জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২৩ ডিসেম্বর: সিইসি

আগের সংবাদ

একজন জামাল খাসোগি এবং মুক্তচর্চার পৃথিবী

পরের সংবাদ

রোহিঙ্গা বিদেশ পাড়ি

দালাল চক্র প্রতিরোধ করতে হবে

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ৮, ২০১৮ , ৭:৫৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ৮, ২০১৮, ৭:৫৬ অপরাহ্ণ

সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের চেষ্টাকালে গত বুধবার ৩৩ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুকে আটক করেছে কোস্টগার্ড সদস্যরা।

এ সময় ৬ দালালকেও আটক করা হয়েছে। ৩৩ রোহিঙ্গার মধ্যে ১০ জন নারী, ১৪ জন পুরুষ ও ৯ জন শিশু। তারা উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। রোহিঙ্গাদের অন্যত্র, বিশেষ করে অবৈধভাবে বিদেশে পাড়ি দেয়ার খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

অতীতে বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে এবং বাংলাদেশিদের শ্রমবাজারে সমস্যা সৃষ্টি করেছে। রোহিঙ্গারা যাতে বাংলাদেশি পাসপোর্ট না পায় সে জন্য সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

গত সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত আইওএম ও তার অংশীদাররা মানবপাচার ও শোষণের অন্তত ৯৯টি ঘটনার প্রমাণ পেয়েছে।

সেগুলোর মধ্যে ৩৫ রোহিঙ্গা কন্যাশিশু, ৩১ রোহিঙ্গা নারী, ৮ রোহিঙ্গা ছেলে ও ২৫ জন রোহিঙ্গা পুরুষ। নারী ও কন্যাশিশুদের শোষণের শিকার হওয়ার পাশাপাশি শ্রম দিতে বাধ্য হওয়া, ঋণগ্রস্ত হওয়া, শিশুশ্রম, জীবিকার জন্য যৌনতায় বাধ্য হওয়ার উদাহরণ রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমবয়সী নারীদের গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ করা হলেও পরে তাদের যৌনকাজে বাধ্য করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিদেশে পাচারের জন্য ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। জোরপূর্বক বিয়ের উদ্দেশ্যে কিশোরীদের অপহরণের ঘটনাও ঘটছে। এমন চিত্র আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য ঝুঁকি বাড়বে। কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গা ১১ লাখেরও বেশি। তাদের নাম-ঠিকানা, ছবি ও আঙুলের ছাপ নিয়ে সরকার তথ্যভাণ্ডার তৈরি করেছে।

কিন্তু নিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের তথ্যভাণ্ডার এখনো পাসপোর্টের মূল সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত না করা রহস্যজনক। এই সুযোগ নিচ্ছে দালালরা। বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট করে দিতে একটি চক্র গড়ে উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পাসপোর্ট অফিসের কর্মচারী, পুলিশের কতিপয় কর্মকর্তা এবং দালালদের নিয়েই চক্রটি গড়ে উঠেছে। দেশের একজন প্রকৃত নাগরিকও চাইলেই পাসপোর্ট পান না।

এ জন্য তাকে জন্মনিবন্ধন সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ নানা তথ্যপ্রমাণ কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করতে হয়। এরপর সেই তথ্য-উপাত্ত সঠিক কিনা, তা যাচাই করে থাকে পুলিশ বিভাগের বিশেষ শাখা। এই প্রেক্ষাপটে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই পর্যন্ত বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে দুই থেকে আড়াই লাখ রোহিঙ্গা বিদেশে চলে গেছে বলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে। ভয়াবহ বিষয় হলো অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের নিয়ে জঙ্গিবাদ বিস্তারের ষড়যন্ত্রও চলছে। রোহিঙ্গা নারী-কিশোরীদের তারা টার্গেট করেছে জঙ্গিবাদে দীক্ষা প্রদানে। জঙ্গিরা গোপনে বিয়ে করে তাদের নিয়ে পাড়ি দিচ্ছে অন্যত্র। এসব ঠেকাতে প্রশাসনিক উদ্যোগও কাজে আসছে না। একাধিক দালাল চক্র এ কাজে সক্রিয় রয়েছে। এদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

অন্যথায় বিদ্যমান অবস্থা রাষ্ট্রের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দেবে।