ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি, স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

আগের সংবাদ

রায় প্রত্যাখ্যান : ৭ দিনের কর্মসূচি বিএনপির

পরের সংবাদ

অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শেখ হাসিনা

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১০, ২০১৮ , ৩:১০ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ১০, ২০১৮, ৩:১৩ অপরাহ্ণ

বিগত সংসদ নির্বাচনগুলোর ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বরাবরই গোপালগঞ্জ-৩ আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে আসছেন। আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এ আসনে বিএনপি বা অন্য কোনো দল থেকে যে বা যারা নির্বাচনে অংশ নিয়ে থাকেন তারা শুধু নিয়ম রক্ষার নির্বাচনই করে থাকেন। আর তাই নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়েও দেশের বিভিন্ন স্থানে যেভাবে লবিং হয়ে থাকে এখানে তাও হয় না। এখানকার ভোটাররা দেশের তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী ও এ আসনের এমপি শেখ হাসিনাকে মনেপ্রাণে ভালোবাসেন। তাকে বার বার সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত করেন। এখানকার ভোটাররা তাকে ভোট দিয়ে গর্ববোধ করেন। কেননা, এখানকার ভোটারদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। শেখ হাসিনা নিজেও এ আসনের ভোটারদের নিয়ে গর্ববোধ করেন। এক কথায় এ আসনে অপ্রতিদ্বন্দ্বী শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে খ্যাত জেলা গোপালগঞ্জ। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নিজ জেলা গোপালগঞ্জের পাঁচটি উপজেলা নিয়ে তিনটি নির্বাচনী আসন গঠিত। এর মধ্যে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা এবং কোটালীপাড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত গোপালগঞ্জ-৩ আসন।
আগামী নির্বাচনেও এ আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী শেখ হাসিনা। দলের তৃণমূল পর্যায় থেকে শেখ হাসিনাকে আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে নেতাকর্মী সূত্রে জানা গেছে। এখানে শেখ হাসিনার বিকল্প কোনো প্রার্থী নেই।
দেশ স্বাধীনের পর থেকে যতবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রায় ততবারই গোপালগঞ্জের তিনটি আসন থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। আসনগুলো বরাবরই আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারের হত্যার পর দীর্ঘদিন এ জেলা অবহেলিত ও উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল। এ সময় যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা এ জেলার কোনো উন্নয়ন করেননি। আর এ কারণে এ জেলায় আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দলের ভোটারও বাড়েনি। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে। তবে ২০০১ সাল থেকে ২০০৮ পর্যন্ত আবারো উন্নয়নবঞ্চিত হন এ এলাকার জনগণ। এরপর আবারো আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটে। তাই রাজনৈতিক কারণেই দেশের অন্যান্য আসনের তুলনায় গোপালগঞ্জের আসনগুলো একটু ব্যতিক্রম। কারণ, গোপালগঞ্জ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান। এ এলাকার মানুষ মনেপ্রাণে বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসেন, ভালোবাসেন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকাকে। সে কারণে মানুষ তার দল আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে থাকেন।
এ আসনে অন্য দলের অতীতেও কোনো শক্ত প্রতিদ্ব›দ্বী ছিল না, এখনো নেই। তারপরও বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোট থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি এস এম জিলানী এবং টুঙ্গিপাড়ার শিক্ষক এস এম আফজাল হোসেনের নাম শোনা যাচ্ছে। এ ছাড়া কোটালীপাড়া উপজেলা জাসদের (ইনু) সভাপতি অরুণ চন্দ্র সাহা ও রিয়াজুল ইসলাম তালুকদারও (আম্মিয়া) প্রার্থী হতে পারেন। এর মধ্যে এস এম জিলানী বরাবরই ঢাকায় অবস্থান করেন। মাঝেমধ্যে এলাকায় আসেন। খোঁজ-খবর নেন নেতাকর্মীদের। তবে এ আসনে বিএনপির দলীয় কোনো কার্যক্রম দেখা যায় না। এস এম জিলানী বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে। আর নির্বাচনে এ আসনে দল আমাকে মনোনয়ন দেবে বলে আমি শতভাগ আশাবাদী।
কোটালীপাড়া পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাজি মো. কামাল হোসেন শেখ জানান, কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়ার ভোটারদের প্রাণের মানুষ বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। এখানকার মানুষের ভোটে তিনি ৩ বারের সফল প্রধানমন্ত্রী। তাই নেত্রীর বাইরে এ অঞ্চলের মানুষ ভুল করেও কিছু চিন্তা করে না। তিনি ছাড়া আমাদের অন্য কোনো প্রার্থী নেই বা সম্ভাবনাও নেই। বঙ্গবন্ধু যেমন এ এলাকার মানুষের মনেপ্রাণে ভালোবাসতেন তিনিও একইভাবে আমাদের ভোটারদের ভালোবাসেন। নিয়মিত সবার খোঁজখবর রাখেন। এবারো এ আসনের ভোটাররা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে নেত্রীকে এমপি নির্বাচিত করবেন এবং আগামীতে তারই নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল বশার খায়ের বলেন, শুধু আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনই নয়, শেখ হাসিনা যত দিন বেঁচে থাকবেন তত দিনই বঙ্গবন্ধুর নৌকা নিয়ে তিনি এ আসনে নির্বাচন করবেন। এটা আমাদের নেতাকর্মী ও ভোটারদের প্রাণের দাবি। তা ছাড়া এই আসনের ভোটাররা নৌকা ছাড়া অন্য কিছু চেনেন না। আওয়ামী লীগ সরকার গত ৯ বছর ধরে সারা দেশে যে উন্নয়ন করেছে তাতে প্রধানমন্ত্রীর এই আসনে অন্য কোনো দলের প্রার্থী নির্বাচন করলে তার জামানতই টিকবে না।
গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান বলেন, বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা। তার ডাকে সাড়া দিয়ে মানুষ দেশ স্বাধীন করেছে। তারই কন্যা শেখ হাসিনা টানা ৯ বছর ধরে রাষ্ট্র ক্ষমতায়। গোপালগঞ্জসহ সারা দেশে যে উন্নয়ন তিনি করেছেন তা একটি ইতিহাস। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মহলেও তিনি উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তাই আগামীতেও এ আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে তিনি ৪র্থ বারের মতো রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।