‘আওয়ামী লীগই আমার প্রথম দল’

আগের সংবাদ

সালাহ-শাকিরির গোলে জয়ে ফিরল লিভারপুল

পরের সংবাদ

এখনই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন চায় না যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ১১, ২০১৮ , ৮:২৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ১১, ২০১৮, ৮:২৪ অপরাহ্ণ

১৫ নভেম্বর থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন না করতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি বলছে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইন এখনও প্রস্তুত নয়।

রবিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে এই কথা জানিয়েছে।

গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার চুক্তি সই করেছে। প্রথম দফায় দুই হাজার ২৬০ জনের একটি দলকে রাখাইনে ফিরিয়ে নেয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর আগে সেখানকার পরিস্থিতি বোঝার জন্য মিয়ানমারে পূর্ণ প্রবেশাধিকার দরকার।

বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়া স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ করতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া মেনে চলতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে গত বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও এই প্রথম প্রত্যাবাসন শুরুর একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা হয়। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন এবং ফেরার পর নিরাপদ ও সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিন্ট থোয়ো।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ২২ হাজার ৪৩২ জন রোহিঙ্গার নতুন তালিকা হস্তান্তর করে বাংলাদেশ। সেখান থেকে প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ থেকে দেওয়া আট হাজার রোহিঙ্গার প্রথম তালিকা যাচাই করে তাদের নিজেদের নাগরিক বলে স্বীকারও করেছে মিয়ানমার। কিন্তু সেই তালিকা স্বাক্ষরিত চুক্তিতেই থমকে যায়। নানা টালবাহনায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে গড়িমসি করেই যায় মিয়ানমার।

নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুতে কোনো বাধা নেই বলেও জানান মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থো। কিন্তু জাতিসংঘ এর প্রতিবাদ জানায়। এবার এর সঙ্গে যোগ হলো যুক্তরাষ্ট্র।

এই প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক রীতি মেনে চলা, ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়ার জন্য দুই দেশের প্রতি আহ্বান জানায় যুক্তরাষ্ট্র।

এছাড়া রাখাইন রাজ্যে সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করে তা সামাধানের জন্য গঠনমূলক ভূমিকা পালনে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। সেইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদান, চলাফেরার স্বাধীনতা, জীবিকার অধকারসহ আনান কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।