‘কারও চাপে নতি স্বীকার করব না’: ওবায়দুল কাদের

আগের সংবাদ

‘প্রেম আমার ২’র শুটিং নিয়ে সিলেটে পূজা

পরের সংবাদ

ধরে রাখতে তৎপর আ.লীগ বিএনপির আশা পুনরুদ্ধার

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮ , ৫:১১ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮, ৫:১১ অপরাহ্ণ

আর মাত্র কয়েক মাস পরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনটি ধরে রাখতে তৎপর রয়েছে আওয়ামী লীগ। আর হারানো আসনটি পুনরুদ্ধার করতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বিএনপি। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা পুরোদমে এলাকায় গণসংযোগ করছেন। তারা নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিতে পোস্টার ও ফেস্টুন টানিয়ে এলাকাবাসীকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। এ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি, জাতীয় পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, বাসদ ও মুসলিম লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠে তৎপর রয়েছেন। এ আসনে ১৯৭৩ সালের পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মো. আফজাল হোসেন নির্বাচিত হয়ে সারা দেশে আলোচিত হয়েছিলেন। তিনি আগামী নির্বাচনে আবারো দলীয় মনোনয়ন নিয়ে পুনরায় জয়ী হতে এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। অন্যদিকে বিএনপিও হারানো আসনটি পুনরুদ্ধার করতে বেশ তৎপর রয়েছে। তবে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
এ আসনে ২০০৮ ও ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন গত পৌনে ১০ বছরে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তিনি ঘন ঘন এলাকায় এসে দলীয় কর্মকাÐ ও সরকারের উন্নয়ন কর্মকাÐে অংশ নিচ্ছেন। দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ
জনগণের সঙ্গে মিশে কাজ করছেন। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন ছাড়াও আরো কয়েকজন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে সরব রয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন- বাজিতপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলাউল হক, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও বাজিতপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এডভোকেট নুরুন্নবী বাদল, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকন, জেলা কৃষকলীগের সহসভাপতি ফারুক আহমেদ।
আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে বর্তমান সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন জানান, তিনি স্বচ্ছতার সঙ্গে রাজনীতি করে যাচ্ছেন। এলাকার রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের আপদে-বিপদে তিনি সব সময়ই পাশে থাকছেন। আগামী নির্বাচনে আবারো মনোনয়ন পাওয়ার আশাবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, দল মনোনয়ন দিলে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন। আওয়ামী লীগের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী বাজিতপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এডভোকেট নুরুন্নবী বাদল সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরছেন। তিনি মাঠে বেশ সক্রিয় রয়েছেন। তিনি জানান, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন। দলের জন্য তিনি নিবেদিতভাবে কাজ করছেন। দল তা মূল্যায়ন করলে তিনি মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী বলে জানান। ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয়কর খোকনও মাঠে বেশ সক্রিয় রয়েছেন।
অন্যদিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির বেশ কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে সরব রয়েছেন। তারা দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচনে যাওয়ার কথা জানান। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেনÑ জেলা বিএনপির সহসভাপতি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, জেলা বিএনপির সহসভাপতি সালেহুজ্জামানু খান রুনু, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি আমির উদ্দিন আহমেদের ছেলে এডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু, নিকলী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি হাজী মো. মাসুক মিয়া, সাবেক এমপি মজিবুর রহমান মঞ্জুর ছেলে বাজিতপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাহমুদুর রহমান উজ্জ্বল মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।
বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল মাঝে মাঝে এলাকায় এসে দলীয় কর্মকাÐ ও এলাকার দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাচ্ছেন। শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল জানান, ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন। পরে নেত্রীর কথায় প্রয়াত সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান মঞ্জুকে সমর্থন করে তিনি সরে দাঁড়িয়েছিলেন। এবার তিনি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। বিএনপির আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী নিকলী-বাজিতপুর আসনে তিন তিনবারের বিএনপিদলীয় সাবেক এমপি প্রয়াত আমির উদ্দিন আহমেদের ছেলে, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু এলাকাবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু জানান, তিনি মাঠে কাজ করছেন। আগামী নির্বাচনে দল ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন করলে তিনি মনোনয়ন পাবেন বলে জানান। মনোনয়ন প্রত্যাশী নিকলী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শিল্পপতি হাজি মাসুক মিয়া এলাকায় এসে বিএনপি ও সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। হাজি মাসুক মিয়া জানান, তিনি তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে কাজ করছেন। দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের আপদে বিপদে পাশে থাকছেন। আগামী নির্বাচনে দল মনোনয়ন দিলে আসনটি উদ্ধার করতে পারবেন বলে জানান।
এ আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ছাড়াও জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, বাসদ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠে বেশ সরব রয়েছেন।
জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে রয়েছেন নিকলী উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও জেলা কমিটির সদস্য এডভোকেট মাহবুবুল হক। তিনি জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন। দল মনোনয়ন দিলে তিনি নির্বাচন করবেন বলে জানান। অপরদিকে ২০ দলীয় জোটের শরিক দল জামায়াতের জেলা কমিটির আমির অধ্যক্ষ রমজান আলী এ আসনে মনোনয়ন চাইবেন। তিনি এলাকাবাসীকে গণমাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। কমিউনিস্ট পার্টি থেকে কিশোরগঞ্জ পৌর মহিলা কলেজের শিক্ষক ফরিদ আহমেদ মনোনয়ন চাইবেন। দল মনোনয়ন দিলে তিনি নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন। এ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি এএইচএম কামরুজ্জামান খান খসরু মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। তিনি পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্তানের সাবেক গভর্নর মোনায়েম খানের ছেলে।
এ আসনে ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪১ হাজার ৩৪৪ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩০৫ জন বলে জেলা নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে।