয়ের সময়ও বাড়ানো হতে পারে।

সাবেক বিমানমন্ত্রী বলেন, যতোদিন জাপা দেশ পরিচালনা করেছে, ততোদিন দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার ছিল। জিএম কাদের বলেন, জাপার অবস্থান কখনো দুর্বল হবে না। জাপার অবস্থান জনগণের সমর্থনের উপর। আমরা মনে করি জাপার উপর জনগণের আস্থা আছে, অনেক প্রত্যাশা আছে।

তিনি বলেন, জাপার আমলে দেশে সুশাসন ছিলো, আইনের শাসন ছিলো, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ছিলো এবং ন্যায়বিচার ভিত্তিক সমাজ ছিলো। আমরা ওই ধরনের সরকার দিতে পারবো। এটা আমরা বিশ্বাস করি। জনগণও আমাদের ব্যাপারে আশাবাদী। জনগণের বিশ্বাস আছে। কাজেই আমরা কোনো বিষয়ে দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা করি না। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জিএম কাদের বলেন, স্বচ্ছ নির্বাচনের বিষয়ে আমরা আশাবাদী। জাপা থেকে যে কয়েকটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছি, নির্বাচনগুলোতে মোটামুটি স্বচ্ছতা পেয়েছি। দু’একটিতে যে দোষ-ত্রুটি হয়েছে, সেটা সব সরকারের আমলেই হয়েছে।