আশুলিয়ায় জমি বিরোধের জের ধরে বড় ভাইকে কুপিয়ে হত্যা

আগের সংবাদ

রাজনৈতিক দল ও জোটে আসন ভাগের তোড়জোড়

পরের সংবাদ

পোশাকের দেশীয় ব্র্যান্ডকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এগিয়ে নেবার সময় এসেছে

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ১১, ২০১৮ , ১১:১০ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ১১, ২০১৮, ১১:১২ পূর্বাহ্ণ

ভোরের কাগজ ফ্যাশনের মুখোমুখি

পোশাকের দেশীয় ব্র্যান্ডকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এগিয়ে নেবার সময় এসেছে

শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী বাবু চেয়ারম্যান, জেন্টল পার্ক লিমিটেড

পুরুষের ফ্যাশন নিয়ে এখন এতো আলাপ চললেও বাংলাদেশে পুরুষের ফ্যাশন ব্র্যান্ড নিয়ে মাতামাতি ৮০-এর দশকের পর থেকে। দীর্ঘ সময় পরে, ট্রেন্ড ব্রেকার অনেক পোশাকের লেবেলের ভিড়ে বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে ২০০৬ সালে নাম লেখায় জেন্টল পার্ক। ব্র্যান্ডটি বয়সে অন্যদের চেয়ে নবীন হলেও মেনজ ফ্যাশনের অন্যতম ধারক ও বাহক হিসেবে চলছে কান্ডারির বেশে। লক্ষ্য ছিল পাশ্চাত্য ঘরনার স্টাইলিশ ট্রেন্ডে সবার মন জয় করা। শুরুটা ২০০৬ সালে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে। অল্প সময়েই বন্দর নগরীর তরুণদের মাঝে এই হাউজ মন জয় করতে সক্ষম হয়। সে ভরসায় জেন্টল পার্ক ২০০৮ সালে যাত্রা করে রাজধানীর উদ্দেশ্যে। বর্তমানে ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বগুড়া, বরিশাল, কুমিল্লা এবং খুলনাতে ৩৩টিও বেশি শো-রুম রয়েছে। দীর্ঘ ১২ বছরের পথচলায় যুক্ত হয়েছে জেন্টল পার্ক ওমেন ও জুনিয়র নামে তরুণী ও শিশুদের জন্য পৃথক লেবেল। অনলাইনে ফেসবুক পেজে যুক্ত হয়েছে নয় লক্ষাধিক শুভাকাঙ্খী। বেড়েছে ক্রেতা অনলাইন সেবা এবং রেডি টু ওয়ারের ডোর টু ডোর সার্ভিস সুবিধা। ব্র্যান্ডটির পেছনের গল্প, সাফল্য এবং সামনের পরিকল্পনাগুলোই এবার জেনে নিতে মুখোমুখি হয়েছেন শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী বাবু। তিনি ব্র্যান্ডটির চেয়ারম্যান এবং ডিজাইন বিভাগের প্রধান।

কাজের প্রতি একাগ্রতা, উদ্যমী ও স্বপ্নচারী হলে একজন তরুণ উদ্যোক্তা স্বল্প পুঁজিতেও সাফল্যকে হাতের মুঠোয় নিতে পারেন তার প্রমাণ রেখেছেন বত্রিশ বছর বয়সী এই তরুণ। তার কারখানা ঢাকার জিগাতলায়, অফিস বনানীতে। আজ থেকে প্রায় ১০ বছর আগে সামান্য পুঁজিতে এবং ছোট পরিসরে কারখানা চালু করে এখন ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বড় শহরগুলোতে জেন্টল পার্কের ৩৩টির বেশি শো-রুম। সমকালীন ফ্যাশন ট্রেন্ড, ডিজাইনের মুন্সিয়না এবং মানসম্মত কাপড় ও সেলাইয়ে আকর্ষণীয় পোশাক দিয়ে সুসজ্জিত এখন প্রতিটি স্টোর। ফ্ল্যাগশীপ ধারণা থেকে প্রতিটি শোরুমের ইন্টেরিয়য়ের এখন আধুনিক স্থাপত্যশৈলী এবং অনুসঙ্গে নির্মাণ করা হচ্ছে।

শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী বাবু তার স্বপ্ন, সাহস, কঠোর পরিশ্রম ও সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। ফ্যাশন ডিজাইন এবং পোশাকের প্রতি বিশেষ দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দুর্বলতার কারণে ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডিজাইন’ থেকে ডিপ্লোমা করি এবং ২০০৬ সালে চট্টগ্রাম থেকেই শুরু করি এই ব্যবসা। পরে ঢাকা চলে যাই। সেখানে জিগাতলায় ৩০ হাজার বর্গফুটের ফ্লোরে কারখানা স্থাপন করি, যার নাম দিই ‘জেন্টল পার্ক’। প্রথমে পুরুষদের শার্ট-প্যান্ট তৈরির পর নারী ও শিশুদের পোশাক উৎপাদনে যাই। সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে ৫০ লাখ টাকা পুঁজি বিনিয়োগের মাধ্যমে কারখানা চালুর বিষয়টিকে একটি ‘চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে নিয়েছিলাম। এখন ১০ বছরের মাথায় আমি ৩৩টিরও শোরুম পরিচালনা করছি। আমি তাতে তৃপ্ত। আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে বিদেশে জেন্টল পার্কের তৈরি পোশাক রপ্তানির। বর্তমানে পাঁচ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মরত আছে জেন্টল পার্কে। উৎপাদিত পোশাক-পরিচ্ছদের মধ্যে রয়েছে শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্ট, পলো গেঞ্জি, পাঞ্জাবি, ব্লেজার, জ্যাকেট, লং টপস, স্যুয়েটার, কিডস শার্ট ইত্যাদি।

জেন্টল পার্কের এই উদ্যোক্তা বলেন, জেন্টাল পার্কে যত পোশাক তৈরি হয় তার সবগুলোতেই তারুণ্যের ছাপ থাকে। আমরা চেষ্টা করি এ সময়ের তরুণদের মাঝে দেশি প্রতিষ্ঠানের পোশাক পরার প্রবণতা তৈরি করার। একটা সময় এদেশের তরুণরা শুধুই বিদেশি নামকরা ব্র্যান্ডের পোশাকগুলো খুঁজত। এরপরে শুরু হয় বাজারে এসব ব্র্যান্ডের নকল পণ্যের বিক্রির রেওয়াজ। সে ধারা ভেঙ্গে একেবারেই দেশি ব্র্যান্ডের স্টিকার লাগিয়ে পোশাক বিক্রির প্রয়াস নিয়ে জেন্টল পার্ক এতোদূর এসেছে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের পোশাকের বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিটি পোশাকের এক বার যে ডিজাইন হয়েছে, তার আর দ্বিতীয় বার হয় না। তাই তরুণদের মাঝে আমাদের পোশাকের একটা আলাদা ভালো লাগা তৈরি হয়েছে। জেন্টল পার্ক দেশীয় কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ফ্যাশন সচেতন তারুণ্যে ক্রেতা আগ্রহ বাড়াতে এবং ব্র্যান্ড ইমেজ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট, ব্র্যান্ডিং, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। দেশে মানুষের জন্য আন্তর্জাতিক মানের পোশাকের ব্র্যান্ডই হতে চায় এখন জেন্টল পার্ক। তাই এখন দেশের বাইরেই প্রতিষ্ঠানটির ফটোশ্যুট বা ভিডিও চিত্র নির্মাণ করা হচ্ছে।

দেশীয় ব্র্যান্ডের জন্য উল্লেখযোগ্য সমস্যা
১. স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর বাণিজ্যিক আউটলেট বাবদ অগ্রীম জমাকৃত টাকার অংক বেড়েছে ১০-৩০ ভাগ । নেই কোন বাড়িভাড়া নীতিমালা বা সরকারি নজরদারি।
২. গত ৪ বছরে ভ্যাট ট্যাক্স জটিলতা বেড়েছে কয়েকগুণ। সরকারের ধারণা দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো প্রচুর লাভ গুণে নিচ্ছে।
৩. শ্রমিকের মজুরি, কাপড়ের দাম এবং স্টোরের দৈনন্দিন খরচ বেড়ে গেছে গত ৩ বছরের তুলনায় ২০ ভাগ।
৪. গত ৫ বছরে এখাতে দেশীয় বিনিয়োগ বেড়েছে। বাজার চাহিদা থেকে ব্র্যান্ড এখন বেশি। প্রতিযোগীতার বাজারে টিকে থাকতে তাই তৈরিকৃত পণ্যের দাম কমাতে হয়েছে।
৫. গার্মেন্টেস শিল্পের মতো বন্ড সুবিধা না থাকায় পণ্য তৈরির উৎপাদন খরচও অনেক বেশি।