ইন্টারনেট ব্যবহারে এশিয়ায় পঞ্চম বাংলাদেশ

আগের সংবাদ

কোটা বহাল রাখার দাবিতে বগুড়ায় রেলপথ অবরোধ

পরের সংবাদ

ক্যান্সার : ঝুঁকি বাড়ছে নারীর

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ৮, ২০১৮ , ৩:৫৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ৮, ২০১৮, ৩:৫৬ অপরাহ্ণ

দেশে ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলছে। নারী ও পুরুষের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার হার কাছাকাছি হলেও সচেতনতার দিক থেকে নারীরা অনেক পিছিয়ে আছেন। নারীদের মধ্যে যেসব ক্যান্সারের মূলত বেশি প্রকোপ দেখা যায় সেগুলো হলো স্তন ক্যান্সার ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার।
পরিসংখ্যান বলছে, দেশের ৫ কোটি ৮৭ লাখ নারী কোনো না কোনোভাবে ক্যান্সার ঝুঁকিতে রয়েছেন। শুধুমাত্র সারভাইক্যাল ক্যান্সারে প্রতি বছর ১২ হাজার নারী আক্রান্ত হন এবং এদের মধ্যে ৬ হাজার নারীর মৃত্যু ঘটে। দেশে নারীদের ১৬ দশমিক ৯০ শতাংশ স্তন ক্যান্সার, ১৫ দশমিক ৬০ শতাংশ জরায়ু ও জরায়ুমুখ এবং ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ খাদ্যনালী ও পাকস্থলির ক্যান্সারে আক্রান্ত।
নারীরা লজ্জা পেয়ে বা অবহেলা করে এসব ক্যান্সার পরীক্ষা করাতে চান না। এতে করে অনেক ক্যান্সার রোগী সময়ের অনেক পরে গিয়ে জানতে পারেন তার ক্যান্সার আছে কিন্তু ততদিনে অনেক দেরি হয়ে যায়।
আনোয়ার খান মাডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবস এন্ড গাইনি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শারমিন আব্বাসী বলেন, দেশে নারীদের মধ্যে ক্যান্সারের প্রবণতা অনেক বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে। দেশের প্রায় ৫ কোটি ৮৭ লাখ নারী কোনো না কোনোভাবে ক্যান্সর ঝুঁকিতে রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে বেশরভাগই চিকিৎসা নিতে আসেন অ্যাডভান্স স্টেজে। ফলে চিকিৎসায় তাদের সুস্থ করা সম্ভব হয় না। তাছাড়া ব্রেস্ট ক্যান্স একটি ব্যথাহীন রোগ। তাই রোগীরা এটাকে গুরুত্ব দেয় না। তিনি এ দুটি ক্যান্সার প্রতিরোধে স্বামী-স্ত্রী উভয়কে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন। স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ দিন ধরে জন্ম বিরতিকরণ পিল গ্রহণ নারীর জরায়ু মুখের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। তারা বলছেন, দশ বছর ধরে যেসব নারী জন্ম বিরতিকরণ পিল গ্রহণ করছেন তারা এই ক্যান্সারের ঝুঁকিতে রয়েছে। অথচ এ ক্ষেত্রে যদি কিছুটা পরিবর্তন আনা যায় তাহলে ঝুঁকির মাত্রা কমে। দশ বছরের মধ্যে পাঁচ বছর পিল এবং পাঁচ বছর কনডম ব্যবহার হলে এই ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে ৫০ শতাংশ। জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি হিসেবে যদি কনডম ব্যবহার করা হয় এ ক্ষেত্রে নারীর জরায়ু মুখের ক্যান্সারে আক্রান্তের ঝুঁকি কমে ৯৮ শতাংশ।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটালের সহযোগী অধ্যাপক হাবিবুল্লহ তালুকদার রাসকিন জানান, বাংলাদেশে বছরে ১৭ হাজার ৭৬৪ জন নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। তিনি বলেন, স্তন ক্যান্সার শুধু নারীদের নয় পুরুষদেরও হতে পারে। তবে পুরুষদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা খুবই কম। নারীদের তুলনায় পুরুষদের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা একশ ভাগের এক ভাগ।
তিনি জানান, বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ালে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে। মেয়েদের পিরিয়ড দ্রæত শুরু হলে এবং বেশি বয়স পর্যন্ত চললে স্তন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। ক্যান্সারের চিকিৎসা খুবই ব্যয়বহুল এবং প্রতি বছর অনেক নারী এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃতুবরণ করছে তবে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করলে ক্যান্সারের প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়। সুস্থ থাকা যায়।