দুর্নীতির বরপুত্র যখন দেশনায়ক!

আগের সংবাদ

নিষেধাজ্ঞা অমান্য ৮ জেলের জেল জরিমানা, কারেন্ট জাল জব্দ

পরের সংবাদ

হেফাজত, কওমি মাদ্রাসা এবং রাজনীতি প্রসঙ্গ

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ৯, ২০১৮ , ৭:৪২ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ৯, ২০১৮, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ

শেখর দত্ত

রাজনীতিক ও কলাম লেখক

কওমি মাদ্রাসায় সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি বাড়ায় এবং হেফাজতের মধ্যে উদার-কট্টর ভাগ হওয়ায় আপাতত ও শেষ বিচারে জাতীয় মূলধারা রাজনীতির লাভ নাকি ক্ষতি হবে, তা কীভাবে সমাজ জীবনকে প্রভাবিত করবে, সমাজকে কোনমুখী করবে, তাতে মুক্তিযুদ্ধের মর্মবাণীর কি অবস্থা হবে প্রভৃতি প্রশ্ন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া ভিন্ন বিকল্প দেখছি না।

বিগত ২ অক্টোবর পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেল কওমি সনদের স্বীকৃতির বিল জাতীয় সংসদে পাস করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ব্যাপক সংবর্ধনা দিবেন শাহ আহমদ শফির নেতৃত্বাধীন কওমি মাদ্রাসার দাওয়ারে হাদিসের সর্বোচ্চ সংস্থা আল হাইআতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। তারিখ সুনির্দিষ্ট না হলেও সংবর্ধনার জন্য ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন এবং আগামী দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা পদ্ধতির মানোন্নয়নের বিষয়েও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সংবর্ধনাসহ পুরো খবরটা খুব একটা আকস্মিক কিংবা অস্বাভাবিক ছিল বলে মনে হলো না। কিছু পেলে এর প্রতিদান দেয়াটা মানব সমাজে দেশ-কাল ভেদে চিরন্তন। কেবল অকৃতজ্ঞ বা কৃতঘ্নরাই এর ব্যতিক্রম। প্রতিদানের সেই কাজটা করারই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশের আলেম সমাজের একাংশ।

প্রসঙ্গত বলতেই হয়, কওমি মাদ্রাসায় ২০১৩ সালে বিভিন্ন শ্রেণিতে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫৫ হাজার আর তা প্রতি বছর ক্রমান্বয়ে বেড়ে ২০১৮ সালে দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে ১ লাখ ২১ হাজার হয়েছে। গ্রামগঞ্জে ঘুরে অভিজ্ঞতায় যা দেখেছি এবং গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য থেকেও জানা যায়, প্রধানত দুটো কারণে কওমি শিক্ষার প্রসার বাড়ছে। প্রথম কারণটি আমাদের দেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মপ্রাণ মানুষের মনস্তত্ত্বের সঙ্গে জড়িত। পিতা-মাতার শেষ ইচ্ছায় কিংবা নিজের ধর্ম বিশ্বাসে বেশি ছেলেমেয়ে থাকলে সাধারণভাবে ধনী-গরিব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে পরিবারগুলো অন্তত এক-দুজনকে মাদ্রাসায় পাঠায়। দ্বিতীয় কারণ হলো, মূলধারার শিক্ষায় ব্যয় বাড়ছে, যার সংকুলান পরিবারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। কওমি মাদ্রাসাগুলোতে কোনো ব্যয়ভার পরিবারকে বহন না করলেও চলে। বর্তমান কালপর্বে যখন মানুষের মধ্যে ধর্ম ক্রমে আরো বেশি স্পর্শকাতর হয়ে উঠছে এবং মানুষ যেভাবে অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য পাওয়ার জন্য ছুটছে, সেখানে এই শিক্ষাব্যবস্থায় যে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা আরো বেশি বেশি করে ভর্তি হবে, তা বোধকরি বলার অপেক্ষা রাখে না। অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ক্রমবর্ধমান এসব মাদ্রাসা এত টাকা পায় কোথা থেকে, বিদেশি সাহায্য পায় কিনা প্রভৃতি নিয়ে সমাজে গভীর সন্দেহ রয়েছে। এ নিয়ে কতটা প্রকৃত অনুসন্ধান বা গবেষণা হয়েছে, তা আমার জানা নেই। তবে ওইসব মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, সমাজের ভেতর থেকেই টাকার জোগান আসে। প্রথম প্রশ্নটি যদি মেনেও নেয়া যায়, তবুও বলতেই হবে যে সামাজিক মনস্তত্ত্বের প্রভাবে ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুদানের ভূমিকা এ ক্ষেত্রে খুব নগণ্য নয়। গ্রামাঞ্চলে এমন হিন্দু পরিবারও আমি দেখেছি, তারা মানত করে মাদ্রাসায়ও অনুদান দেয়। কয়েক মাস আগে নাতির জন্মদিনে নারায়ণগঞ্জের এক মন্দিরভিত্তিক অনাথ আশ্রমে গিয়ে প্রায় ৪ ঘণ্টা থেকেছিলাম। মানুষ সেখানে ভক্তিভরে স্বেচ্ছায় এসে এত অনুদান দিচ্ছে দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়েছিলাম। মসজিদ-মাদ্রাসায় এমন ধরনের অনুদানও নিশ্চয়ই মানুষ করছে।

বলাই বাহুল্য, উল্লিখিত কারণসমূহের জন্য কওমি মাদ্রাসা তুলে দেয়া বা ছাত্রছাত্রী কমানোর মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। এ জন্যই সরকারি স্বীকৃতির আগে কওমি মাদ্রাসাগুলোতে কোনো সরকারি তদারকি নেই, কী শিক্ষা দেয়া হয় প্রভৃতি নিয়ে বেশ সমালোচনা সব সময়ই ছিল। এই সমালোচনা মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী ও জাতীয় চারনীতির সমর্থক দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বেশ বেড়ে গিয়েছিল। আরো লক্ষ করার মতো ব্যাপার হচ্ছে যে, কওমি মাদ্রাসাগুলো কিন্তু এক কেন্দ্র থেকে পরিচালিত হচ্ছে না। তারা বিভক্ত থাকায় ৬টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে আছে। অর্থাৎ সেখানেও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। জাতীয় মূলধারার বাইরে তাদের অবস্থান। কিন্তু এটাই সত্য, একসঙ্গে থাকা-খাওয়া-পড়া এবং বিশ্বাস ও জীবনাচরণ এক রকম হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই কওমি শিক্ষার্থীদের মধ্যে একাত্মতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ বেশি। ধর্মীয় শিক্ষা ও চাকরির সংস্থান তথা পেশাও তাদের একাত্ম করে তোলে। স্বাভাবিকভাবেই বলা যায়, দুয়োরানীর ছেলের মতো নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় এই শক্তি বেড়ে যাচ্ছিল বলেই কিন্তু তদারকি নিয়ন্ত্রণ করা কিংবা মূলধারার সঙ্গে সংযুক্ত না করার জন্য সমালোচনাগুলো ক্রমশই বেশি বেশি করে সামনে আসছিল।

বর্তমানে যখন সরকার কওমি মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি দিয়ে ওই সব তদারকিহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মূলধারায় আনতে প্রয়াসী হয়েছে, তখন শুরু হয়েছে নতুন সমালোচনা। সমাজে সমালোচনা যেন শাখের করাতের মতো, আসতেও কাটে যেতেও কাটে। সরকার ‘ভোটের জন্য এসব করছে’, ‘আত্মসমর্পণ’ করছে, আওয়ামী লীগ ‘মুসলিম লীগ হয়ে গেছে’, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ‘অবশিষ্ট কিছু থাকল না’, ‘এমন বাংলাদেশ চাই নাই’, বিএনপি-জামায়াতের কাজ ‘আওয়ামী লীগ করছে’ প্রভৃতি সমালোচনা এখন সরকারের বিরুদ্ধে উঠছে। যত কিছুই আওয়ামী লীগ সরকার করুক, কওমিরা কেউ ভোট দেবে না বলে প্রচার ক্রমে বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনার কথা জেনে যতটুকু সমালোচনা এখন হচ্ছে, তা সংবর্ধনা হলে আরো বহুগুণ যে বেশি হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমন সমালোচনা জাতি জন্মের উৎসমুখ ও চেতনা এবং বর্তমানে জাতির লক্ষ্য ও গতিমুখ বিবেচনায় একেবারেই অস্বাভাবিক নয়। অনেকেই দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছে এই পুরো ব্যাপারটায় বিশেষত সংবর্ধনার ব্যাপারে কোন ধরনের অবস্থান নেব আমরা! প্রয়োজন বা কৌশল করতে গিয়ে কি জাতীয় মূলধারার নীতি শেষ পর্যন্ত যাবে সর্বনাশের দোরগোড়ায়?

দোলকের মতো এই ইস্যুতে নিজের অবস্থান নিয়ে যখন ভাবছি, তখন বাসায় আমাকে দেখতে এলেন কুষ্টিয়ার নবতিপর শ্রদ্ধেয় ন্যাপনেতা আব্দুল বারী জোয়ার্দার। আমার জন্মের আগে ১৯৪০ সালে কুষ্টিয়ার মোহিনী মিলে বদলি শ্রমিক হিসেবে যোগদান করে প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা রওশন আলীর প্রভাবে জড়িয়ে পড়েন রাজনীতিতে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন চলাকালে ২৪ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ায় তিনিই প্রথম গ্রেপ্তার হন। ঊনসত্তরের ১৯ ফেব্রুয়ারি গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় বন্দুকের দোকান লুট হলে তিনি গ্রেপ্তার হন। ন্যাপনেতা মোজাফফর আহমেদ একুশে পদক প্রত্যাখ্যান করায় তিনি পদকের আবেদনপত্রে অনুরোধ সত্ত্বেও সই করেননি। এখনো আছেন রাজনীতিতে সক্রিয়।

গভীর আবেগে বুকে জড়িয়ে ধরে এবং কুশল সংবাদ জিজ্ঞেস করে বললাম আপনাকে কোনোদিন ভুলবো না বঙ্গবন্ধুর আমলের সেই গল্পের জন্য। গল্পটা না বললে তার সম্পর্কে কিছু বোঝা যাবে না। তিনি ঢাকা এসে রিকশায় উঠেছেন। দেশে তখন দুর্ভিক্ষ চলছে। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে ভারতের দালাল, ধর্ম মানে না প্রচার ওই দিনগুলোতে তুঙ্গে। রিকশাওয়ালা ক্ষোভে ফেটে পড়ে বলল, ‘ব্যাটার (বঙ্গবন্ধু) পা দুটো কেটে দিলে দেশের মঙ্গল হবে।’ সমর্থক বিধায় বুকটা বারী ভাইয়ের ধুক করে উঠল। অনেক কথার পরে রিকশাওয়ালা বললেন, ‘ব্যাটার পা ধরলেই অপরাধী মাফ পেয়ে যায়। পা দুটো কেটে দিলে ওটা কেউ ধরতে পারবে না। বিশ্বাসঘাতক, কম্বলচোর কেউ তখন মাফ পাবে না। তাতে দেশ বাঁচবে।’ বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধায় চোখে ছিল সেই খেটে খাওয়া মানুষটার অশ্রু। বারী ভাইয়ের চোখেও ছিল সেই একই ধারা! আর আমার! গল্পটা শুনে মনে হয়েছিল, যতই বাধাবিপত্তি আসুক, বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে দেশ সমাজতন্ত্রের পথে অগ্রসর হবেই। আমার বাসা খুঁজতে অসুবিধা হওয়ায় বেশ পরিশ্রান্ত ছিলেন তিনি। সোফায় বসেই তুললেন হেফাজত প্রসঙ্গ। এ নিয়ে ভাবছিলাম, তাই কাকতালীয় বিধায় বিস্মিত হলাম।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে বললেন, ‘সমাজের সঙ্গে তো খাপ খাওয়াতে হবে।’ আমি প্রশ্ন করলাম, ‘বইতে কি লেখা আছে?’ তিনি নানা কিছু ভেবে বললেন, ‘উল্টোটা।’ আমি আবার প্রশ্ন করলাম, ‘অভিজ্ঞতা কি বলে?’ তিনি বললেন, ‘পাকিস্তানি আমলে আমরা তো জামায়াত ও নেজামে ইসলামকে সঙ্গে রাখতে ফাতিমা জিন্নাহর নির্বাচনের সময় আইয়ুবের প্রগতিমুখী পারিবারিক আইন বাতিল চেয়েছিলাম। তাতে লাভ হয়েছিল আমাদেরই। আর স্বাধীনতার পর ধর্ম-কর্ম সমাজতন্ত্র তো ছিল ন্যাপের স্লোগান।’ এই পর্যায়ে তিনি নীরব হলে আমি বললাম, হ্যাঁ! পরে কমিউনিস্ট পার্টিও ধর্ম প্রসঙ্গ ইতিবাচক বিবেচনায় রণনীতিতে স্থান দিয়েছিল। আর রাষ্ট্রপতি সেনাশাসক জিয়া সংবিধানের চারনীতি পরিবর্তন করলেও ‘সীমাবদ্ধভাবে দেশপ্রেমিক’ বলে ‘গতিধারা’ সমাজতন্ত্রমুখী করতে কমিউনিস্ট পার্টি তখনকার বাস্তবতা বিবেচনায় ‘হ্যাঁ ভোট’ দিয়েছিল, খালও কেটেছিল। তিনি হাসলেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ জীবন ও সফলতা কামনা করলেন।

ইতোমধ্যে দৈনিকের পত্রিকায় দুটো সংবাদ চোখে পড়ল। প্রথম সংবাদটি হচ্ছে : ‘মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরাই পারে আরব বিশ্বের শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণে নিতে’। এই হেডিংয়ের খবরের মূল কথা হলো, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা স্নাতকোত্তর পর্যায়ের সরকারি স্বীকৃতি পাওয়ায় যদি ‘মানোন্নয়ন হয়’ এবং শিক্ষার্থীরা যদি আরবি ভাষায় ‘সঠিক দক্ষতা অর্জন করে’ তবে আরব বিশ্বের ‘শ্রমবাজার বাংলাদেশের দখলে চলে’ আসবে এবং প্রবাসী শ্রমিকদের ‘আর কম বেতনে চাকরি করতে হবে না’। এখন ‘আরবি ভাষার দক্ষতা’ নিয়ে ‘বিজাতিরা শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণে’ নিয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষার প্রসার ও মানোন্নয়ন হলে দেশে ‘বৈদেশিক আয় বেড়ে যাবে বহুগুণ।’ বলাই বাহুল্য সমাজে এই প্রচারের প্রভাব পড়বে এবং বহু শিক্ষার্থী এখন ওই শিক্ষার দিকে ঝুঁকবে।

দ্বিতীয় খবরটির হেডিং হলো : ‘ ভাঙনের মুখে হেফাজত!’ প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনাকে কেন্দ্র করে হেফাজত কার্যত দুইভাগ হয়ে গেছে। সংগঠনের সিনিয়র নায়েবে আমির আল্লামা মহিবুল্লাহ বাবুনগরী পদত্যাগ করেছেন। ৫০১ জন আলেম বাবুনগরীকে অভিনন্দিত করে বলেছেন, ‘হক্কানি আলেমরা কখনো ধর্মহীনতা ও নাস্তিকতাকে সমর্থন করতে পারে না।… কোনো হাক্কানি আলেম নীতি আদর্শ বিসর্জন দিয়ে বাতিল কুফরি মতামতের সঙ্গে আঁতাত করতে পারে না।… ঐতিহ্য বিলীন করে কারো গোলাম হওয়া যাবে না।’ বলার অপেক্ষা রাখে না উদার-কট্টরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এই সংগঠন। অতীতে ধর্মীয় কোনো সংগঠন, গোষ্ঠী কিংবা গ্রুপ আওয়ামী লীগের কাছাকাছি এলেও এমনভাবে উদার-কট্টরে জড়িয়ে পড়ে ভাঙনের মধ্যে পড়েনি, সংবর্ধনাও দেয়নি। আসলে আমাদের দেশসহ বিশ্বের দেশে দেশে হিসাব মিলছে না। কত ঘটনা যে ঘটে চলেছে। সৌদি আরবে উদারমুখী নানা পরিবর্তন হচ্ছে। বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক ধর্মীয় উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। উদার গণতান্ত্রিক মানবিক আদর্শ আজ হুমকির সম্মুখীন। চীনা সমাজতন্ত্র একদিকে উইঘোর মুসলিমদের নির্যাতন করছে বলে প্রচার হচ্ছে অন্যদিকে ‘ইসলামিক পাকিস্তান’-এর পক্ষে দাঁড়াচ্ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে কওমি মাদ্রাসায় সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি বাড়ায় এবং হেফাজতের মধ্যে উদার-কট্টর ভাগ হওয়ায় আপাতত ও শেষ বিচারে জাতীয় মূলধারা রাজনীতির লাভ নাকি ক্ষতি হবে, তা কীভাবে সমাজ জীবনকে প্রভাবিত করবে, সমাজকে কোনমুখী করবে, তাতে মুক্তিযুদ্ধের মর্মবাণীর কি অবস্থা হবে প্রভৃতি প্রশ্ন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া ভিন্ন বিকল্প দেখছি না।

শেখর দত্ত : রাজনীতিক ও কলাম লেখক।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা