প্রীতি জিনতার যৌন হয়রানির মামলা প্রত্যাহার

আগের সংবাদ

তিস্তা পাড়ের বিপন্ন মানুষের কান্না থামাবে কে?

পরের সংবাদ

গ্রেনেড হামলা

রায় কার্যকর করে জাতিকে দায়মুক্ত করতে হবে

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১০, ২০১৮ , ৭:৫১ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ১০, ২০১৮, ৭:৫১ অপরাহ্ণ

 

দেশের ইতিহাসে এত বড় নারকীয় হত্যাযজ্ঞের কুশীলবরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে- এটা হতে পারে না। পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের হাতে সোপর্দ করার উদ্যোগ নেয়া দরকার সরকারের। এর আগে যেমন বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারকাজ সম্পন্ন হয়েছে, তেমনি গ্রেনেড হামলার বিচারও সম্পন্ন হবে, অপরাধীরা শাস্তি পাবে- এ প্রত্যাশা সবার।

আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২১ আগস্ট চালানো গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

এ মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, সাবেক সাংসদ কায়কোবাদসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন দেয়া হয়েছে। এই রায়ে যোগ্য বিচার হয়েছে। দেশে যারাই অপকর্ম করবে তাদের শাস্তি যে হবে এই রায়ের মাধ্যমে তা আবারো প্রমাণিত হয়েছে।

বুধবার দুপুরে বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দীন এ রায় দেন। এর মধ্য দিয়ে ১৪ বছর আগে সংঘটিত নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের বিচার বিচারিক আদালতে শেষ হলো।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে উপর্যুপরি গ্রেনেড হামলায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী ও মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন প্রায় ৪শ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের কালো অধ্যায়ের পর এ ঘটনা জাতীয় রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বর্বরোচিত ঘটনা। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্মূল করার এমন পাশবিক চেষ্টা সমকালীন বিশ্ব রাজনীতিতে বিরল। এটা স্পষ্ট যে, হত্যাকা-ের মূল টার্গেট ছিলেন শেখ হাসিনা।

এর আগে তিনি বহুবার হত্যা টার্গেট হয়েছিলেন। গণতন্ত্রকে রক্ষা, জঙ্গিবাদকে নির্মূল ও অসাম্প্রদয়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বিকল্প নেই ভেবেই হামলাকারীরা তার নেতৃত্বকে ধ্বংস করার জন্য বারবার আঘাত করেছে। ঘৃণ্য ওই গ্রেনেড হামলার পর তৎকালীন সরকার অপরাধীদের রক্ষায় যে তোড়জোড় শুরু করে তা সভ্য সমাজে কল্পনা করাও কঠিন। আক্রান্ত আওয়ামী লীগকেই এ হামলায় জড়িত প্রমাণের চেষ্টা তখনকার তদন্তকে পরিণত করে প্রহসনে। প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দিতে, তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ঘটনার আলামত নষ্টসহ হেন কোনো কাজ নেই যা করেনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। জজ মিয়া নামক এক অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আসামি বানানো ছাড়াও শৈবাল সাহা পার্থসহ ২২ জনকে বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার করে সাজানো স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য নির্যাতন ও হয়রানি করা হয়। এমনকি বিচার বিভাগীয় তদন্তের নামে মনগড়া রিপোর্ট তৈরি করা হয়। ওয়ান-ইলেভেনের পর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সিআইডি প্রকৃত অর্থে তদন্ত শুরু করে এবং ২০০৮ সালে জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু ও তার ভাইসহ ২২ জনকে আসামি করে মামলার অভিযোগপত্র দেয়া হয়। তাতে হামলার জন্য মূলত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশ বা হুজিকে দায়ী করা হয়।

কিন্তু অভিযোগপত্রে গ্রেনেডের উৎস, মদদদাতা ও পরিকল্পনাকারীদের সম্পর্কে অনেক কিছুই অস্পষ্ট থেকে যায়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার এসে এর অধিকতর তদন্ত করে। ২০১১ সালের ৩ জুলাই সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। এরপর দুই অভিযোগপত্রের মোট ৫২ আসামির মধ্যে তারেক রহমানসহ ১৮ জনকে পলাতক দেখিয়ে বিচার শুরু হয়।

২১ আগস্ট হামলা বস্তুতপক্ষে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনীতিকেই ধ্বংস করে দেয়ার অপচেষ্টা ছিল। দেশের ইতিহাসে এত বড় নারকীয় হত্যাযজ্ঞের কুশীলবরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে- এটা হতে পারে না। পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের হাতে সোপর্দ করার উদ্যোগ নেয়া দরকার সরকারের।

এর আগে যেমন বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারকাজ সম্পন্ন হয়েছে, তেমনি গ্রেনেড হামলার বিচারও সম্পন্ন হবে, অপরাধীরা শাস্তি পাবে- এ প্রত্যাশা সবার।