তারেকের ফাঁসি চায় আওয়ামী লীগ

আগের সংবাদ

তারেক রহমানের ফাঁসি চান জজ মিয়া

পরের সংবাদ

জজ মিয়া উপাখ্যান

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১১, ২০১৮ , ১২:৫৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ১১, ২০১৮, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ শীর্ষ নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা মামলার শুরুতেই সাজানো তদন্ত করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরিকল্পনা ও জঙ্গি হামলা আড়াল করে ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে নোয়াখালীর সেনবাগ থানার বীরকোট গ্রামের যুবক জজ মিয়াকে আটক করে সাজানো জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। আওয়ামী লীগ শুরু থেকেই ওই ঘটনাকে ‘জজ মিয়া নাটক’ দাবি করে সিআইডির তদন্ত প্রত্যাখ্যান করে। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে ২১ আগস্ট মামলার তদন্তে গতি পায়। ২০০৮ সালে তাকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র জমা দেয় সিআইডি। চার বছর কারাবাসের পর ২০০৯ সালের ২৬ জুলাই জেলহাজত থেকে ছাড়া পান জজ মিয়া। বিনা অপরাধে তার জীবন থেকে হারিয়ে যায় চারটি বছর।
ঘটনার ১০ মাস ১২ দিন পর ২০০৫ সালের ৯ জুন বেলা ১টার দিকে বীরকোট গ্রামে এক চায়ের দোকান থেকে জালাল উদ্দিন আহমেদ ওরফে জজ মিয়াকে আটক করে গ্রাম্য চৌকিদার মোখলেছুর রহমান। এরপর তাকে নেয়া হয় সেনবাগ থানায়। ঢাকা থেকে সিআইডির অনুরোধ পেয়ে সেনবাগ থানার এসআই রফিক জজ মিয়াকে গ্রেপ্তারের জন্য সোর্স নিয়োগ করেন। আটকের পর তাকে ঢাকায় সিআইডি হেফাজতে নেয়া হয়। ১৫ দিন সিআইডি পুলিশের হেফাজতে থাকার পর গ্রেনেড হামলার মামলায় তিনি আদালতে ‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি’ দেন। পরে এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। সিআইডির সাজানো নাটক ফাঁস হলে সর্বত্র তোলপাড় শুরু হয়।
এদিকে জজ মিয়াকে আটকের পর তার মাকে প্রতি মাসে সংসার খরচের জন্য দুই হাজার টাকা করে নিয়মিত প্রদান করা হয়। জজ মিয়াকে আটক করে আনার সময় তার মা জোবেদা খাতুনকে সিআইডির সে সময়ের বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সহকারী পুলিশ সুপার মুন্সি আতিকুর রহমান ও আব্দুর রশীদ বলেন, ‘ধাপনার ছেলেকে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছি। তাকে ভালো চাকরি দেব, আপনারা সুখে থাকবেন।’ অশিক্ষিত জোবেদা খাতুন সুখে থাকার আশ্বাসে সরল বিশ্বাসে তা মেনে নেন। জজ মিয়ার বোন খোরশেদা আক্তার মাসে মাসে টাকা গ্রহণ করতেন। কিন্তু এক পর্যায়ে আসল ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় কর্মকর্তারা টাকা পাঠানো বন্ধ কওে দেন। সেই সময় এ নিয়ে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় উঠে। কারামুক্তির পর বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল দেশটিভির মাইক্রোবাস চালকের চাকরি পান তিনি। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ এলাকায় রেন্ট এ কারে গাড়ি চালান তিনি।
সিআইডি কিভাবে জজ মিয়াকে আবিষ্কার করেছে সে ব্যাপারে স্পষ্ট তথ্য না মিললেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এক সোর্স সিআইডি কর্মকর্তাদের জানায়, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ ও আশপাশ এলাকায় জজ মিয়া নামে একজন হকার প্রায় সময় ঘুরাফেরা করে। তাকে আটক করে হামলার নাটক সাজানো যেতে পারে। এরপরই শুরু হয় জজ মিয়া উপখ্যান। ১৫ দিন হেফাজতে রেখে প্রথমে প্রলোভন, পরে নির্যাতন নিপীড়নÑ এমনকি ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে রাজি করানো হয় গ্রেনেড হামলার দায় স্বীকার করতে।
সেই সময়কার স্মৃতিচারণ করে জজ মিয়া জানান, এক সময় রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় ফলের দোকান চালাতেন জজ মিয়া। থাকতেন একটি মেসে। ঘটনার সময় তিনি ছিলেন গ্রামে। গ্রেনেড হামলার খবর জেনেছেন টেলিভিশন দেখে। তিনি বলেন, আটকের পরা তারা আমাকে সিআইডি অফিসে নিয়ে গ্রেনেড হামলার ফুটেজ দেখিয়েছে। এরপর তাকে আদালতে শেখানো স্বীকারোক্তি দিতে বলা হয়। তখন তাকে নিয়মিত বিরিয়ানি খাওয়ানো হতো। স্বীকারোক্তি না দিলে মামলা দেখিয়ে ক্রসফায়াওে দেয়ার ভয় দেখানো হয়। রাজি না হলে অনেক মানসিক নির্যাতন করে। এরপর তিনি ক্রসফায়ারের ভয়ে স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হন। পরে তাকে মামলার রাজসাক্ষী করা হবে জানিয়ে কয়েকজন সন্ত্রাসীর নাম মুখস্ত করানো হয়। তিন বছর পর নতুন করে তদন্ত শুরু হয় মামলার। উন্মোচিত হয় জজ মিয়া নাটক।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেছেন, একটি বিশেষ মহলকে আড়াল করতেই সাজানো হয়েছিল জজ মিয়া নাটক। এর সঙ্গে তৎকালীন সরকারের মদদ ছিল।
প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে আর্জেস গ্রেনেড হামলায় কেন্দ্রীয় নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাসহ তিন শতাধিক নেতাকর্মী।