বিদায় নিল মোহামেডান

আগের সংবাদ

তফসিল ঘোষণার তারিখ না পেছানোর দাবি

পরের সংবাদ

আওয়ামী লীগে প্রকট দ্বন্দ্ব, প্রচারণায় নেই বিএনপি

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ৭, ২০১৮ , ১:০১ অপরাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ৭, ২০১৮, ১:০১ অপরাহ্ণ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে বরগুনা-১ (সদর-আমতলী-তালতলী) আসনের রাজনীতির মাঠ। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। এ মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বরগুনা আওয়ামী লীগে সৃষ্টি হয়েছে বিভক্তি। দলীয় সাংসদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে দলের একটি অংশ। তবে প্রচার-প্রচারণায় নেই বিএনপির দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ। বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে রয়েছে নতুন মুখের উপস্থিতি।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় আছেন বর্তমান সংসদ সদস্য এডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভ, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর কবীর, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা যুবলীগের সভাপতি এডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা গোলাম সরোয়ার টুকু, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা মশিউর রহমান শিহাব, বরগুনা পৌরসভার সাবেক মেয়র বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট মো. শাহজাহান এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাম সরোয়ার ফোরকান।
বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য এডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বলেন, জেলা আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে কাজ করেছি দীর্ঘদিন ধরে। ফলে দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। দলে অনেকে মনোনয়ন চান, এটা ভালো লক্ষণ। আওয়ামী লীগ শক্তিশালী দল। এখানে নৌকা মার্কা বিগত বছরগুলোর মতো বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে। আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই চ‚ড়ান্ত।
মো. দেলোয়ার হোসেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি। বিদ্রোহী নেতা হিসেবেই তিনি সবার কাছে পরিচিত। বর্তমান সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর বিপরীতে বিদ্রোহী নেতা হিসেবে ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। সর্বশেষ ২০১৬ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী এই নেতা।
মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় আছেন বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো. জাহাঙ্গীর কবির। দীর্ঘদিন দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে দলকে সংগঠিত করেছেন তিনি। এ ছাড়া বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তিনি। দলের দুর্দিনে সামনের সারিতে থেকে কাজ করে গেছেন জেলা আওয়ামী লীগের অভিজ্ঞ এই নেতা। সর্বশেষ তিনি জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় আছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবলীগের সভাপতি, বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ। অনিয়ম ও দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে বিগত নির্বাচনগুলোতে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করেন সাবেক এ ছাত্রনেতা। বিগত পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলেও মাঝপথে গুরুতর আহত হয়ে নির্বাচন বর্জন করেন। তিনি জানান, বর্তমান সাংসদের সঙ্গে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের কোনো সমন্বয় নেই। দলের এ অবস্থায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি নেতৃত্বের পরিবর্তন।
মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় আছেন বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, বরগুনা সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু। গোটা দক্ষিণাঞ্চলে সুবক্তা হিসেবে তিনি সর্বজনপ্রিয়। টুকু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বরগুনার নেতৃত্বে কোনো পরিবর্তন নেই। তাই তৃণমূল নেতাকর্মীরা এখন পরিবর্তন চায়। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিবর্তনের রাজনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন এবং তরুণদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেবেন এমনটাই প্রত্যাশা করি। মনোনয়ন তালিকায় শক্ত অবস্থানে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাম সরোয়ার ফোরকান।
বিগত নির্বাচনগুলোতে বরগুনা সদরে বিএনপির শক্ত কোনো প্রার্থী না থাকায় ভরাডুবি হয়েছিল দলটির। তবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহশ্রম সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী বিমান শ্রমিক দলের সভাপতি তরুণ নেতা ফিরোজ উজ জামান মামুন মোল্লাকে নিয়ে আশাবাদী জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের একটি বড় অংশ। এ ছাড়া এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় আছেন তৎকালীন বরগুনা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা এডভোকেট আলহাজ অধ্যাপক আবদুল মজিদ মল্লিক, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান তালুকদার, জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি নজরুল ইসলাম মোল্লা, সাবেক সভাপতি মাহবুবুল আলম ফারুক মোল্লা, সাবেক সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সহসভাপতি লে. কর্নেল (অব.) আবদুল খালেক।
এর মধ্যে ১৯৯৬ সালে তৎকালীন বরগুনা-৩ (আমতলী-তালতলী) আসনে নির্বাচিত হন অধ্যাপক আবদুল মজিদ মল্লিক। আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী তিনি। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আর দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি বিজয়ী হব ইনশাল্লাহ। জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মতিয়ার রহমান তালুকদার একসময় জাতীয় পার্টি থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন তৎকালীন বরগুনা-৩ আসনে। ২০০২ সালে উপনির্বাচনে বিএনপি থেকে বিজয়ী হন তিনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনিও মনোনয়ন চাইবেন।
ফিরোজ উজ জামান মামুন মোল্লা মনোনয়ন লাভের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বরগুনায় আওয়ামী লীগের একক নেতৃত্ব থাকায় বরগুনাবাসী এখন পরিবর্তন চায়। যে কোনো সময়ের চেয়ে বরগুনায় বিএনপি এখন শক্তিশালী। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপির জয় অনিবার্য।
এ ছাড়া মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, বিগত যে কোনো সময়ের চেয়ে বরগুনা জেলা বিএনপি এখন শক্তিশালী। আমি জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় আমাকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কাজ করতে বলেছেন। আমি দলীয় প্রধানের নির্দেশ মোতাবেক কাজ করে যাচ্ছি। জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহবুবুল আলম ফারুক মোল্লা বলেন, যারা কখনো কোনো দিন রাজনীতির মাঠে ছিলেন না, জেল-জুলুমের শিকার হননি এ রকম অনেক নেতাকর্মী এখন বিএনপিতে খবরদারি করছেন। দল থেকে তাকে মনোনয়ন দেয়া হলে তিনি জয়লাভ করবেন বলে শতভাগ আশা ব্যক্ত করেন।
বরগুনায় জাতীয় পার্টিকে চাঙ্গা করতে কাজ করে যাচ্ছেন সাবেক জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক শাহজাহান মনসুর। নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি বরগুনায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।