গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ

আগের সংবাদ

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

পরের সংবাদ

বিএনপির নতুন ফর্মুলা

এক সঙ্গে আন্দোলন, এক প্রতীকে নির্বাচন ও সরকার

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১১, ২০১৮ , ১:৪৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ১১, ২০১৮, ১:৪৫ অপরাহ্ণ

জাতীয় ঐক্যকে পাকাপোক্ত করতে নতুন ফর্মুলা নিয়ে এগোচ্ছে বিএনপি। এতে সরকারবিরোধী সব রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে এক কাতারে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে দলটি। পাশাপাশি মহাজোট কিংবা ১৪ দলে অবস্থানকারী কয়েকটি দলকেও টার্গেট করেছে দলটি। এর মধ্যে প্রধান টার্গেট এরশাদের জাতীয় পার্টিকে সরকারের কব্জা থেকে বের করে আনার নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে বিএনপি। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, এ বিষয়ে সিঙ্গাপুরে ড. কামাল হোসেন ও এইচ এম এরশাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সূত্রমতে, সিঙ্গাপুরে ড. কামাল ও এরশাদের বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিনিধিও ছিলেন। এ ছাড়া তারেক রহমান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে অংশ নেন। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একাদশ সংসদ নির্বাচনের দাবিতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে মোক্ষম সময়ে যুক্ত হতে একমত হন তিন নেতা। তবে একই প্রতীকে নির্বাচনের বিষয়টি চ‚ড়ান্ত হয়নি।
সূত্র জানায়, এ পরিকল্পনায় ২০ দলীয় জোটের শরিক দল, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ঐক্য প্রক্রিয়া, বি চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট ও এরশাদের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের (ইউএনএ) সব দলকে শতাধিক আসন ছেড়ে দেয়ার আভাস দিয়েছে বিএনপি। এজন্য ইতোমধ্যেই প্রতিটি নিবাচনী এলাকায় কেন্দ্র কমিটি গঠনের কাজ চলছে। এসব কমিটিতে বিএনপির সঙ্গে ২০ দলীয় জোটের নেতাদের পাশাপাশি ঐক্য প্রক্রিয়া, যুক্তফ্রন্ট ও সম্মিলিত জাতীয় জোটের নেতাদের যুক্ত করতে প্রয়োজনীয় পদ খালি রাখার নির্দেশনা যাচ্ছে তৃণমূলে।
বিরোধী জোটের নেতারা মনে করছেন, বর্তমান সরকারের অর্ধীনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলে সরকার একচেটিয়াভাবে নিজেদের প্রার্থীদের বিজয়ী করবে। বিরোধী দলগুলোকে নামেমাত্র কয়েকটি আসনে বিজয়ী করবে। এতে ভোটারের মানসিকতার প্রতিফলন হবে না। কারণ গত ১০ বছরে সরকার নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়েছে। গণতন্ত্র বিপন্ন করে এক দলীয় শাসন কায়েম করেছে। সরকার আবারো বিরোধী দলকে বাইরে রেখে পাতানো নির্বাচনের পথে হাঁটছে, যা গণতন্ত্রকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাবে।
এমন প্রেক্ষাপটে নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আন্দোলনের বিকল্প নেই। আন্দোলনের মাধ্যমেই সুষ্ঠু নির্বাচনসহ ঐক্য প্রক্রিয়ার ৫ দফা ও বিএনপির ৭ দফা বাস্তবায়ন সম্ভব। এজন্য একসঙ্গে আন্দোলন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে সরকারবিরোধী এ জোটের। কিন্তু আন্দোলনের পরে নির্বাচন ও সরকার গঠনের প্রশ্নে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি শীর্ষ নেতারা। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে আন্দোলন সফল হলে একসঙ্গে একই প্রতীকে নির্বাচন করতে চান তারা। দলটির নেতাদের যুক্তি, জনপ্রিয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করলে ঐক্য প্রক্রিয়ার সব প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করা সম্ভব। বিএনপির এ প্রস্তাবে অধিকাংশ দল একমত হলেও কয়েকটি প্রশ্নে আপত্তি থাকায় এখনো তা আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। এক প্রতীকে নির্বাচনের প্রশ্নে বিকল্পধারা এখনো সহমত পোষণ করেনি। অন্যদিকে বিজয়ী হলে ড. কামাল হোসেন ও অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও এরশাদকে কোথায় পদায়ন করা হবে সে জটিলতাও রয়েছে। এ দুটো বিষয়ের সমাধান হলেই ‘একসঙ্গে আন্দোলন, এক প্রতীকে নির্বাচন ও একসঙ্গে সরকার গঠনের’ লক্ষ্যে একসঙ্গে রাজপথে দেখা যাবে বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়াকে।
গত সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত রাজধানীর উত্তরায় আ স ম আবদুর রবের বাসায় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে কর্মসূচির একটি ছকও তৈরি করা হয়। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় আরেকটি বৈঠকে কর্মসূচি চ‚ড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন বলেন, কোনো পরিবর্তন বৈধভাবে আসতে হলে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিকল্প নেই। অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিকে কেন্দ্র করে আমরা জনগণের ঐক্য প্রচেষ্টার কাজে নিয়োজিত। ১৬ কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরিবর্তন আনবে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ শুরু করেছি। আজকে প্রতিটি কর্নার থেকে আওয়াজ আসছে সবাই রুখে দাঁড়ান, ক্ষমতায় বসে থাকা জগদ্দল পাথর সরান। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাব।
ঐক্য প্রক্রিয়ায় লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ঐক্যের ধারবাহিকতায় আগামী দিনে যে কোনো কর্মসূচি আমরা বিএনপির সঙ্গে যুগপৎভাবে একসঙ্গে পালন করব।