ভারতের ‘দাম্ভিক’ প্রতিক্রিয়ায় হতাশ ইমরান খান

আগের সংবাদ

ইরানে ২৪ সেনাকে হত্যার দায় নিল আইএস

পরের সংবাদ

বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে সব সুযোগ থাকলে মন্ত্রীরা বাইরে যান কেন: রিজভী

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৮ , ৯:২৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৮, ৯:২৬ অপরাহ্ণ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য যা প্রয়োজন তা বিএসএমএমইউতে নেই। এখানে সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ নেই। সুযোগ থাকলে রাষ্ট্রপতি-মন্ত্রীরা, নেতারা কেন বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করান? খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতির দিকে ঠেলে দিতেই সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করছে না সরকার। তার সুচিকিৎসার দাবি জানানো সত্ত্বেও আরো জুলুম করবে বলেই তার চিকিৎসার করা হচ্ছে না। শুক্রবার কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার স্বজনরা দেখা করেছেন। তিনি গুরুতর অসুস্থ। তার হাত, পায়ের ব্যথা আরও তীব্র হয়েছে।

শনিবার নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের ট্রেনপথের নির্বাচনী প্রচারণা যেমন ব্যর্থ হয়েছে তেমনি সড়ক পথের নির্বাচনী প্রচারণাও ব্যর্থ হবে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া যেভাবে নির্বাচনের কথা ভাবছে তাও ব্যর্থ হবে।

সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা তার প্রকাশিত বইয়ে সত্য কথা লেখাতে সরকারের অন্তর্জ্বালা হচ্ছে বলে দাবি করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, এস কে সিনহা দেশে বসেই সৎ সাহসের সঙ্গে কাজ করছিলেন। কিন্তু তার কাছে তো বন্দুক নেই। রাষ্ট্রের বন্দুকধারীরা তার দিকে বন্দুক তাক করে দেশের বাহিরে যেতে বাধ্য করে। আওয়ামী লীগ সরকারের লোকেরা একজন নিরস্ত্র প্রধান বিচারপতিকে সন্ত্রাসীদের কায়দায় বন্দুকের নলের মুখে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়। এটা কোনও বীরের কাজ নয়, এটি কাপুরুষের কাজ।

তিনি বলেন, সভ্য গণতান্ত্রিক দেশে বিচার বিভাগ একটি স্বাধীন সংস্থা। অথচ বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রী-উপদেষ্টারা কথা বলার নামে এমন আচরণ করেছেন যেন তারা প্রধান বিচারপতিকে রিমান্ডে নিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব তাকে বঙ্গভবনে ডেকে নিয়ে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সামনে যেভাবে প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীরা ধমকাধমকি করেছেন তা সন্ত্রাসী আক্রমণেরই সমতূল্য।

তিনি বলেন, এই সরকার যদি দেশের প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগে ও নির্বাসনে যেতে বাধ্য করতে পারে, তাহলে প্রশাসন, আইন আদালতকে বাধ্য করে বিচারকের কাছ থেকে মামলা ফেরত এনে সম্পূরক চার্জশিটে তারেক রহমানের নাম জড়ানো তো কঠিন কাজ নয়। এই সরকার যেকোনও কাজই করতে পারে। আজ জনগণের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ২১ আগস্টের বোমা হামলার আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে। ১/১১ এর সরকার বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম তদন্ত করে পেলো না। তদন্তকারী কর্মকর্তারা কোথাও সন্দেহবশতঃ তারেক রহমানসহ সরকারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের নাম উল্লেখ করেনি, অথচ আওয়ামী লীগ ২০০৯ এ ক্ষমতায় এসে নজীরবিহীনভাবে পছন্দের তদন্তকারী কর্মকর্তা কাহার আকন্দকে অবসর থেকে ডেকে এনে ২১ আগস্ট বোমা হামলা মামলার পুনঃতদন্তের ভার দেয়। সে বিচারকদের কাছ থেকে মামলাটি ফেরত এনে পুনঃতদন্তের নামে তারেক রহমানকে মামলায় জড়িয়ে ষড়যন্ত্রের যাত্রা শুরু করে।

নেতাকর্মীদের অব্যাহত গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে রিজভী বলেন, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিন আহমেদকে পুলিশ শুক্রবার গ্রেফতার করে। নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রনিকে নতুন করে আরও একটি অস্ত্র মামলায় ৩ দিনের রিমান্ড দেয়। আমি দলের পক্ষ থেকে শাহিন আহমেদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি। মশিউর রহমান রনি’র রিমান্ড বাতিল ও বানোয়াট মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।