দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে বসছে জাকের পার্টি

আগের সংবাদ

ক্যামেরুনে ৭৮ শিক্ষার্থীকে অপহরণ

পরের সংবাদ

আওয়ামী লীগে প্রার্থীর ছড়াছড়ি, সুবিধাজনক অবস্থানে বিএনপি

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ৬, ২০১৮ , ১২:১৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ৬, ২০১৮, ১২:১৭ অপরাহ্ণ

রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীর বিপরীতে মাঠে আছেন তৃণমূলের ৭ মনোনয়ন প্রত্যাশীর জোট সেভেন স্টার। এমপিবিরোধী এ জোটকে ঠেকাতে তৎপর রয়েছেন এমপির সমর্থকরা। আওয়ামী লীগ ভার্সেস আওয়ামী লীগ দ্ব›দ্ব সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে গেছে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হককে। তবে তাকেও নিজ দলের প্রার্থীর পাশাপাশি জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমানের সঙ্গে মনোনয়ন দৌড়ে নামতে হতে পারে।
এ আসনে ইতোপূর্বে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত এই তিন দল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। চার জাতীয় নেতার অন্যতম শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান এ আসন থেকেই নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রিত্ব পেয়েছিলেন। বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী টানা দুই মেয়াদে এমপি রয়েছেন এ আসনে। এর আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক দীর্ঘদিন সংসদ সদস্য ছিলেন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমানও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে থাকা ব্যারিস্টার আমিনুল হক বিএনপিতে ১/১১-এর ভূমিকায় এবং জামায়াত-বিএনপি তোষণ ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দমনের অভিযোগে ওমর ফারুক চৌধুরী প্রশ্নবিদ্ধ। এ ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের সঙ্গে প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন ওমর ফারুক চৌধুরী। সাংগঠনিক রাজনীতিতে দখল রাখা এই আওয়ামী লীগ নেতার সমর্থন ছাড়া ভোটের মাঠ গোছাতে তাকে ভালো বেগ পেতে হবে।
জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, অন্য সংসদীয় আসনের চেয়ে তুলনামূলকভাবে তিনিই এলাকায় বেশি সময় কাটান। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে আছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তার সময়ে নির্বাচনী এলাকায় প্রচুর উন্নয়ন কাজ হয়েছে। যার সুফল আওয়ামী লীগের ঘরে যাবে। বিগত ১৫ বছরে বিএনপির ব্যারিস্টার আমিনুল হক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হওয়ার সুবাদে যেসব কাজ করেছেন তিনি সাড়ে ৮ বছরে তার চেয়ে অনেক বেশি উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছেন। ইতোমধ্যে তা স্পষ্ট হয়েছে। যে ফসল নৌকা প্রতীকের ঘরে যাবে।
সূত্র মতে, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই ওমর ফারুক চৌধুরীর বিপরীতে মাঠে রয়েছেন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজি মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান। আওয়ামী লীগ প্রীতির কারণে ২০০১ সালে তিনি চাকরিচ্যুত হন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার দল তাকে মনোনয়ন দেবে বলে আশা করছেন মতিউর রহমান। এ ছাড়া নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে মাঠে রয়েছেন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা জাতীয় পরিষদ সদস্য আতাউর রহমান খান, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এডভোকেট মকবুল খান ও রবু মিয়া, তানোর আওয়ামী লীগ সভাপতি মণ্ডমালার পৌর মেয়র গোলাম রাব্বানী, গোদাগাড়ী পৌর মেয়র মনিরুল ইসলাম বাবু ও জেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি এডভোকেট আব্দুল ওয়াহাব জেমস। এই সেভেন স্টারের মধ্যে তানোর আওয়ামী লীগ সভাপতি মণ্ডমালার পৌর মেয়র গোলাম রাব্বানী ও পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজি মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান এখনো মাঠে শক্ত অবস্থানে আছেন।
একসময় আওয়ামী লীগের দখলে থাকা আসনটি বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটিতে পরিণত হয়। জামায়াতেরও ভোটব্যাংক আছে এখানে। আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী এডভোকেট মহসিন ও আলা উদ্দিন বিএনপি প্রার্থীর কাছে পরাজয় বরণ করেন। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় নির্বাচনে ব্যারিস্টার আমিনুল হক টানা তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি অংশ নিতে না পারায় বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তার বড় ভাই সাবেক আইজিপি ড. এনামুল হক নির্বাচনী মাঠে নামেন। সে সময় মহাজোট সরকারের গণজোয়ারের মধ্যেও প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার ভোটারের এই আসনে মাত্র ১৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে বর্তমান সংসদ সদস্য ওমর ফরুক চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন ড. এনামুল।
ব্যারিস্টার আমিনুল হকের পাশাপাশি বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে চেয়ারপারসনের সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা সাবেক সচিব এস এম জহুরুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাবেক যুগ্ম সচিব গোলাম মর্তুজা, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান মার্কনী ও প্রবাসী বিএনপি নেতা অধ্যাপক শাহাদাৎ হোসেন শাহিনের নাম শোনা যাচ্ছে। এদের মধ্যে সাবেক সচিব জহুরুল ইসলাম এবং সাবেক যুগ্ম সচিব গোলাম মর্তুজা ওয়ান ইলেভেনের সময় দলের দুর্দিনে নেতাকর্মীদের দমন-পীড়ন থেকে রক্ষা করেছিলেন। যার কারণে তারা নেত্রীর গুড বুকে আছেন।