নির্বাচন তফসিলকে স্বাগত জানিয়েছে আওয়ামী লীগ

আগের সংবাদ

দেশজুড়ে আ.লীগের আনন্দ মিছিল

পরের সংবাদ

অপহরণ নয়, স্বেচ্ছায় ভারতে নিখোঁজের ৭ মাস পর মনিকার সন্ধান

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ৮, ২০১৮ , ৯:৩৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ৮, ২০১৮, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ

প্রায় ৭ মাস আগে নিখোঁজ হওয়া গানের শিক্ষিকা মনিকা বড়ুয়া রাধাকে কেউ অপহরণ করেননি, তিনি স্বেচ্ছায় ভারতে চলে গিয়েছিলেন। সেখানে ভারতীয় নাগরিক ব্যবসায়ী কমলেশ কুমার মল্লিককে (৩৫) বিয়ে করে নাম বদলে বসবাস শুরু করেছিলেন তিনি। মনিকা বড়ুয়া রাধাকে কৌশলে ভারত থেকে আনার পর প্রকৃত সত্য উদঘাটন হয়।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে মনিকাকে উদ্ধারের পর এক সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম।

এর আগে গত ৩ নভেম্বর কমলেশ ব্যবসার কাজে বাংলাদেশে এলে পরদিন ৪ নভেম্বর ঢাকার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে কমলেশের মাধ্যমে মনিকাকে ভারত থেকে কৌশলে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ৬ নভেম্বর বাংলাদেশে আনা হয়। পরে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মনিকা চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মহিউদ্দিন মুরাদের আদালতে স্বীকারেক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার আমেনা বেগম বলেন, মনিকা বড়ুয়া রাধার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয় ভারতের নাগরিক ব্যবসায়ী কমলেশ কুমার মল্লিকের। পরিচয় প্রেমে রূপ নিলে দুজন বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। এ জন্য গত ১২ এপ্রিল শ্যামলী পরিবহনের গাড়িতে মনিকাকে নিয়ে বেনাপোল সীমান্তে যান কমলেশ। পাসপোর্ট-ভিসা না থাকায় সেখানে অবৈধভাবে মনিকাকে সীমান্তের ওপারে ভারতে নিয়ে যান। কলকাতায় একটি মন্দিরে বিয়ে করেন তারা। পরে সিদ্ধেশ্বরী এলাকার একটি ফ্ল্যাটে সংসার পাতেন। মনিকা নাম বদলে নেন অনামিকা মল্লিক। স্বামীর সূত্রে স্থানীয় আধার কার্ডও পান তিনি। মনিকা কলকাতায় তাদের নিজস্ব ফ্ল্যাট সিদ্ধেশ্বরী অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করছিলেন।

অতিরিক্ত কমিশনার আমেনা বেগম বলেন, মনিকা অপহরণ হয়েছেন অভিযোগ করে তার খোঁজ পেতে যে বোনেরা এতদিন মানববন্ধন করেছেন- তারা সবই জানতেন। ভারত থেকে বোনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন মনিকা। এমনকি বাড়ি ছাড়ার আগে দুই মেয়েকে বলেও যান তিনি। কিন্তু পুরো তদন্তে মনিকার মেয়ে বা বোনরা কেউ পুলিশকে কোনো সহযোগিতা করেননি।

আমেনা বেগম বলেন, মনিকা পুলিশকে জানিয়েছেন, অপহরণ নয়, তিনি স্বেচ্ছায় ভারতে গিয়েছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) মো. কামরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, সাংবাদিক দেবাশীষ বড়ুয়া দেবুর স্ত্রী মনিকা (৪৫) গত ১২ এপ্রিল লালখান বাজারের হাই লেভেল রোডের বাসা থেকে গান শেখানোর জন্য বের হয়ে নিখোঁজ হন। দেবাশীষ গত ১৩ এপ্রিল খুলশী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর ২৮ এপ্রিল অপহরণ মামলা করেন দেবাশীষ। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। মনিকা নগরীর কাতালগঞ্জের লিটল জুয়েলস স্কুলে গান শেখাতেন।