ফুরফুরে মেজাজে আওয়ামী লীগ, মামলায় এলাকা ছাড়া বিএনপি

আগের সংবাদ

শিল্পকলায় মেঠো পথের ‘অতঃপর মাধো’ মঞ্চস্থ

পরের সংবাদ

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইমেজ, এখনো মাঠে নামেনি বিএনপি

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ৮, ২০১৮ , ৩:২৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ৮, ২০১৮, ৩:২৭ অপরাহ্ণ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে শরীয়তপুর-৩ (ভেদরগঞ্জ উপজেলার একাংশ, ডামুড্যা ও গোসাইরহাট উপজেলা) নির্বাচনী এলাকা। আসনটি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী ইতোমধ্যে নিজের প্রার্থিতার জানান দিতে পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ, রাস্তার মোড়ে মোড়ে ফেস্টুন স্থাপনসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা শুরু করেছেন। অপরদিকে বিএনপি জর্জরিত অভ্যন্তরীণ কোন্দলে। অন্তত তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে রয়েছেন এ আসনের বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। যে কারণে দলটি এখনো নির্বাচনমুখী কর্মকাণ্ড শুরু করতে পারেনি। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির পক্ষে আব্দুল হান্নান ও ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশের পক্ষে এডভোকেট হানিফ মিয়া দলীয় একক প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন অন্তত ৪ জন। এদের মধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত আলহাজ আব্দুর রাজ্জাকের বড় ছেলে নাহিম রাজ্জাক এমপি, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বাহাদুর বেপারি, শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ছাবেদুর রহমান খোকা শিকদার এবং শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি অনল কুমার দে।
অপরদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশায় মাঠ গোছাতে কাজ করছেন শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শিল্পপতি সাঈদ আহমেদ আসলাম, সাবেক এমপি এ কে এম হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গের স্ত্রী এডভোকেট তাহমিনা আওরঙ্গ, তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী মিয়া নুরুদ্দীন অপু।
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট, ডামুড্যা উপজেলা এবং ভেদরগঞ্জ উপজেলার আংশিক (ভেদরগঞ্জ থানা) নিয়ে গঠিত শরীয়তপুর-৩ নির্বাচনী এলাকা। গোসাইরহাট উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৮ ইউনিয়নে ভোটার ১ লাখ ১৪ হাজার ৮০৪ জন। ডামুড্যা উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নে ভোটার
৮৫ হাজার ৭৬৭ জন। আর ভেদরগঞ্জ উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৪টি ইউনিয়নে ভোটার ৫৪ হাজার ১৩৬ জন। সব মিলিয়ে এ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৫৪ হাজার ৭০৭ জন।
এ আসনে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রæয়ারির বিতর্কিত নির্বাচন ছাড়া টানা ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, আওয়ামী লীগের সভাপতিমÐলীর সাবেক সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আলহাজ আব্দুর রাজ্জাক। আধুনিক শরীয়তপুরের রূপকার হিসেবে পরিচিত আব্দুর রাজ্জাকের মৃত্যুর পর এ আসনে তার ছেলে নাহিম রাজ্জাক উপনির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর থেকে নাহিম রাজ্জাক তার নিজ নির্বাচনী এলাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত ডিজিটাল সোনারবাংলা গড়ার লক্ষ্যে রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, স্কুল-কলেজের ভবন নির্মাণ, প্রত্যন্ত চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতায়নসহ নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয় নেতাকর্মীদের আস্থাভাজন হিসেবে পরিণত হয়েছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে পুনরায় নাহিম রাজ্জাক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনটিতে বিগত জোট সরকারের আমলে তেমন কোনো উন্নয়নমূলক কাজ না হলেও আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১০ বছরে ব্যাপক উন্নয়ন হওয়ায় খুশি এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ।
শরীয়তপুর-৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়ার লক্ষ্যে সারা দেশে যে উন্নয়ন হচ্ছে তারই ধারাবাহিকতায় নেত্রীর নির্দেশে আমি আমার নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। আমি ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা ও গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩০ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করেছি। পূর্ব ডামুড্যা, ধানকাঠি ও কোদালপুরে ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছি। একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট করেছি। দুই উপজেলায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের কাজ চলমান রয়েছে। গোসাইরহাটের কুচাই পট্টি ইউনিয়নে সাইক্কা নদীতে জেলার সর্ববৃহৎ আব্দুল রাজ্জাক সেতু নির্মাণ করেছি। ভেদরগঞ্জ পৌসভাকে ‘গ’ শ্রেণি থেকে ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নীত করে প্রশাসনিক ভবন নির্মাণকাজ শুরু করেছি। ডামুড্যা পৌরসভাকে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত করেছি। গোসাইরহাট পৌর এলাকায় কোটি কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। এলাকার উন্নয়নে দিনরাত পরিশ্রম করেছি। আমি এ অঞ্চলের জন্য আগামী ২০ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা করেছি। আমার বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী আবারো আমাকে নৌকার মনোনয়ন দেবেন এবং এলাকার মানুষ অতীতের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ভোটে নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করবে।
এদিকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বাহাদুর বেপারিও এ আসনে মানোনয়ন চাইবেন। ইতোমধ্যে নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন তার সমর্থক ও নেতাকর্মীরা। পোস্টার, লিফলেট, ব্যানার, ফেস্টুনের মাধ্যমে জানান দিচ্ছেন তার উপস্থিতি। এ ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও শরীয়তপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছাবেদুর রহমান খোকা শিকদার মনোনয়ন চাইবেন বলে তার বিশ্বস্ত সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। জেলা আওয়ামী লীগের বারবার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ও শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি অনল কুমার দেও মনোনয়ন প্রত্যাশায় মাঠে নেমেছেন। অনল কুমার দে বিগত ৪৫ বছর ধরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক হিসেবে বিভিন্ন সময়ে দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। সেনা সমর্থিত ১/১১-এর সময়ে সাহসিকতার সঙ্গে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এ নেতা।
এদিকে বিএনপি এখনো নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু করেনি। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি কে এম হেমায়েতউল্লাহ আওরঙ্গজেব সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর আসনটি বিএনপির জন্য অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়ে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি থেকে কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তা নিয়ে রয়েছে নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা গুঞ্জন। তবে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিশিষ্ট শিল্পপতি আহমদ গ্রæপের চেয়ারম্যান সাইদ আহমেদ আসলাম এলাকায় ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড স্থাপনসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে জনসংযোগ করছেন। বিভিন্ন এলাকায় ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প, দান-খয়রাত করে জনগণের দৃষ্টি কাড়ার চেষ্টা করছেন। এ ছাড়া দলের ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী মিয়া নুরুদ্দিন অপু এবং সাবেক সংসদ সদস্য হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গজেবের স্ত্রী এডভোকেট তাহমিনা আওরঙ্গ মনোনয়ন চাইবেন বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদ আহমেদ আসলাম বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে এ নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনকে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছি। নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছি। কোনো মামলা হামলাই আমাকে নির্বাচনী এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মুক্তি ছাড়া আমরা নির্বাচনে যাব না। আমার বিশ্বাস দল নির্বাচনে গেলে আমাকে মনোনয়ন দেবে। আর আমি এ আসনটি খালেদা জিয়াকে উপহার দেব।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট হানিফ মিয়া বলেন, আমরা কোনো জোটে নেই। দীর্ঘদিন ধরে চরমোনাইর পীর সাহেবের নেতৃত্বে হাত পাখা প্রতীকে ব্যাপক জনসংযোগ চলছে। আমরা জনগণের সাড়া পাচ্ছি।
জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, জাতীয় আইজীবী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য ও জেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহসভাপতি এডভোকেট এম এ হান্নান ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে প্রচার-প্রচারণায় রয়েছেন। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, জাতীয় আইজীবী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য ও জেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহসভাপতি এডভোকেট এম এ হান্নান বলেন, আমি ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতি করি। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে সমাজসেবা করে আসছি। আমার বিশ্বাস, জাতীয় পার্টি থেকে আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি বিপুল ভোটে বিজয়ী হব।