বেনাপোলে স্বর্ণের বারসহ আটক ১

আগের সংবাদ

মুন সিনেমা হলের মালিককে ৯৯ কোটি টাকা পরিশোধ করবে সরকার

পরের সংবাদ

বিএনপির অংশগ্রহণ বিবেচনায়, প্রার্থী মনোনয়ন দেবে আ.লীগ

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ৮, ২০১৮ , ১:১৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ৮, ২০১৮, ৪:২১ অপরাহ্ণ

রাজধানীর উপকণ্ঠ ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনে অনেক আগে থেকেই নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। সংসদের বাইরের বিরোধী দল বিএনপি রাজপথে ও প্রচার-প্রচারণায় না থাকতে পারলেও আওয়ামী লীগের হাফ ডজন সম্ভাব্য প্রার্থীর সময় কাটছে সভা-সমাবেশ ও শোডাউনে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট বা জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নির্বাচনে অংশ নিলে এ আসনে তাদের প্রার্থী অনেকটাই চ‚ড়ান্ত। ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু এ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হবেন এমন খবর নেতাকর্মীদের মুখে মুখে। আর বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে নবম জাতীয় সংসদের সাংসদ তালুকদার মো. তৌহিদ জং মুরাদ এবং বিএনপি অংশ না নিলে বর্তমান সাংসদ ডা. এনামুর রহমানই আওয়ামী লীগের প্রার্থী হচ্ছেন এমন আলোচনা এখানকার নেতাকর্মীদের মুখে মুখে। বিএনপি চায় তাদের দুর্গ পুনরুদ্ধার করতে। আর আওয়ামী লীগ চায় ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে। মূলত লড়াই হবে ধানের শীষ ও নৌকার প্রার্থীর মধ্যে। তবে প্রার্থী বিবেচনায় কমবে ভোটের ব্যবধান। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী জানিয়েছেন, বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। তিনি আগামীতেও মনোনয়ন পাচ্ছেন
এমন প্রচারণা রয়েছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন, জনসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। তার সঙ্গে রয়েছেন সাভার পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম মানিক মোল্লা, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদ চৌধুরী, সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজীব। তবে মনোনয়নের আশায় চেষ্টা-তদবির করছেন সাভার তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল আলম সমর, সাভার উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ফিরোজ কবীর, আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) আবু আহমেদ নাসীম পাভেল, আওয়ামী যুবলীগের আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) ফারুক হাসান তুহিন। তারা সবাই মনোনয়নের ব্যাপারে আশাবাদী। তবে মনোনয়ন না পেলে যিনি প্রার্থী হবেন তারা তার জন্য নৌকায় ভোট চাইবেন এমন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন কর্মী-সমর্থকদের।

অন্যদিকে সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মো. তৌহিদ জং মুরাদ এবার মনোনয়নের ব্যাপারে কেন্দ্র থেকে সবুজ সংকেত পেয়েছেন- এমন খবরে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হাসিনা দৌলা তার সঙ্গে ভিড়েছেন। সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দার আগে থেকেই রয়েছেন মুরাদ জংয়ের সঙ্গে। বিএনপিতে ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু ছাড়াও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) মিজানুর রহমান, সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ ও ঢাকা জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আইয়ুবুর রহমান খান মনোনয়ন প্রত্যাশী। আমিনবাজার ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান, সাভার উপজেলার চেয়ারম্যান (বরাখাস্তকৃত) কফিল উদ্দিন ও তেঁতুলঝোড়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন সরকারও এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে চান।

স্থানীয় ভোটাররা জানান, সাভার ও আশুলিয়ায় এখন স্থানীয়দের সংখ্যা কম। শিল্পনগরী হওয়ায় দেশের প্রায় সবকটি জেলার মানুষের বসবাস রয়েছে এখানে। তারাই মূলত জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে মূল ভ‚মিকা পালন করে আসছেন। এ আসনের মোট ভোটার ৭ লাখ ৪৮ হাজার ৭৩৬ জন। এর মধ্যে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৯০৪ পুরুষ এবং ৩ লাখ ৬১ হাজার ৮৩২ জন নারী ভোটার, যা নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে প্রায় এক লাখ বেশি। দশম জাতীয় সংসদে এ আসনে ডা. এনামুর রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছেন, ডা. এনামুর রহমানের সাংগঠনিক দুর্বলতা মুরাদ জংকে রাজনীতিতে ফেরার পথ করে দিয়েছে। টানা পাঁচ বছর সুযোগ পেয়েও ডা. এনাম সাভারের রাজনীতিতে নিজের কোনো অবস্থান তৈরি করতে পারেননি। উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নিলেও তিনি রয়েছেন নির্বিকার। আওয়ামী লীগ কিংবা কোনো সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীই তার জন্য নিবেদিত নয়। তার নিজস্ব কোনো কর্মী বাহিনী নেই। যে কোনো অনুষ্ঠান বা সভা সমাবেশে যোগ দেন সাধারণ মানুষের মতো করে। অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তিনি কথা রাখেন না এমন অভিযোগ রয়েছে ভুরি ভুরি। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টেও এমন তথ্য উল্লেখ রয়েছে। এমনকি সাংগঠনিক রিপোর্টেও ডা. এনামের জনবান্ধব না হতে পারার খবর রয়েছে। একাধিক সংস্থার গোপন প্রতিবেদনে বিএনপি প্রার্থীকে মোকাবেলায় ডা. এনাম কোনোভাবেই শক্ত প্রতিদ্ব›দ্বী নন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ডা. এনামের বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে সাবেক সাংসদ মুরাদ জংয়ের নাম। যিনি আলোচিত রানা প্লাজা ধসের পর আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়েছিলেন।

অবশ্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যোগাযোগ রয়েছে এমন কয়েকজন নেতা বলেছেন, দলের অনেক সিনিয়র নেতা মুরাদ জংয়ের ব্যাপারে নাখোশ। সংসদ সদস্য থাকাকালীন তার কর্মকাণ্ড অনেকেই বিরক্ত। কিন্তু সাভার আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং বর্তমান সাংসদ জনবান্ধব নন এমন বার্তা বিভিন্নভাবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছেছে। সাংগঠনিক ও একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি একাধিক সংস্থার জরিপ রিপোর্টের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের গবেষণা সেল সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)-এর খোঁজখবরে ডা. এনামের পেরে না ওঠার কারণ রয়েছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে আওয়ামী লীগের একাধিক মহল থেকে ডা. এনামকে ‘নৌকার জন্য ভোট চাইতে’ বলা হয়েছে বলে প্রচার পেয়েছে। তবে বর্তমান সাংসদদের সবাইকেই নৌকার জন্য প্রচার-প্রচারণা বাড়াতে বলা হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও আগামী সংসদ নির্বাচনে বর্তমান মন্ত্রিসভার অনেকের পাশাপশি সাংসদদের অনেকেই মনোনয়ন পাবেন না বলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

এ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে বাহাদুর ইসলাম ইমতিয়াজ ও আবুল কালাম আজাদ আলোচনায় থাকলেও তাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড রয়েছে স্থবিরতা। এ ছাড়া ইসলামী ঐক্যজোট এ আসনে প্রার্থী দিতে পারে বলে জানা গেছে।

সংশোধনী : ভোরের কাগজের শেষ পৃষ্ঠায় গতকাল রবিবার প্রকাশিত বাগেরহাট-৪ সংসদীয় আসনের নির্বাচনী প্রতিবেদনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ছবির ক্যাপশন ভুল হয়েছে। উপরের লাইনের তৃতীয় ছবি খায়রুজ্জামান শিপন, নিচের লাইনের প্রথম ছবি বদিউজ্জামান সোহাগ ও দ্বিতীয় ছবি মিজানুর রহমান জনির। অনিচ্ছাকৃত এ ভুলের জন্য আমরা দুঃখিত। বিস।